img

হামলার হুমকির মধ্যেই তুরস্কে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

প্রকাশিত :  ০৪:১৯, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হামলার হুমকির মধ্যেই তুরস্কে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও পারমাণবিক আলোচনা শুরু করছে।  দু’দেশের সরকারি কর্মকর্তারা আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আলোচনায় বসবেন। সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের আরব অঞ্চলের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

একজন আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন, সৌদি আরব এবং মিশরের মতো দেশের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের পর আবারও কূটনীতি শুরু করতে এবং নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দূর করতে চাইছে দেশদুটি। এজন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ইস্তাম্বুলে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। তুরস্ক এবং অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্ররাও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। 

কূটনীতিক বলেন, ‘কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশর, পাশাপাশি আরও কিছু দেশ ইস্তাম্বুল বৈঠকে যোগ দেবে। দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপক্ষীয় এবং অন্যান্য বৈঠক হবে।’

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’ই যুগ ধরে ওয়াশিংটন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তিক্ততা চলছে। গত বছর জুন মাসে এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতও হয়েছে। ১২ দিনের সেই সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরান।

তবে যুদ্ধবিরতির পরও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তিক্ততা কমেনি। উপরন্তু গত জানুয়ারির মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় যুদ্ধজাহাজের বিশাল এক বহর মোতায়েনের যে নির্দেশ দেন মার্কিন  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প- তাতে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে ওঠে।

এরইমধ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, আশা করি ইরানের সঙ্গে আমরা একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবো।

এদিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, কয়েকটি মিত্রদেশ এ ব্যাপারে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। তারা আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এটা কঠিন, কিন্তু তারা চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচক দল একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে- তাহলে ফের আলোচনা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘পৃথিবীর নিকৃষ্টতম’ বললেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত

প্রকাশিত :  ১১:৩৯, ২১ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৯, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও নীতিহীন বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রানচেসকা আলবানিজ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এক ফিলিস্তিনি শিশুর ওপর ইসরায়েলি সেনাদের বর্বরোচিত নির্যাতনের দৃশ্য দেখার পর তিনি এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। 

আলবানিজ তার অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি সৈন্যদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড মানবিকতার সব সীমা অতিক্রম করেছে এবং তারা পদ্ধতিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ‘জাতিগত নিধন’ চালানো হচ্ছে বলে আলবানিজ ইতিপূর্বে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উসকানিমূলক প্রচারণা শুরু হয়। এমনকি এই প্রতিবেদনের জেরে তিনি বিভিন্ন পর্যায় থেকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন। 

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বর্তমানে তার জীবন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং তিনি সবসময় এক ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আলবানিজ তার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ‘রোলার কোস্টার রাইডের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।

জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত মনে করেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড কেবল ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং পুরো বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজগুলো সামনে আসার পর বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের প্রতি নিন্দার ঝড় উঠেছে।

আলবানিজ বারবার দাবি করে আসছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি ইসরায়েলি বাহিনীর এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তার জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নির্মম বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফ্রানচেসকা আলবানিজের এই মন্তব্য ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর নৈতিক অবস্থানকে বৈশ্বিক মঞ্চে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধির এমন সাহসী অবস্থান ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। 

যদিও ইসরায়েল বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে একের পর এক ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনগুলো সত্যতার সপক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। আলবানিজ জানিয়েছেন, প্রাণনাশের হুমকি থাকা সত্ত্বেও তিনি সত্য প্রকাশে পিছপা হবেন না এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচারের দাবিতে তার লড়াই অব্যাহত রাখবেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর