ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স ও রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
তবে সন্ধ্যায় রাত ৭টার কিছু পর তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। টেমস ভ্যালি পুলিশ জানায়, তাকে তদন্ত চলাকালীন শর্তহীনভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নরফোকে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে অ্যান্ড্রুর বাসভবনে তল্লাশি শেষ হয়েছে। তবে উইন্ডসরের বার্কশায়ারে অবস্থিত তার সাবেক ঠিকানা রয়্যাল লজে তল্লাশি চলমান রয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে দেশটির নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এলাকা থেকে সাবেক এই ব্রিটিশ প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন নথি শেয়ার করেছিলেন।
‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে’ জানিয়ে ভাইয়ের বিষয়ে পুলিশের তদন্তকে নিঃশর্ত সমর্থন জানান রাজা চার্লস। এক বিবৃতিতে চার্লস বলেন, ‘এখন যা হবে তা হলো একটি পূর্ণাঙ্গ, ন্যায্য ও যথাযথ প্রক্রিয়া— যার মাধ্যমে বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সঠিকভাবে তদন্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে, যেমনটি আগে বলেছি, তারা আমাদের পূর্ণ ও আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতা পাবে।’
বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও সহিংসতা হ্রাস: যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদন
প্রকাশিত :
১৯:১৯, ২০ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলির পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও বেড়েছে এবং সহিংসতা কমেছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করা এবং সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে প্রতিবেদনটিতে।
‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেল নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই প্রতিবেদন সংক্রান্ত তথ্য ও বক্তব্য তুলে ধরে একটি পোস্ট দিয়েছে।
পোস্টে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৭ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে তথ্য-অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট দল সিপিআইটি। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক ও গবেষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও উন্নতি ঘটেছে। বিশেষ করে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এ নির্বাচনে সহিংসতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাসের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বর্তমানে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। পাশাপাশি নিজেদের মতামত প্রকাশ ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগও বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্যে আগের সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা তথ্য-অনুসন্ধান মিশনকে জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বড় বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তারা তুলে ধরেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যেসব রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলো সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, এসব ঘটনার সঙ্গে প্রায়ই স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পত্তি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো জড়িত থাকে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। এতে বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত ২১ হাজারেরও বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম, জবাবদিহি ও সংস্কারের বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগের সময়ের তুলনায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সাধারণ নাগরিকদের নিজেদের মতামত প্রকাশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং জনআলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ বেড়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলি এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির একটি চিত্র তুলে ধরেছে।
এতে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলোর চলমান পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।