img

যুক্তরাজ্যে ২০০৯ থেকে জন্ম নেওয়া কেউ জীবনে সিগারেট কিনতে পারবে না

প্রকাশিত :  ০৮:১৬, ২২ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্যে ২০০৯ থেকে জন্ম নেওয়া কেউ জীবনে সিগারেট কিনতে পারবে না

একটি ঐতিহাসিক তামাক ও ভেপ বিল যুক্তরাজ্যের সংসদে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধূমপান কার্যত নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারির পর জন্ম নেওয়া কেউ জীবনে কখনোই সিগারেট কিনতে পারবে না। অর্থাৎ, একটি ‘ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম’ গড়ে তোলাই এই আইনের মূল লক্ষ্য। সংসদের দুই কক্ষ কমন্স ও লর্ডস এই বিলের চূড়ান্ত খসড়ায় একমত হয়েছে। রাজকীয় অনুমোদন পেলেই সরকার তামাক, ভেপিং ও নিকোটিনজাত পণ্যের স্বাদ, প্যাকেট এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে নতুন ক্ষমতা পাবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান যুক্তরাজ্যে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু, পঙ্গুত্ব ও নানা রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এই ঝুঁকি কমাতেই সরকার এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

নতুন আইনে শিশু বহনকারী গাড়ি, খেলার মাঠ, স্কুলের আশপাশ এবং হাসপাতালের বাইরে ভেপিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে যারা ধূমপান ছাড়তে চান, তাদের জন্য হাসপাতালের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় ভেপিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত জায়গা, যেমন বাড়ি বা কিছু খোলা জায়গা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এই পদক্ষেপকে দেশের স্বাস্থ্যের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া লর্ডসে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যারনেস মেরন বলেন, এটি এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য উদ্যোগগুলোর একটি। এটি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবন রক্ষা করবে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে লন্ডনে ৩০ দেশের বৈঠক

প্রকাশিত :  ০৭:৩৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬

অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করা এবং সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় বের করতে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বৈঠকে বসছে প্রায় ৩০টিরও অধিক সংখ্যক দেশ। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনযায়ী, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ২ দিনের এই বৈঠক।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাবিদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনা কর্মকর্তাদের। গত সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি দেশ জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক মিশনে যোগ দিতে ইচ্ছুক।

ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাছ্যের প্রায় ৫০টি দেশ হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স নেতৃত্ত্বাধীন প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক মিশনের সদস্য হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

এদিকে ইরান যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনে ‘এগিয়ে না আসায়’ ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, তার আর মিত্রের প্রয়োজন নেই। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই বক্তব্য পোস্ট করার পর গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে একটি অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এবং সেখানে যোগ দেয় প্রায় ৫০টি দেশ। সেই কনফারেন্সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।  

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতেও এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের ভিডিও কনফারেন্সের ফলাফল হলো লন্ডনের এই বৈঠক।

পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, ‘আমাদের এই দু’দিন ব্যাপী বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ও কাজ হলো, হরমুজে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে সমর্থনের জন্য কূটনৈতিক ঐকমত্যকে একটি যৌথ পরিকল্পনায় রূপান্তর করা।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটে ভুগছে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।


 

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর