img

লন্ডনে ফার-রাইটবিরোধী বিশাল সমাবেশ

প্রকাশিত :  ১৫:১৭, ৩০ মার্চ ২০২৬

পার্ক লেন থেকে ট্রাফালগার স্কয়ার পর্যন্ত লাখো মানুষের মিছিল

লন্ডনে ফার-রাইটবিরোধী বিশাল সমাবেশ
লন্ডন, ২৮ মার্চ (শনিবার): পশ্চিম লন্ডনের পার্ক লেন এলাকায় শনিবার ফার-রাইট রাজনীতির বিরুদ্ধে এক বিশাল বিক্ষোভ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অ্যান্টি-ফার-রাইট সমাবেশগুলোর একটি, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
“স্টপ দ্য ফার রাইট” এবং “টুগেদার এগেইনস্ট হেট” স্লোগানে মুখর এই মিছিলটি পার্ক লেন থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার ও হোয়াইটহল পর্যন্ত অগ্রসর হয়। মিছিলে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং রাজনৈতিক কর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশের আয়োজক জোট Together Alliance জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ লন্ডনে এসে এতে যোগ দেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফার-রাইট রাজনীতির উত্থান এবং অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

পুলিশ ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশে হাল্ফ মিলিয়ন মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত বড় জনসমাগমের কারণে পার্ক লেন, পিকাডিলি ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
মিছিল শেষে ট্রাফালগার স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন বক্তা ফার-রাইট রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও মানবাধিকারের সুরক্ষার জন্য সমাজের সব স্তরের মানুষের একসঙ্গে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

এদিকে, লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। দিনভর বিক্ষোভ চললেও বড় ধরনের সহিংসতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি এবং সমাবেশ মূলত শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইউরোপজুড়ে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভ ব্রিটেনের জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। Sent from

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

পদত্যাগ করতে প্রস্তুত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

প্রকাশিত :  ১০:১৯, ১৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৩, ১৭ মে ২০২৬

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। এমনটাই নাকি তিনি জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ মহলকে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে রাজি আছেন, তবে তিনি তা ‘নিজের শর্তে’ করতে চান।

সূত্রটি জানায়, তিনি বুঝতে পারছেন বর্তমান পরিস্থিতির বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিন টেকসই নয়। তবে তিনি মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো সময়েই সরে দাঁড়াতে চান। এ জন্য তিনি একটি সময়সূচি ঘোষণা করবেন। 

সংকটে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার

ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে বর্তমানে সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার।  পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ এবং শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফল—সব মিলিয়ে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

সবশেষ ধাক্কা আসে স্টারমার মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে।

শনিবার স্ট্রিটিং জানান, ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজের প্রার্থিতা তুলে ধরবেন।

ভাষণে তিনি স্টারমারকে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি ‘সময়সূচি নির্ধারণ’র আহ্বানও জানান।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তাও দ্রুত কমছে। জরিপ সংস্থা ইউগোভের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক লেবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি “অসন্তুষ্ট” মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

ইউগভ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে স্টারমার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অনেকেই তার অবস্থার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মাত্র ৪৯ দিনের শাসনামলের তুলনা করছেন।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর