img

ব্রিটেনে অভিবাসনবিরোধী দলের উত্থান, পদত্যাগে নারাজ স্টারমার

প্রকাশিত :  ১১:৫৫, ০৮ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৮, ০৮ মে ২০২৬

ব্রিটেনে অভিবাসনবিরোধী দলের উত্থান, পদত্যাগে নারাজ স্টারমার
ব্রিটেনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী দলের উত্থান ও ডানপন্থীদের বড় জয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে ইংল্যান্ডে কয়েক’শ আসন হারিয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনেও দলটির বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের পর শুক্রবার বিভিন্ন কাউন্সিলের ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এদিন বাজে ফলাফলের দায় স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। তবে তিনি দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। দল কয়েক’শ কাউন্সিলর পদ হারানোর পরও স্টারমার বলেছেন, ‘আমি পদত্যাগ করে দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেব না।’

ব্রিটেনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণত ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তার একটি পরীক্ষা হয়। খারাপ ফলাফলকে জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণ হিসেবে দেখিয়ে বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন। অনেক সময় নিজ দলের ভেতর থেকেও পদত্যাগের চাপ তৈরি হয়। 

শুক্রবার স্টারমার বলেন, ফলাফল খুবই বাজে হয়েছে। এটিকে ভালো দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। সারা দেশে অনেক প্রতিনিধি হেরে গেছেন। তিনি এই পরাজয়ের দায় নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘোষিত ১৩৬টি ইংলিশ কাউন্সিলের (সিটি, বরো বা ডিস্ট্রিক্ট) মধ্যে ৪০টির ফলে দেখা যায়, নাইজেল ফারাজের অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে ৩৫০টির বেশি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে লেবার পার্টি হারিয়েছে ২৪০টির বেশি। অন্যান্য কাউন্সিলের ফলাফল দিনের বাকি সময়ে জানা যাবে। 

২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর স্টারমার সরকারের অধীনে এটিই প্রথম স্থানীয় নির্বাচন। এতে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবি হলে ৬৩ বছর বয়সী স্টারমারের পদত্যাগের দাবি আরো জোরালো হতে পারে। পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব বদল নিয়ে চলা গুঞ্জনও তীব্র হবে।

প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বলেছেন, ‘এই নির্বাচনের ফলাফল ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। আমরা টিকে থাকার জন্যই এসেছি।’

লেবার পার্টির আগে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৪ বছর ক্ষমতায় ছিল কনজারভেটিভ পার্টি। তাদের আমলে কৃচ্ছ্রসাধন, ব্রেক্সিট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের ভঙ্গুর অর্থনীতি ব্রিটিশ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। এরপর ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসেন স্টারমার।

সমালোচকদের মতে, স্টারমার নিজেও একের পর এক ভুল নীতি গ্রহণ করেছেন। যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সাবেক লেবার নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনের একটি কেলেঙ্কারির সঙ্গে স্টারমার যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব এখন স্টারমারের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা

img

লন্ডনে সর্বোচ্চ সতর্কতা: মার্কিন নাগরিকদের চলাচলে দূতাবাসের জরুরি বিধিনিষেধ

প্রকাশিত :  ১৬:২০, ০২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৫৫, ০২ মে ২০২৬

যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় দেশটিতে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে ‘সিভিয়ার’ বা ‘তীব্র’ ঘোষণা করার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫-এর মতে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বড় কোনো হামলার আশঙ্কা “অত্যন্ত প্রবল”।

গত শুক্রবার এক নিরাপত্তা বার্তায় মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের স্কুল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনাকীর্ণ পর্যটন এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একইসাথে গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোতে চলাচলের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং যাতায়াতের রুট পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। ব্রিটিশ ‘জয়েন্ট টেররিজম অ্যানালাইসিস সেন্টার’ হুমকির মাত্রা ‘সাবস্ট্যানশিয়াল’ থেকে বাড়িয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধাপ ‘সিভিয়ার’-এ উন্নীত করেছে। গত বুধবার লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ইহুদি ব্যক্তিদের ওপর ছুরিকাঘাত এবং গত সপ্তাহে উত্তর লন্ডনের কয়েকটি সিনাগগে হামলার ঘটনার পর এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে উগ্র ইসলামপন্থী এবং চরম দক্ষিণপন্থী—উভয় গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেই নাশকতার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে ইহুদি ও ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমেরিকান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো এখন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করেছে এবং নাগরিকদের সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলে অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা 

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর