হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য কমাতে সেখানে মাইন শনাক্তকারী ড্রোন পাঠানোর কথা ভাবছে ব্রিটেন। এর আগে ওই অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর সুরক্ষায় মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘নানা ধরনের বিকল্প’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ওই প্রস্তাবের খবর সব প্রথম প্রকাশ করেছে দ্য সানডে টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ‘মাইন অ্যান্ড থ্রেট এক্সপ্লোয়িটেশন গ্রুপ’ থেকে এসব ড্রোন মোতায়েন করা হতে পারে; যারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।
তবে বর্তমানে ঠিক কতগুলো ড্রোন কার্যকর রয়েছে এবং এর মধ্যে কতটি মোতায়েন করা সম্ভব, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।
এদিকে দ্য সানডে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা ব্রিটিশ ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রতিহত করতেও ব্যবহার করা হতে পারে।
জনমত রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA) এবং ন্যাশনাল ট্রাভেল হেলথ নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সেন্টার (NaTHNaC) হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের ভ্রমণের আগে এবং চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সময় MERS-CoV সহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হজ ও ওমরাহর মতো বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই ভ্রমণকারীদের নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা এবং সাধারণ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। NaTHNaC হজযাত্রীদের জন্য বিস্তারিত স্বাস্থ্য নির্দেশিকা প্রদান করে থাকে, যা নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সহায়ক।
MERS-CoV একটি শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস, যা জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। এটি সাধারণত প্রাণী, বিশেষ করে উট থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়, তবে মানুষে মানুষেও ছড়াতে পারে। যদিও যুক্তরাজ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের ঝুঁকি খুব কম এবং বর্তমানে সৌদি আরবে ভ্রমণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবুও সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। ভ্রমণের সময় বিশেষত খামার, পশুর বাজার বা উটের সংস্পর্শে আসার পর হাত ভালোভাবে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।
UKHSA হজযাত্রীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে: নিয়মিত সাবান ও পানি বা অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখা, কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু ব্যবহার করা এবং তা যথাযথভাবে ফেলা, ভিড়পূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনে মাস্ক পরা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি না যাওয়া এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাগাভাগি না করা। এছাড়া উট বা উটের বর্জ্য থেকে দূরে থাকা, কাঁচা দুধ বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা পশু খাদ্য গ্রহণ এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানকালীন বা যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর যদি জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার ১৪ দিনের মধ্যে এই উপসর্গ দেখা দিলে GP বা NHS 111-এ যোগাযোগ করে সাম্প্রতিক ভ্রমণের তথ্য জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
UKHSA-এর MERS-CoV বিষয়ক প্রধান ডা. রিচার্ড পিউলেস্টন বলেন, সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সময় উট এবং উটজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা এবং যথাযথ হাত ও শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।
NaTHNaC-এর পরিচালক ডা. দীপ্তি প্যাটেল জানান, হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য যাত্রা শুরু করার আগে স্বাস্থ্যবিধি, টিকা এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। তাদের প্রস্তুতকৃত তথ্যপত্র হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা এবং পরামর্শ প্রদান করে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সকল হজযাত্রীকে তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা নিরাপদ, সুস্থ এবং নির্বিঘ্নভাবে তাদের পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।