img

ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করতে পারে না : যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত :  ০৬:৩৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করতে পারে না : যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রাখতে পারে না। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে কোনোভাবেই ‘জিম্মি’ অবস্থায় রাখতে পারে না।

\r\n

এদিকে, জাতিসংঘের মাধ্যমে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, যুক্তরাজ্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের সমর্থক। ইরানকে অবশ্যই আঞ্চলিক হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যাবে না।

তিনি বলেন, ইরান প্রণালিকে জিম্মি করে রাখতে পারে না। তারা জাহাজে হামলা করতে পারে না, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের নিশানা করতে পারে না এবং পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করতে পারে না। তবে আমরা অবশ্যই কূটনৈতিক সমাধান চাই। আমরা চাই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকুক। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং ধারাবাহিক।

সংকট সমাধানে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত আছে এবং যুক্তরাজ্য এতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কারণ তারা প্রণালীটি পুনরায় খুলতে চায়। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করাকে লন্ডন ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রধান অগ্রাধিকার।

স্টিফেন ডাউটি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি, আমাদের অর্থনীতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের জন্য এই প্রণালী পুনরায় খোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন বজায় রাখতে যুক্তরাজ্য ফ্রান্স ও বাহরাইনসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে প্রণালিতে মুক্ত ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার থাকবে। এ নৌপথে কোনো শুল্ক বা নিরাপত্তা হুমকি চলবে না। নৌচলাচলের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য বর্তমানে প্রায় ৯০টি দেশের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। এ জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনা ও সামরিক-রাজনৈতিক সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

হজযাত্রীদের প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান

প্রকাশিত :  ১৮:২৯, ১৩ মে ২০২৬

জনমত রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA) এবং ন্যাশনাল ট্রাভেল হেলথ নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সেন্টার (NaTHNaC) হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের ভ্রমণের আগে এবং চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সময় MERS-CoV সহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হজ ও ওমরাহর মতো বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই ভ্রমণকারীদের নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা এবং সাধারণ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। NaTHNaC হজযাত্রীদের জন্য বিস্তারিত স্বাস্থ্য নির্দেশিকা প্রদান করে থাকে, যা নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সহায়ক।

MERS-CoV একটি শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস, যা জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। এটি সাধারণত প্রাণী, বিশেষ করে উট থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়, তবে মানুষে মানুষেও ছড়াতে পারে। যদিও যুক্তরাজ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের ঝুঁকি খুব কম এবং বর্তমানে সৌদি আরবে ভ্রমণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবুও সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। ভ্রমণের সময় বিশেষত খামার, পশুর বাজার বা উটের সংস্পর্শে আসার পর হাত ভালোভাবে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

UKHSA হজযাত্রীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে: নিয়মিত সাবান ও পানি বা অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখা, কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু ব্যবহার করা এবং তা যথাযথভাবে ফেলা, ভিড়পূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনে মাস্ক পরা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি না যাওয়া এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাগাভাগি না করা। এছাড়া উট বা উটের বর্জ্য থেকে দূরে থাকা, কাঁচা দুধ বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা পশু খাদ্য গ্রহণ এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে অবস্থানকালীন বা যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর যদি জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার ১৪ দিনের মধ্যে এই উপসর্গ দেখা দিলে GP বা NHS 111-এ যোগাযোগ করে সাম্প্রতিক ভ্রমণের তথ্য জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

UKHSA-এর MERS-CoV বিষয়ক প্রধান ডা. রিচার্ড পিউলেস্টন বলেন, সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সময় উট এবং উটজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা এবং যথাযথ হাত ও শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

NaTHNaC-এর পরিচালক ডা. দীপ্তি প্যাটেল জানান, হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য যাত্রা শুরু করার আগে স্বাস্থ্যবিধি, টিকা এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। তাদের প্রস্তুতকৃত তথ্যপত্র হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা এবং পরামর্শ প্রদান করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সকল হজযাত্রীকে তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা নিরাপদ, সুস্থ এবং নির্বিঘ্নভাবে তাদের পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর