img

পদত্যাগ করতে প্রস্তুত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

প্রকাশিত :  ১০:১৯, ১৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৩, ১৭ মে ২০২৬

পদত্যাগ করতে প্রস্তুত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। এমনটাই নাকি তিনি জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ মহলকে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে রাজি আছেন, তবে তিনি তা ‘নিজের শর্তে’ করতে চান।

সূত্রটি জানায়, তিনি বুঝতে পারছেন বর্তমান পরিস্থিতির বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিন টেকসই নয়। তবে তিনি মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো সময়েই সরে দাঁড়াতে চান। এ জন্য তিনি একটি সময়সূচি ঘোষণা করবেন। 

সংকটে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার

ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে বর্তমানে সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার।  পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ এবং শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফল—সব মিলিয়ে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

সবশেষ ধাক্কা আসে স্টারমার মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে।

শনিবার স্ট্রিটিং জানান, ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজের প্রার্থিতা তুলে ধরবেন।

ভাষণে তিনি স্টারমারকে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি ‘সময়সূচি নির্ধারণ’র আহ্বানও জানান।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তাও দ্রুত কমছে। জরিপ সংস্থা ইউগোভের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক লেবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি “অসন্তুষ্ট” মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

ইউগভ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে স্টারমার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অনেকেই তার অবস্থার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মাত্র ৪৯ দিনের শাসনামলের তুলনা করছেন।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, আরও সংকটে কিয়ার স্টারমার

প্রকাশিত :  ০৭:৩৯, ১৫ মে ২০২৬

সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের। এবার তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেছেন। কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে আস্থা হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্টারমারের কাছে লেখা পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং লেখেন, তিনি তার (স্টারমার) নেতৃত্বে আস্থা হারিয়েছেন। সুতরাং সরকারি পদে থাকা তার জন্য আর সম্মানজনক হবে না এবং নীতিগতভাবেও ঠিক হবে না।

পত্রটি এক্সে শেয়ার করেছেন স্ট্রিটিং। এতে তিনি লিখেছেন, এটি স্পষ্ট যে, কিয়ার স্টারমার আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।

পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং আরও লেখেন, “যেখানে আমাদের দূরদৃষ্টি দরকার, সেখানে আমাদের আছে শূন্যতা। যেখানে আমাদের দিক নির্দেশনা দরকার, সেখানে আমরা ভেসে চলছি।”

ওয়েস স্ট্রিটিং শিগগিরই লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছেন বলে জল্পনা ডালপালা মেলেছিল আগেই। এর মধ্যেই তার পদত্যাগের খবর এল।

তবে স্ট্রিটিং এখনও স্টারমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেননি। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে গেলে স্ট্রিটিংকে অন্তত ৮১ জন এমপি’র সমর্থন জোগাড় করতে হবে।

গত সপ্তাহে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর দল থেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

কয়েক ডজন এমপি স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার সকালে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময় বৈঠক করেন স্ট্রিটিং।

নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির জন্য সরকারের অজনপ্রিয়তাকে দায়ী করে স্ট্রিটিং বলেন, দলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ‘ভিশন’ প্রয়োজন ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে একটি ‘শূন্যতা’ তৈরি হয়েছে।

স্টারমারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “নেতারা সাধারণত দায়িত্ব নেন, কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় তার বদলে অন্য কাউকে বলির পাঁঠা হতে হচ্ছে।”

দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় যে সাহসী সমাধান প্রয়োজন, বর্তমান সরকার তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও স্ট্রিটিং মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পর চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করায় এবং দলীয় এমপি-দের অব্যাহত চাপের মুখে বর্তমানে নিজের প্রধানমন্ত্রিত্ব টেকাতে লড়াই করছেন কিয়ার স্টারমার।