img

ব্রিটেনে ওজন কমানোর ইনজেকশন নিয়ে উদ্বেগঃ ২০০টির বেশি মৃত্যুর রিপোর্ট

প্রকাশিত :  ১০:০৯, ১০ আগষ্ট ২০২৬

ব্রিটেনে ওজন কমানোর ইনজেকশন নিয়ে উদ্বেগঃ ২০০টির বেশি মৃত্যুর রিপোর্ট

ব্রিটেনে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সির (এমএইচআরএ) কাছে ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহারের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কিত ২০০টির বেশি মৃত্যুর রিপোর্ট জমা পড়েছে । একই সঙ্গে এসব ওষুধ ব্যবহারের পর ১ লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগও নিবন্ধিত হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এসব রিপোর্টের অর্থ এই নয় যে মৃত্যুগুলো বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো সরাসরি ওষুধের কারণেই ঘটেছে; বরং রিপোর্টকারীরা এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এমএইচআরএর ইয়েলো কার্ড স্কিমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টাইরজেপাটাইড—যা ‘মাউনজারো’ নামে বাজারজাত করা হয়—ব্যবহারের সঙ্গে ১ লাখ ৬ হাজার ১৮৯টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার রিপোর্ট এবং ১২০টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর তথ্য জমা পড়েছে। এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে পেট ও অন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতার ঘটনাও রয়েছে।

অন্যদিকে সেমাগ্লুটাইড, যা ওজন কমানোর ওষুধ ‘ওয়েগোভি’ এবং ডায়াবেটিসের ওষুধ ‘ওজেম্পিক’ ও ‘রাইবেলসাস’-এর সক্রিয় উপাদান, এর ক্ষেত্রে ৪৮ হাজার ৮৯টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ৫৯টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এছাড়া লিরাগ্লুটাইড, যা ‘স্যাক্সেন্ডা’ নামে পরিচিত এবং ডায়াবেটিস চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয়, এর সঙ্গে ৪ হাজার ৪৯১টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ৩৭টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর রিপোর্ট নিবন্ধিত হয়েছে।

এমএইচআরএ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ কোটি কোটি প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে ব্যবহৃত হচ্ছে। ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধি, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কারণেও রিপোর্টের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাই শুধুমাত্র রিপোর্টের সংখ্যা দেখে কোনো ওষুধকে দায়ী করার সুযোগ নেই।

সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেন, অন্যান্য সব ওষুধের মতো জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট ওষুধগুলোর নিরাপত্তাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য বা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখা দিলে তা দ্রুত রোগী, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে এমএইচআরএর মূল্যায়ন হলো, অনুমোদিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করলে এই ওষুধগুলোর উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় বেশি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে ওষুধের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সব তথ্য একত্রে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত এসব তথ্য পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজন হলে সরকার ও জনগণকে দ্রুত অবহিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোগীর নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব ব্যক্তি ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহার করছেন, তাদের কোনো অস্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত এবং প্রয়োজনে এমএইচআরএর ইয়েলো কার্ড স্কিমে তা রিপোর্ট করা প্রয়োজন।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

ব্রিটেনের সতর্কতা

img

‘অজান্তে’ চীনের গোয়েন্দা সংস্থাকে সহযোগিতা করছেন শতাধিক ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ০১ অক্টোবর ২০২৬

ব্রিটেনের  অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এমআই৫ জনসতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির শতাধিক শিক্ষাবিদ ও গবেষক অজান্তেই চীনের গোয়েন্দা সংস্থাকে সহযোগিতা করেছেন। এমআই৫-এর দাবি, ‘চায়না জেনারেল টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ নামে একটি ভুয়া বা ‘ফ্রন্ট’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চীনা গোয়েন্দা সংস্থা এসব গবেষণায় অর্থায়ন করেছিল।

এমআই৫ জানিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, গোপন যোগাযোগ এবং স্টেগানোগ্রাফির (বার্তার ভেতর গোপন তথ্য লুকিয়ে রাখা) মতো সংবেদনশীল প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণায় অর্থায়ন করা। এসব গবেষণা পরবর্তীতে চীনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হতো। বিবিসি জানিয়েছে, বেশির ভাগ ব্রিটিশ গবেষকই সৎ উদ্দেশ্যে যুক্ত ছিলেন, কারণ এর পেছনে চীনা সরকারের সরাসরি যোগসূত্রটি অস্পষ্ট রাখা হয়েছিল।

ব্রিটেনের নিরাপত্তামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটির সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অবিলম্বে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। (এমআই৫) স্পষ্ট সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নতুন ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’ অনুযায়ী, এই বার্তার পরও যদি কোনো শিক্ষাবিদ বা প্রতিষ্ঠান চীনের এই সংস্থার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করা হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ১৪০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘ইউনিভার্সিটিজ ইউকে’ জানিয়েছে, তারা সতর্কতাটি খতিয়ে দেখছে এবং গবেষণার ঝুঁকি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে, লন্ডনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই সমস্ত অভিযোগকে ‘কাল্পনিক ও সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে।

তাদের মতে, শিক্ষাগত বিনিময় সব সময় দুই দেশের মধ্যে আইনি নিয়ম মেনেই হয়ে আসছে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর