img

হজযাত্রীদের প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান

প্রকাশিত :  ১৮:২৯, ১৩ মে ২০২৬

হজযাত্রীদের প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান

জনমত রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA) এবং ন্যাশনাল ট্রাভেল হেলথ নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সেন্টার (NaTHNaC) হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের ভ্রমণের আগে এবং চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সময় MERS-CoV সহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হজ ও ওমরাহর মতো বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই ভ্রমণকারীদের নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা এবং সাধারণ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। NaTHNaC হজযাত্রীদের জন্য বিস্তারিত স্বাস্থ্য নির্দেশিকা প্রদান করে থাকে, যা নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সহায়ক।

MERS-CoV একটি শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস, যা জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। এটি সাধারণত প্রাণী, বিশেষ করে উট থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়, তবে মানুষে মানুষেও ছড়াতে পারে। যদিও যুক্তরাজ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের ঝুঁকি খুব কম এবং বর্তমানে সৌদি আরবে ভ্রমণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবুও সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। ভ্রমণের সময় বিশেষত খামার, পশুর বাজার বা উটের সংস্পর্শে আসার পর হাত ভালোভাবে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

UKHSA হজযাত্রীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে: নিয়মিত সাবান ও পানি বা অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখা, কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু ব্যবহার করা এবং তা যথাযথভাবে ফেলা, ভিড়পূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনে মাস্ক পরা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি না যাওয়া এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাগাভাগি না করা। এছাড়া উট বা উটের বর্জ্য থেকে দূরে থাকা, কাঁচা দুধ বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা পশু খাদ্য গ্রহণ এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে অবস্থানকালীন বা যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর যদি জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার ১৪ দিনের মধ্যে এই উপসর্গ দেখা দিলে GP বা NHS 111-এ যোগাযোগ করে সাম্প্রতিক ভ্রমণের তথ্য জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

UKHSA-এর MERS-CoV বিষয়ক প্রধান ডা. রিচার্ড পিউলেস্টন বলেন, সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সময় উট এবং উটজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা এবং যথাযথ হাত ও শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

NaTHNaC-এর পরিচালক ডা. দীপ্তি প্যাটেল জানান, হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য যাত্রা শুরু করার আগে স্বাস্থ্যবিধি, টিকা এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। তাদের প্রস্তুতকৃত তথ্যপত্র হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা এবং পরামর্শ প্রদান করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সকল হজযাত্রীকে তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা নিরাপদ, সুস্থ এবং নির্বিঘ্নভাবে তাদের পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

সাইকেলের শহর হচ্ছে লন্ডন, ব্যবহার বেড়েছে ৪৩ শতাংশ

প্রকাশিত :  ১০:১৬, ১৭ জুন ২০২৬

ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে গত কয়েক বছরে সাইকেল ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে শহরটিতে সাইকেল ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। তবে এত উদ্যোগের পরও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার প্রায় আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লন্ডনে গাড়িতে ভ্রমণের হার প্রায় ২০১৮ সালের সমান রয়েছে। অর্থাৎ, সাইকেল ও গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়লেও ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর মানুষের নির্ভরতা তেমন কমেনি।

পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে লন্ডন দীর্ঘদিন ধরে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। শহরটিতে যানজট নিরসনে বিশেষ ফি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় ‘কম যানবাহন অঞ্চল’ গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল সীমিত করা হয়েছে। হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

বর্তমানে লন্ডনে মোট যাতায়াতের প্রায় এক-চতুর্থাংশই মানুষ হেঁটে সম্পন্ন করে। শহরের রাস্তায় সাইকেল আরোহীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। এছাড়া হাজার হাজার বাস, যেগুলো বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক এবং বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে লন্ডনের উদ্যোগ এখনো যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, সাইকেল ব্যবহারের হার বাড়লেও এটি এখনো মোট যাতায়াতের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসে প্রায় ২৭ শতাংশ যাতায়াত সাইকেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সূত্র : পেল্টিজেনডটকম

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর