img

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামাতে যুক্তরাজ্য-জাপানসহ ১০ দেশের আহ্বান

প্রকাশিত :  ০৭:১২, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামাতে যুক্তরাজ্য-জাপানসহ ১০ দেশের আহ্বান

লেবাননে চলমান ভয়াবহ সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান মানবিক বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সেখানে বৈরিতা অবসানের আহ্বান জানিয়েছে  যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ বিশ্বের ১০টি দেশ। 

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। 

বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, সিয়েরা লিওন, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি চরম মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় তারা কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং মানবিক সহায়তা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।

বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ না করলেও শান্তিরক্ষীদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার তিন শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার পর এই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়।

জাতিসংঘের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন শান্তিরক্ষী ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় এবং অন্য দুজন হিজবুল্লাহর পেতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২ মার্চ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সূত্র ধরে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে ইসরায়েল লেবাননের ওপর বিমান হামলা এবং পরবর্তীতে স্থল অভিযান শুরু করে। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক এই জোটটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, মূল সংঘাতের পাশাপাশি লেবাননের এই অংশটিও বৈরিতা অবসানের আওতায় আসা জরুরি। 

ইরান দাবি করেছে, যেকোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। তবে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত লেবাননে যুদ্ধবিরতির আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং বৈরুতকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের ২ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননের সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ১০টি দেশের এই যৌথ অবস্থান মূলত বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি করছে যাতে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হয়। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও লেবানন সংকট নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য না হওয়ায় উদ্বেগ কাটছে না। মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের জানমাল রক্ষার স্বার্থে লেবাননের সীমান্তে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ব্রিটেন থেকে ইসরায়েলে পাঠানো অস্ত্রের চালান জব্দ করলো বেলজিয়াম

প্রকাশিত :  ০৫:৩১, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ব্রিটেন থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো সামরিক যন্ত্রাংশের দুটি চালান বেলজিয়ামে জব্দ করা হয়েছে। ইসরায়েলের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী কোনো উড়োজাহাজ বেলজিয়ামের মাটি স্পর্শ করা বা দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

গত মাসে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডিক্লাসিফাইড, বেলজিয়ান এনজিও ভ্রেইডেসাক্টি, আইরিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডিচ এবং প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট বেলজিয়ামের লিয়েজ বিমানবন্দর হয়ে ইসরায়েলে অস্ত্র যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্রাসেলস কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল। এর পরেই গত ২৪ মার্চ লিয়েজ বিমানবন্দরে তল্লাশি চালিয়ে এই চালানগুলো জব্দ করা হয়, যা আগের দিন যুক্তরাজ্য থেকে রওয়ানা হয়েছিল।

বেলজিয়ামের এক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী জব্দ করা মালামাল পরীক্ষা করে সেখানে অগ্নিনির্বাপক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ খুঁজে পেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই মালামালগুলো যথাযথভাবে ঘোষণা দিয়ে পাঠানো হয়নি। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। 

যদিও তদন্তের স্বার্থে জড়িত সংস্থাগুলোর নাম প্রকাশ করতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে যে, এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হলো আমেরিকান অ্যারোস্পেস কোম্পানি ‘মুগ’। এই কোম্পানির যুক্তরাজ্যের উলভারহ্যাম্পটনে অবস্থিত কারখানা থেকে এর আগেও গত ডিসেম্বরে বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল।

তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই যন্ত্রাংশগুলো যুক্তরাজ্যের একটি ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্সের আওতায় রপ্তানি করা হচ্ছিল এবং এগুলোকে সামরিক সরঞ্জামের পরিবর্তে সাধারণ ‘বিমানের যন্ত্রাংশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মুগ কোম্পানি থেকে অন্তত ১৭টি চালান একইভাবে যুক্তরাজ্য থেকে লিয়েজ বিমানবন্দর হয়ে ইসরায়েলের পথে গিয়েছে।

মুগ মূলত এম-৩৪৬ বিমানের অ্যাকচুয়েটর তৈরি করে, যা ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। একটি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় জানা গেছে, বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো নথিপত্র নেই।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করেছিল। গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, গাজায় সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে এমন সব সরঞ্জামের লাইসেন্স স্থগিত রয়েছে, তবে এফ-৩৫ প্রোগ্রামের জন্য বিশেষ কিছু ছাড় রয়েছে। 

অন্যদিকে ওয়্যালুন সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, জব্দ করা এই মালামাল পরিবহনের জন্য অবশ্যই ট্রানজিট লাইসেন্সের প্রয়োজন ছিল। বেলজিয়াম সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো ট্রানজিট লাইসেন্সের আবেদন করা হয়নি; আবেদন করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতো।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর