img

চুক্তিতে না পৌঁছালে ফের যুদ্ধ, ইরানকে হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত :  ১৫:২৫, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:১৫, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

চুক্তিতে না পৌঁছালে ফের যুদ্ধ, ইরানকে হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত আছে। হেগসেথ বলেছেন, ইরানের এখন আর কোনও নৌবাহিনী নেই। যে কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন নৌবাহিনী।

ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিট হেগসেথ বলেন, যতদিন প্রয়োজন, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ ততদিন জারি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তিনি বেঁচে আছেন।

যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। সেই সময় তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তিনি সেরে উঠছেন।

তেহরানকে চুক্তি স্বাক্ষরে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে প্রবেশকারী কিংবা সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব ধরনের জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করছে

পিট হেগসেথ বলেন, ইরান, তোমরা একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও সোনালি সেতুবন্ধন বেছে নিতে পারো এবং আমরা আশা করি তোমরা ইরানের জনগণের স্বার্থে সেটিই করবে। তিনি বলেন, কিন্তু ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তাহলে তাদের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতর বোমা হামলার মুখোমুখি হবে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তেহরান যদি অবাধ্যতা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করা হবে।

ইরানের ক্ষমতাসীন নেতাদের উদ্দেশ্যে হেগসেথ বলেন, এটি কোনও সমান শক্তির লড়াই নয়। আপনারা কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরাচ্ছেন এবং কোথায় সরাচ্ছেন, তা আমাদের জানা আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনী যেকোনও মুহূর্তে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ইরানের পতাকাবাহী যেকোনও জাহাজ অথবা ইরানকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন যেকোনও জাহাজকে ধাওয়া করবে।

অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী সব জাহাজকে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করা হবে যে, যদি আপনারা এই অবরোধ না মানেন, তাহলে আমরা শক্তি প্রয়োগ করব। তিনি বলেন,  ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা—উভয় ক্ষেত্রেই এই অবরোধ কার্যকর করা হবে।

কেইন বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ১৩টি জাহাজ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা না করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও জাহাজে জোরপূর্বক তল্লাশি চালানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

আলোচনায় বসা ছাড়া ‘বিকল্প নেই’ ইরানের : ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৯:৩৮, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানো ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন দেশটির  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একটি ‌‌চমৎকার চুক্তি করতে সক্ষম হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা ভালো মানুষদের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে না। তবে তা সফলভাবেই করছে। এ সময় তিনি ইরানের সব বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধকে বিশাল সাফল্য বলেও অভিহিত করেন।

আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি সেটা করতে চাই না।

পরবর্তীতে ট্রাম্প বলেন, আমি বোমা হামলারই প্রত্যাশা করছি। কারণ সেটিই হবে আরও ভালো অবস্থান।

তিনি বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য হাতে খুব বেশি সময় নেই। তবে ইরানের জন্য আশার বাণী শুনিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে আসতে পারলে ইরান নিজেদের খুব ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে।

ইসলামাবাদের পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য এখনও অপেক্ষায় রয়েছে পাকিস্তান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা নিয়ে দোলাচলের মাঝে মঙ্গলবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, পাকিস্তান এখনও কূটনীতি ও সংলাপের পথ অনুসরণ করছে। তবে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সিদ্ধান্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ খুব শিগগিরই শেষ হতে চলেছে।

সূত্র: ডন