img

সিলেটে চেক ডিজঅনার মামলায় নারী কারাগারে

প্রকাশিত :  ০৫:৩৩, ০২ নভেম্বর ২০২৬

 সিলেটে চেক ডিজঅনার মামলায় নারী কারাগারে

সিলেটে চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত মোছা. ফাতেমা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি নগরের ধোপাদিঘীর পূর্বপাড়ের সি ব্লকের বাসিন্দা মো. শামীম খাঁনের মেয়ে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফাতেমা বেগমের নিকটাত্মীয় শাহপরান থানার খাদিমনগর টিকরপাড়া এলাকার শফিক মিয়ার মেয়ে স্বপ্না খাতুনের কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরে টাকা পরিশোধের তাগাদা দিলে ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বপ্নাকে উত্তরা ব্যাংক সিলেট শাখার তার হিসাব নম্বরের ৪ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। ওই বছরের ৬ জুন তিনি এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক বটেশ্বর শাখায় চেকটি জমা দিলে তা ডিজঅনার হয়।

এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে ফাতেমাকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। পরে ৩০ দিনের মধ্যে তার পাওনা পরিশোধের জন্য ১১ জুন স্বপ্না লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এতেও কাজ না হওয়ায় তিনি ওই বছরের ১৮ জুলাই অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের (নং শাহপরান সিআর মামলা নং ২৮৫/২৪) করেন।

গত ৭ অক্টোবর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্র্যাট ফারহানা সুলতানা।

রায়ে ফাতেমাক ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে কোতোয়ালী মডেল থানাপুলিশ শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ও আদালতে সোপর্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকের। আর কারাগরে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিরোধের জেরে হামলায় যুবক নিহত

প্রকাশিত :  ০৭:০৬, ০২ নভেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিম গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বড়গাছ গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রাতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।

নিহত জাহাঙ্গীর আলম বড়গাছ গ্রামের উম্মর মিয়ার ছেলে। তিনি ১৪ মাস বয়সী এক সন্তানের জনক। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ময়নুল হক (২৮) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামপাশা গ্রামের লন্ডনপ্রবাসী দুলা মাস্টারের ছেলে রিপন আহমেদের জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে মধ্যস্থতাকারী জাহাঙ্গীরের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে মাহমুদ মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (৩০) ও ময়নুল হকের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই সাহেল জমি কেনার জন্য দুইজন ক্রেতাকে নিয়ে আসেন। এ সময় জমি নিয়ে আলোচনার জন্য জাহাঙ্গীরের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমকে ডেকে আনা হয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন জমি বিক্রিতে বাধা দেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে জসিমের মাথায় আঘাত করা হয় এবং দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে জাহাঙ্গীর মারা যান। এ ছাড়া স্থানীয় মাদরাসার একটি বিষয় নিয়েও কিছুদিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সরজমিনে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। নিহতের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় জাহাঙ্গীরের চাচা সুন্দর আলী অভিযোগ করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হামলার জন্য দা ও লাঠি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। মামুন, মাহমুদ ও ময়নুল—এই তিন ভাই তাঁদের ভাগনে সামি ও ভগ্নীপতি খয়েরকে নিয়ে জাহাঙ্গীর ও তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলেও দাবি করেন সুন্দর আলী।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় ময়নুল হক নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর