img

সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে বাস ভাড়া ৭০০ টাকা

প্রকাশিত :  ১৮:২৬, ০৭ আগষ্ট ২০২২

 সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে বাস ভাড়া ৭০০ টাকা

সিলেট-ঢাকা রোডে বাস ভাড়া প্রায় ১৩০ টাকা বেড়ে গেছে। আগে সিলেট থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করা দূরপাল্লার বাস জনপ্রতি ৫৭০ টাকায় চলাচল করত।

তবে গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গতকাল শনিবার বিকেলে বাস মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দূরপাল্লার বাসের (৫২ সিটের) ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

সড়ক পথে সিলেট থেকে ঢাকার দূরত্ব ধরা হয় ২৪৪ কিলোমিটার। আগে এই দূরত্বের বাসভাড়া নেওয়া হতো ৫৭০ টাকা (৪০ আসনের বাস)। এখন বর্ধিত ভাড়ায় বিভিন্ন পরিবহনগুলোয় ৬৮০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া রাখা হচ্ছে।

সিলেটের পরিবহনশ্রমিক ও নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকায় যাতায়াত করা বাসের আসনসংখ্যা থাকে ৩৬ থেকে ৪০। ভাড়া নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত যে ভাড়ার হিসাব দেওয়া হয়েছে, সেটি ৫২ আসনের বাসের। দূরপাল্লার বাসে ৫২ আসন না থাকায় ৪০ আসনের বাসের হিসাব ধরলে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া হয় ২ টাকা ৮৬ পয়সা। সে হিসাবে ভাড়া হয় প্রায় ৬৯৮ টাকা।

এদিকে সিলেট থেকে ঢাকায় যাতায়াত করা বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে সরেজমিনে দেখা যায়, একেকটি পরিবহনে একেক ধরনের ভাড়া রাখা হচ্ছে। কিছু পরিবহনের বাস ৬৮০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে যাত্রী পরিবহন করছে। আবার কিছু পরিবহন ৭০০ টাকায় যাত্রী নিচ্ছে। তবে বিরতি দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন পরিবহনগুলোয় ভাড়া আরও কম রাখা হচ্ছে। সেগুলোতে ভাড়া রাখা হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। আগে এসব পরিবহন ৪৫০ টাকায় যাত্রী পরিবহন করত।

রোববার সকাল ১০টায় কদমতলী এলাকার হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা শিপন আহমদ বলেন, ‘আগে আমাদের জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৫৭০ টাকা। এখন আমরা ৭০০ টাকা যাত্রী নিচ্ছি। এখনো আমাদের কাছে ভাড়ার কোনো তালিকা আসেনি। আশা করছি, বিকেলের দিকে তালিকা চলে আসবে।’

টিকিট কাউন্টারে সালমান মিয়া ও সাদিকুর রহমান নামের দুই বন্ধু ঢাকায় যাওয়ার জন্য টিকিট কাটছিলেন। ঢাকায় চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দিতে যাচ্ছেন তাঁরা। তাঁরা বলেন, হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। একলাফে জনপ্রতি ১০০ টাকার বেশি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

হুমায়ুন রশীদ চত্বরে এনা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে থাকা বিক্রেতা সামু আহমেদ বলেন, আগে ৫৭০ টাকায় যাত্রী পরিবহন করা হলেও নতুন বর্ধিত ভাড়ায় ৬৮০ টাকায় যাত্রী নেওয়া হচ্ছে, তবে তালিকা আসেনি। তালিকা এলে ভাড়া কিছুটা কম-বেশি কিংবা একই হারে থাকবে।

কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে আল-মোবারাকা পরিবহনের আবদুর রহিম বলেন, ‘আমরা আগে ৪৫০ টাকায় ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করতাম। কিন্তু এখন বাড়িয়ে ৫৫০ টাকা করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সিলেটের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. জিয়াউল কবির বলেন, অনেকে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার হিসাব গরমিল করে বসেন। ভাড়া নির্ধারণ কমিটির হিসাবে ৫২ আসনের বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে দূরপাল্লার পরিবহনে ৫২ আসনের বাস নেই। সিলেট থেকে ঢাকা যাতায়াত করা বাসগুলোর আসনসংখ্যা ৩৬ থেকে ৪০। সে হিসাবে ২ টাকা ৮৬ পয়সা কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া হয়।

তিনি বলেন, এখন ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় ঢাকার যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ভাড়ার তালিকা এখনো ছাপা হয়নি। তালিকা ছাপানোর পর ভাড়া সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে সিএনজি ও লাইটেস চালকদের সংঘর্ষ

প্রকাশিত :  ১৩:২৩, ১৯ মে ২০২৬

চৌমুহনায় সড়ক অবরোধে প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ মহাসড়কে যান চলাচল, আহত কয়েকজন সাংবাদিকসহ অনেকে

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটন নগরী  শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরে সিএনজি অটোরিকশা চালক ও লাইটেস (মাইক্রোবাস) চালকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের জেরে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোড এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেটকারের মধ্যে ওভারটেক করাকে কেন্দ্র করে দুই চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের সমর্থক চালকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলের পরিবহন খাতের দুই শ্রমিক গ্রুপ—‘২৩৫৯’ সিএনজি চালক গ্রুপ ও ‘১২২৩’ লাইটেস চালক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। মূলত সেই পূর্ববিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষ আরও বড় আকার ধারণ করে।

সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ২৩৫৯ গ্রুপের সিএনজি চালকেরা শ্রীমঙ্গল শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনা এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় সড়কের ওপর যানবাহন দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

অবরোধের কারণে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও স্থানীয় যানবাহন দীর্ঘসময় আটকা পড়ে। এতে নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সংঘর্ষ ও অবরোধের কারণে পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন—ইসমাইল মাহমুদ, আমজাদ হোসেন বাচ্চু, মোঃ এহসানুল হক মুজাহিদ, এস কে দাস সুমন, নুর মোহাম্মদ সাগর ও আল আমিন। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দিলে প্রায় তিন ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যারা সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”

পর্যটন নগরী ও চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে ঈদকে সামনে রেখে যখন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিল, ঠিক সেই সময় এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঈদ মৌসুমে পর্যটন খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।


সিলেটের খবর এর আরও খবর