img

শ্রীমঙ্গলে কলার আড়ত থেকে বিরল সবুজ ফণীমনসা সাপ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৪:০৩, ১৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:০৪, ১৭ মে ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে কলার আড়ত থেকে বিরল সবুজ ফণীমনসা সাপ উদ্ধার

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটন নগরী ও চায়ের স্বর্গরাজ্য শ্রীমঙ্গলে এবার কলার আড়ত থেকে উদ্ধার হলো একটি বিরল সবুজ ফণীমনসা সাপ। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের তৎপরতায় সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার করিম মিয়ার কলা, আনারস ও লেবুর আড়তে হঠাৎ কলার ছড়ির ভেতরে একটি সাপ দেখতে পান শ্রমিকরা। মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে আড়ত মালিক করিম মিয়া বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ।

ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, সাপটি একটি সবুজ ফণীমনসা—যা গাছপালায় বসবাসকারী অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ও দৃষ্টিনন্দন একটি সাপ। সাপটি কলার ছড়ির ভেতরে নিঃশব্দে লুকিয়ে ছিল। প্রায় ১০ মিনিটের সতর্ক অভিযানের পর সেটিকে নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পরে উদ্ধারকৃত সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা যায়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, পাহাড়, চা-বাগান, হাওর ও বনাঞ্চলবেষ্টিত শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বনভূমি দখল, বসতি স্থাপন এবং বিভিন্ন বাগান তৈরির কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল ও খাদ্যসংকট দিন দিন বাড়ছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে নানা ধরনের বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।

সংগঠনটির দাবি, গত দেড় দশকে তারা শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজারেরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে বন বিভাগের মাধ্যমে অবমুক্ত করেছে। স্থানীয়দের সচেতনতা ও দ্রুত খবর দেওয়ার কারণে অনেক প্রাণীই এখন নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে অপহরণে বাধা দেওয়া দাদিকে হত্যা: মূল আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৬:৫৫, ১৮ মে ২০২৬

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে বসতঘরে ঢুকে এক কিশোরীকে (১৪) অপহরণে বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধা হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  গতকাল রোববার (১৭ মে) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। র‌্যাব-৯ সিলেটের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হওয়া হারুন রশিদ (৩৫) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে প্রবল বর্ষণের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত নয়াপাড়া (বীরমঙ্গল হাওর) এলাকার একটি বসতঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা ঘরে থাকা কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিশোরীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

একপর্যায়ে কিশোরীর দাদি দিলারা বেগম বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের ডান পাশে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলায় আহত কিশোরী বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়াইনঘাট থানায় (১৭মে) রবিবার একটি হত্যা মামলা নং-১২ দায়ের করা হয়েছে। মামলা দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় এ মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার তদন্ত দায়িত্ব পালন করছেন থানার এসআই (নিঃ) কাজী আশরাফুল হক।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত হারুন রশিদের সঙ্গে নিহত পরিবারের ছেলে আম্বিয়া আহমদের পূর্ব থেকে আর্থিক লেনদেন ও বিরোধ ছিল। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। পরে র‌্যাব-৯-এর সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল আসামিকে তার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর