img

পুরো ইসরাইলের ওপরই যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত: ব্রিটিশ এমপি

প্রকাশিত :  ১৬:৪৬, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পুরো ইসরাইলের ওপরই যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত: ব্রিটিশ এমপি

যুক্তরাজ্যের নরিচ সাউথের লেবার পার্টি দলীয় এমপি ক্লাইভ লুইস এক নিবন্ধে দাবি করেছেন, ইসরাইলের বিতর্কিত বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) পাশাপাশি পুরো ইসরাইল রাষ্ট্রের ওপরও ব্রিটিশ সরকারের তাৎক্ষণিক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। মতামত নিবন্ধে  তিনি জানান, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দলকে অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে না দিয়ে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রেখে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

প্রতিনিধি দলটির উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতা ও নিপীড়নের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে তদন্ত করা। তবে এমপি ক্লাইভ লুইস স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অসৌজন্যমূলক আচরণ ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের চরম বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। গাজায় চরম নৃশংসতার পর এখন পশ্চিম তীরেও ধীরগতির জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে, যা কোনো সাধারণ অপরাধ নয় বরং সরাসরি ইসরাইলি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ।

ইসরাইলের বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সম্প্রতি প্রকাশ্যে গাজার মতোই পশ্চিম তীরেও সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এর পরপরই ফিলিস্তিনিদের প্রধান জীবিকা হিসেবে পরিচিত জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে অমানবিক আক্রমণের ঘটনাগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয় এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দল। লুইস অভিযোগ করেন, বিশ্ব যেন ইসরাইলের এসব অপরাধের সাক্ষী হতে না পারে, সেজন্য তারা প্রতিনিধি দল এবং সাংবাদিকদের নিয়মিত বাধা দিচ্ছে। গত দেড় বছরে যুক্তরাজ্যের দুটি এমপি প্রতিনিধি দলকে ফেরত পাঠানো ছাড়াও তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গাজা সংঘাতে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল জাস্টিস নাউয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন যুক্তরাজ্য সম্প্রতি পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা ভেবেছে। তবে ক্লাইভ লুইস সতর্ক করে বলেন, শুধু কিছু নির্দিষ্ট উগ্র সেটলারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, কারণ তাদের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে ইসরাইল সরকার। অবৈধ বসতিগুলোর অর্থনীতি সম্পূর্ণ অচল করে দিতে ব্যাংকিং, বিমা ও নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।

লুইস আরও উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ সরকার ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রিতে কিছু বিধিনিষেধ আনলেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টস সরবরাহ এখনও পুরোপুরি বন্ধ করেনি, যা দিয়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে হামলা চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে এই আইনি ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে সব ধরণের অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের দাবি জানান তিনি। গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ত্রাণ সরবরাহে বাধা সৃষ্টিকারী ইসরাইলি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছেন এই ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ইসরাইলের এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদী নীতি বন্ধে যুক্তরাজ্যকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

লন্ডনে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’: ২ বাংলাদেশি শওকত ও জাহিদুলকে ধরতে পুলিশের হুলিয়া

প্রকাশিত :  ২০:৩২, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে পার্কে নিয়ে দলবদ্ধ ‘ধর্ষণের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে ধরতে হুলিয়া জারি করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে তাদের ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ক্রাইমস্টপার্স’।

লন্ডন নগর পুলিশের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

ওই দুই বাংলাদেশি যুবক হলেন ৩১ বছর বয়সি শওকত আহমেদ ও ৩৪ বছর বয়সি জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। এর মধ্যে শওকত পলাতক থাকলেও যুক্তরাজ্যেই আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জাহিদুল বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে পারেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রথম তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর এক প্রকাশ্য আপিলের পর, পুলিশ সন্দেহভাজনদের বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য হাতে পায়।

এরইমধ্যে লন্ডন পুলিশ ওই দুই যুবকের ছবি প্রকাশ করেছে এবং তাদের খুঁজে বের করতে জনসাধারণকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যাপকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পুলিশের বরাতে খবরে আরও বলা হয়, শওকত আহমেদ এখনও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে।

অন্যদিকে জাহিদুলের সঙ্গেও টাওয়ার হ্যামলেটসের যোগাযোগ ছিল, তবে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ক্রাইমস্টপার্স’ এর মাধ্যমে অভিযুক্তদের সন্ধান বা তথ্য দেওয়ার জন্য এরইমধ্যে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বরাতে দ্য সান বলছে, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাতে হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তি তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ‘উইভার্স ফিল্ডস’ নামে একটি পার্কে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে এক পথচারী তাকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ভিডিও পর্যালোচনা এবং ফরেনসিক পরীক্ষাসহ ব্যাপক তদন্ত চালায়। দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স এর লন্ডন অঞ্চলের ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সা লুকাস বলেন, “ওই কিশোরী এক ভয়াবহ এবং বেদনাদায়ক আক্রমণের শিকার হয়েছে। এর জন্য দায়ি দুজন পুরুষকে শনাক্ত করা ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, তাদের অবস্থান খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই দুই জনের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে ছোট কোনো তথ্য থাকলেও আপনারা আমাদের দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তথ্যদাতার নাম পরিচয় গোপন রাখা হবে।”

দুই অভিযুক্তের বাড়ি বাংলাদেশের কোথায়, এনিয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর