img

ভাঙতে যাচ্ছে ব্রিটেন, স্বাধীনতার জন্য গণভোট চাইল স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে

প্রকাশিত :  ১৮:২০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভাঙতে যাচ্ছে ব্রিটেন, স্বাধীনতার জন্য গণভোট চাইল স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে

ইংল্যান্ড থেকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে এবং ব্রিটেন  ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নেতারা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে তাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের পুনরায় একত্রীকরণের পক্ষে সমর্থন জানানোর একদিন পরই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর আল জাজিরার 

এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, ঘোষণাপত্রে যুক্তরাজ্যের অংশ তিন দেশকে স্বাধীনতার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের অধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হবে। গণভোটে জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলে ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হবে।

ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবেন স্কটল্যান্ডের জন সুইনি, ওয়েলসের রুন আপ আইওরওয়েথ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মিশেল ও’নিল। এতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ—অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন সদস্য হতে চায়। অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ইইউতে যুক্ত হবে। আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র বর্তমানে ইইউর সদস্য।

ওয়েলসের ক্ষেত্রে এই ঘোষণাপত্রকে ব্যবহার করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। বিশেষ করে কর ও সরকারি ব্যয়ের মতো বিষয়ে ওয়েলসের স্বায়ত্তশাসিত সরকারের হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানানো হতে পারে।

এদিকে ওয়েলসে চলতি বছরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে স্বাধীনতাপন্থী দল প্লেইড কামরু জয়ী হওয়ার পর এ উদ্যোগের পেছনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ১৯৯৯ সালে ওয়েলসে স্বায়ত্তশাসিত সরকারব্যবস্থা চালুর পর এই প্রথম ওয়েলশ লেবার পার্টি ক্ষমতা হারিয়েছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে একই সময়ে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্বাধীনতাপন্থী দল সরকারে রয়েছে। স্কটল্যান্ডে ক্ষমতায় রয়েছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি)। আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে রয়েছে ক্ষমতা ভাগাভাগির সরকার, যেখানে ব্রিটিশপন্থি ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) এবং আইরিশ রিপাবলিকান দল শিন ফেইন রয়েছে।

কার্ডিফের বৈঠকটি ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরের দুইদিন পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গেল শনিবার ডাবলিন সফরের সময় তিনি আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানান। তার এ মন্তব্যে ডাবলিনের কর্মকর্তারা বিস্মিত হন এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও লন্ডনের ব্রিটিশপন্থী রাজনীতিকরা ক্ষুব্ধ হন।

নিজের একটি গলফ রিসোর্টে আয়োজিত গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড পেয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়, তাদের একত্র করা সর্বকালের অন্যতম স্বাভাবিক বিষয়। আপনি স্কটল্যান্ডের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে আমি এখনো কথা বলব না। সেটা অন্য দিনের জন্য রেখে দিচ্ছি।’ স্কটল্যান্ডে ট্রাম্প পরিবারের একটি গলফ রিসোর্ট রয়েছে।

২০১৪ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হওয়ার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে স্কটল্যান্ডের জনগণ স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন গণভোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। একইভাবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্নেও গণভোটের বিরোধিতা করেছেন তিনি।

ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের পক্ষে মন্তব্য করার আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়ায় মার্টিন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কিছু ইউনিয়নস্থ রাজনীতিকের প্রতিক্রিয়াকে ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ কোর্সে মধ্যাহ্নভোজের পর সাংবাদিকদের মার্টিন বলেন, ‘এটি বিস্ময়কর হওয়ার কথা নয়। তিনি বিষয়গুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন।’

মার্টিন জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক দশকের সহিংসতার পর ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চলটিতে কীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটিও তিনি ট্রাম্পকে ব্যাখ্যা করেন। ওই সময়কাল ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত।

ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের পর প্রায় এক শতাব্দী আগে আয়ারল্যান্ড একটি স্বশাসিত ক্যাথলিক-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে পরিণত হয়। অন্যদিকে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড দুটি প্রধান সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল। অধিকাংশ ক্যাথলিক জাতীয়তাবাদী আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একীভূত হতে চেয়েছিলেন। আর বেশিরভাগ প্রোটেস্ট্যান্ট ইউনিয়নস্থ ব্রিটেনের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে এ উত্তেজনা সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ব্রিটিশ সেনারাও জড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৮ সালের একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে মূলত ওই সহিংসতার অবসান হয়। চুক্তিটি সম্পাদনে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চূড়ান্ত অবস্থান অমীমাংসিত থেকে যায়।

চুক্তি অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পক্ষে ভোট দিতে পারেন বলে মনে হলে সেখানে একীভূতকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজন করা যাবে।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গত বুধবার বলেছিলেন, জনমত এমন পর্যায়ে পরিবর্তিত হলে, যখন গণভোটের দাবি আর উপেক্ষা করার সুযোগ থাকবে না, তখনই যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে বিবেচনা করবে। ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে বার্নহ্যামের কার্যালয় ওই মন্তব্যের কথাই পুনরায় উল্লেখ করেছে।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মার্টিনও বিবিসিকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের একীভূতকরণ নিয়ে গণভোটের সময় সম্ভবত এখনো আসেনি।

তিনি বলেন, ‘আমি ঐক্যকে সমর্থন করি। এখনই এটি ঘটবে বলে আমি মনে করি না। এ বিষয়ে আমি খুব স্পষ্ট। আগামী সপ্তাহে যদি ভোট হয়, তাহলে সেটি পাস করানো অত্যন্ত কঠিন হবে।’

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, অল্পে বাঁচলেন ট্রেনযাত্রী বরিস জনসন

প্রকাশিত :  ০৫:৪৫, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৪৬, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পোল্যান্ড-ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ট্রেনের কাছাকাছি সময়েই সেখানে অবস্থান করছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রেয়াস। ইউক্রেনীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ট্রেনটিও রুশ হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে।

ইউক্রেনীয় রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বরিস জনসন ও ডেভিড পেট্রেয়াসকে বহনকারী একটি ট্রেন পোল্যান্ড সীমান্তের একটি ক্রসিং দিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই কাছাকাছি এলাকায় রুশ ড্রোন হামলা হয়।

রেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, রুশ হামলার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচলের সময়সূচি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়। তাই রুশ ড্রোনটির লক্ষ্য ওই কূটনৈতিক ট্রেনও হয়ে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছে।

তবে হামলার সময় ট্রেনটিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ওয়ারশগামী ট্রেনে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, যাত্রীদের দ্রুত ট্রেন থেকে নামিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে রাতেও তাদের কয়েক ঘণ্টার জন্য ট্রেন থেকে নামতে হয়েছিল।

রোববার রাতভর ইউক্রেনজুড়ে ৪৫০টির বেশি রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ৪০৫টি ড্রোন ও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

সাধারণত রাজধানী কিয়েভ ও পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রের তুলনায় পশ্চিম ইউক্রেন অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকলেও এবার ওই অঞ্চলও ব্যাপকভাবে হামলার শিকার হয়েছে। হামলার কারণে ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ডেও বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।

ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের দোরোহুস্ক-ইয়াহোদিন সীমান্ত পারাপার এলাকা থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরে একটি পণ্যবাহী ট্রাকেও হামলা হয়েছে।

বোরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তে একটি স্থির ইউক্রেনীয় রেল ইঞ্জিনে হামলা চালানোর পেছনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কী যুক্তি ছিল, তিনি তা জানেন না। তবে তার মতে, ইউক্রেনের বেসামরিক রেলপথেও প্রতিদিন এমন ‘এলোমেলো ও অর্থহীন’ হামলা চালানো হচ্ছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সরাসরি সীমান্তে রাশিয়ার ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয়রা প্রতিদিন লড়াই করছে যাতে রুশ হামলা ইউরোপের আরও ভেতরে ছড়িয়ে না পড়ে এবং রাশিয়ার আগ্রাসন যাতে আরও বিস্তৃত হতে না পারে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনে রুশ হামলা আরও তীব্র হতে পারে এবং এর প্রভাব পোল্যান্ডের ভূখণ্ডেও পড়তে পারে। তিনি বলেন, রাশিয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে ইউক্রেনের সীমান্ত পারাপারগুলোকে বাধাগ্রস্ত, অচল বা এমনকি ধ্বংস করার চেষ্টাও থাকতে পারে বলে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল পোল্যান্ড।

তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, এসব রেলপথ ইউরোপ থেকে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

এদিকে যুদ্ধের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে লিথুয়ানিয়ায় একটি ঘটনা। রাজধানী ভিলনিয়াসের বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়। ন্যাটো অন্তত একটি যুদ্ধবিমানও পাঠায়। পরে জানা যায়, আকাশে দেখা বস্তুগুলো আসলে একঝাঁক পাখি। প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানবন্দর আবার চালু করা হয়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর