img

মক্কায় ২ বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: তিন সপ্তাহেও সৌদির জবাব পায়নি ঢাকা

প্রকাশিত :  ১৫:৩৭, ০২ নভেম্বর ২০২৬

মক্কায় ২ বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: তিন সপ্তাহেও সৌদির জবাব পায়নি ঢাকা

বাংলাদেশ সরকার মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি আরবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। তবে চিঠি দেওয়ার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো জবাব পায়নি ঢাকা। বিষয়টি নিয়ে সৌদি সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সৌদি সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় আছেন তারা। সৌদি আরবের সাথে আমাদের মিশন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। আমরা আশা করি যে, শিগগিরই আমরা ওখান থেকে কোনো তথ্য জানতে পারব।

এখন পর্যন্ত সৌদি সরকারের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া গেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না, কাজ চলছে। কাজ চলছে, সময় লাগবে, সময় লাগছে। তো আমরা আশা করছি যে, সৌদি সরকারের কাছ থেকে আমরা দ্রুত কিছু খবর পাব।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা।

সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে গত ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি আরবের পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তথ্য ও বিস্তারিত জানতে চায়।

জেদ্দার পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠানোর তিন দিন পর ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এ সময় একই চিঠি পুনরায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার পর্যন্ত সেসব চিঠির কোনো প্রতিউত্তর না আসার কথা সোমবার সাংবাদিকদের বলেছেন প্রতিমন্ত্রী শামা।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

খুলনায় দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৫:৩৯, ০২ নভেম্বর ২০২৬

খুলনার রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদী থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপসা সরকারি কলেজের বিপরীতে সিংহের চর এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, দুজনকে গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

নিহত দুজন হলেন- মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫) ও রেজাউল করিম ওরফে আলামিন (৩০)। পুলিশের ভাষ্য, তারা খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বি কোম্পানির সদস্য ছিলেন। সোহাগের চোখের পাশে এবং আলামিনের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

সোহাগের বাড়ি রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আব্দুল্লাহ। স্থানীয়রা জানান, আব্দুল্লাহ একসময় জেলখানা ঘাটে মাঝি হিসেবে কাজ করতেন। পরে সোহাগ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বি কোম্পানির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আলামিনের বাবার নাম ও বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে নদীর সিংহের চর এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন তারা। পরে ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই জায়গায় পাশাপাশি দুটি মরদেহ দেখতে পান। তাদের একজনের পরনে শার্ট ও জিনসের প্যান্ট, অন্যজনের পরনে টি-শার্ট ও জিনসের প্যান্ট ছিল। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। আশপাশের গ্রামে খোঁজ নিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্ত করেন স্থানীয় লোকজন।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, দুটি লাশের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। গুলি করে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড দুটি ঘটেছে। সোহাগ ও আলামিন বি কোম্পানির সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরের লবণচরা থানার কাশেমিয়া জামে মসজিদ সড়কে শহীদুল ইসলাম কলিন (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় নগরের রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে সৈয়দ হুমায়ুন কবির নামের এক তাতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সিদ্দিক শেখ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে সোমবার নদী থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় ৭৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।