img

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর

প্রকাশিত :  ১৭:৩২, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১১, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর

ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধে জড়ানোকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস। ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আগের চেয়ে নিরাপদ করেছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি মোটেও নিশ্চিত নন। 

আজ বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাচেল রিভস বলেন, ‘বর্তমান সংকট নিরসনে একটি কূটনৈতিক পথ খোলা ছিল, আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছিল। কিন্তু সেই আলোচনার পথ বন্ধ করে যুদ্ধে জড়ানো একটি বড় ভুল।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটি ইরান সরকারকে পছন্দ বা অপছন্দ করার নয়, প্রশ্ন হলো- আপনি যে পরিবর্তন চাইছেন, সেটি অর্জনের উপায় কী?’ তবে ইরান সরকারকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করেন বলে এ সময় উল্লেখ করেন রিভস।

ব্রিটিশ চ্যান্সেলর জানান, বিশ্ব আগে যে অবস্থায় ছিল, যুদ্ধের পর পরিস্থিতি তার চেয়ে নিরাপদ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। 

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, তার সামরিক অভিযানে ইরান প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পর দেশটির চ্যান্সেলর রাচেল রিভসের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত নিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অস্বস্তি ও দ্বিমত কাজ করছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনে মাটিতে ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে নতুন টানাপড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।  সূত্র: বিবিসি


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নাক না গলাতে মাস্ককে সতর্ক করলেন স্টারমার

প্রকাশিত :  ১৯:৩০, ০৫ জুন ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এর মালিক ও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ককে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র জনরোষ ও বিক্ষোভের জন্ম দেওয়া একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মাস্ক এক্সে বিতর্কিত পোস্ট করার পর গতকাল বৃহস্পতিবার স্টারমার এ হুঁশিয়ারি দেন।

একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। গত বছর হেনরি নোয়াক নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ ছুরিকাঘাতে আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার পর হামলাকারী দাবি করেন, হেনরি প্রথমে তাঁর ওপর বর্ণবাদী হামলা চালিয়েছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিটিশ পুলিশ গুরুতর আহত হেনরিকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে উল্টো হাতকড়া পরিয়ে রাখে। পরে হেনরির মৃত্যু হয়।

একপর্যায়ে জানা যায়, হত্যাকারীর ওই অভিযোগ মিথ্যা ছিল। গত সোমবার শিখ সম্প্রদায়ের ওই হত্যাকারীর সাজা ঘোষণা করা হয়।

আদালতের রায় ঘোষণার পর পুলিশের সেই অভিযানের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, মুমূর্ষু ও নির্দোষ নোয়াকের আকুতি আমলেই নিচ্ছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। ভিডিওটি সামনে আসার পর যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক ঝড় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে পুলিশ কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দেন ইলন মাস্ক।

কিয়ার স্টারমার বলেন, এ ঘটনায় পুলিশকে জবাবদিহি করতে হবে। তবে ওই ঘটনায় বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, একটি মৃত্যুকে পুঁজি করে উত্তেজনা ছড়ানোর এ চেষ্টা ‘ক্ষমার অযোগ্য’।

সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, ‘মাস্ক কয়েক দিন ধরে আবার আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন এবং বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য এভাবে চলে না।’

স্টারমারের এ বক্তব্যের বিষয়ে এক্স কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের এমন অভিযোগ এমন এক সময় সামনে এল, যখন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স মার্কিন শেয়ারবাজারে সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) ছাড়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ মাস্কের

এক্সে দেওয়া পোস্টে ইলন মাস্ক ইঙ্গিত করেন, ব্রিটিশ পুলিশ শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করে। পাশাপাশি পুলিশি অভিযানের সমালোচনা করে অন্য ব্যবহারকারীদের করা বেশ কিছু মন্তব্যও তিনি রিপোস্ট করেন।

গত বুধবার এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘পাশ্চাত্য এক চরম ক্ষতিকর রাষ্ট্রীয় ধর্ম তৈরি করেছে, যেখানে কাউকে বর্ণবাদী বলাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়! এমনকি ধর্ষণ বা খুনের চেয়ে একে বড় অপরাধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে!’

অবশ্য পুলিশ ও ব্রিটিশ সরকার পুলিশি ব্যবস্থায় এমন বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

নিহত তরুণের পরিবার গতকাল কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করে। পুলিশের এমন আচরণকে ‘অমানবিক ও অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করলেও আদালতের রায়ের পর পরিবারটি বলেছে, নোয়াকের মৃত্যুকে যেন নতুন করে কোনো বিভেদ, ঘৃণা বা উত্তেজনা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।’

আগেও মাস্কের সমালোচনা করেছিলেন স্টারমার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ইলন মাস্কের এ দ্বন্দ্ব নতুন নয়। আগেও একাধিকবার স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এই ধনকুবের। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

মাস্ক দাবি করেন, ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি থাকার সময় স্টারমার তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। মূলত ওই সময়ে তরুণীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো একটি অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মাস্ক, যাঁদের অধিকাংশ ছিলেন দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত।

অবশ্য স্টারমার সেই সময়ে নেওয়া তাঁর আইনি পদক্ষেপ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে আসছেন।

এর বাইরেও স্টারমার তাঁর লেবার পার্টির এক নারী সংসদ সদস্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যিনি মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ওই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, মাস্কের গ্রোক এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাঁর বিকৃত ও আপত্তিকর ভুয়া ছবি তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এর আগেও গ্রোক এআইয়ের মাধ্যমে এমন ছবি তৈরির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের আইন মেনে চলতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছিল এক্স কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর