img

স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণা আসতে পারে আজ

প্রকাশিত :  ০৫:৩৬, ২২ জুন ২০২৬

স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণা আসতে পারে আজ

আজ সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিজ দল লেবার পার্টির এমপিদের চাপের মুখে রয়েছেন তিনি। মূলত এমপিরা চাইছেন তাঁকে সরিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নেতা বানাতে।

সরকারের পক্ষ থেকে কথা বলতে গিয়ে গতকাল রোববার ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত এবং দেশের জন্য যেটা ভালো, সেটাই তিনি করবেন। তবে স্টারমারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি কাইল।

কাইল জানান, স্টারমারকে সরানোর জন্য একটি পক্ষ চাপ প্রয়োগ করছে। কয়েক মাস ধরেই চাপের মুখে ছিলেন তিনি। গত শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সে সংকট আরও তীব্র হয়। এদিন তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টের একটি উপনির্বাচনে জয়ী হন। গোটা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বার্নহ্যামকে স্টারমারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ তৈরি করে দেয়। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এর আগে যে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন।

কাইলের দেওয়া তথ্যানুসারে, স্টারমার এখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কভাবে পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ক্ষয়ক্ষতিও এড়ানোর চেষ্টা করছেন। 

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের তথ্য বলছে, গত শুক্রবার লেবার পার্টির এমপিরা স্টারমারকে সপ্তাহান্তের মধ্যে পদত্যাগের সময় জানাতে বলেন। যদি তিনি তা না করেন, তাহলে তারা স্টারমারকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করবেন বলেও হুমকি দেন। চাপ সৃষ্টিকারী ওই এমপিরা আগে তাঁর অনুগত ছিলেন। লেবার পার্টির নিয়মানুসারে কোনো সদস্য নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইলে তাঁর সংসদীয় দলের অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন এমপির সমর্থন পেতে হবে।  

মাত্র দুই বছর আগে স্টারমার যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টিকে জিতিয়ে এনেছিলেন। সে সময় ১৭৪ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল দলটি। স্টারমারের আগে গত ১০ বছরে ছয়জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরতে বাধ্য হয়েছেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে জরিপে ভালো অবস্থানে নেই লেবার পার্টি। জনসাধারণের কাছে স্টারমারের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে কমেছে। অন্যদিকে জরিপে এগিয়ে আছে ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে।

অনেক লেবার এমপিরই ধারণা, নেতৃত্বে পরিবর্তন না আনলে পরের নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের নাইজেল ফ্যারাজ জয়ী হবেন। 


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৯:৩০, ২২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:০৭, ২২ জুন ২০২৬

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার (২২ জুন) তিনি পদত্যাগ করেন। এর ফলে গত এক দশকে দেশটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে। খবর দ্য ডনের।

পদত্যাগের পর লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট-এর সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার জানান,  তিনি দলের সিদ্ধান্তকে ‘সৌজন্যের সঙ্গে’ মেনে নেবেন এবং তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবেন।

বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের অস্থির রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি গত সপ্তাহে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন নাকি সরে দাঁড়াবেন—তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন।

সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ‘স্টারমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়গুলো নিয়ে অনেক ভাবতে পছন্দ করেন।’

স্টারমারের ওপর চাপ কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। তবে শুক্রবার (১৯ জুন) পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সুযোগ পান।

তিনি নাইজেল ফারাজ-এর দল রিফর্ম ইউকে সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। দলটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

বার্নহ্যামের এই জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাদের ধারণা, দক্ষ যোগাযোগ ক্ষমতার জন্য পরিচিত বার্নহ্যাম দলের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারেন। স্টারমারের জনপ্রিয়তা ইতোমধ্যে ব্রিটেনের যেকোনো বর্তমান বা সাম্প্রতিক নেতার তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন ঝুঁকিমুক্ত নয়।  বার্নহ্যাম এখন পর্যন্ত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের মতো তিনিও সীমিত সুযোগের মুখোমুখি হতে পারেন। একদিকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণে অনাগ্রহী বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারীরা, অন্যদিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট ভোটাররা—উভয় দিক থেকেই চাপ থাকবে।

বর্তমানে উচ্চ ঋণ, সুদ পরিশোধের ব্যয়, দীর্ঘদিনের ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের ঋণ গ্রহণের খরচ সবচেয়ে বেশি।

বার্নহ্যাম গত বছরের সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ব্রিটেনকে ‘বন্ড বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে—বার্নহ্যাম বাজারকে আশ্বস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন কি না, তা নিয়ে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর