img

রবিন হুড সিরিজে দেখানো সেই ওক গাছটি মারা গেছে

প্রকাশিত :  ০৮:৩১, ১৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৫৬, ১৮ জুন ২০২৬

রবিন হুড সিরিজে দেখানো সেই ওক গাছটি মারা গেছে

বিখ্যাত ইংলিশ সিরিজ রবিন হুডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ওক গাছ ‘মেজর ওক’ মারা গেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও লোককাহিনীর অংশ হয়ে থাকা গাছটিতে এবার আর নতুন পাতা মেলেনি।

ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ারের শেরউড অরণ্যের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মেজর ওক গাছটির বয়স প্রায় ৮০০ থেকে ১,২০০ বছর বলে ধারণা করা হয়। বনাঞ্চলটির ব্যবস্থাপনায় থাকা সংস্থা আরএসপিবি জানিয়েছে, চলতি বসন্তে গাছটিতে কোনো নতুন পাতা না গজানোয় এটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিন ধরেই গাছটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ, খরা এবং বিপুলসংখ্যক পর্যটকের পদচারণায় গাছের চারপাশের মাটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় এর স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন উডল্যান্ড ট্রাস্ট, যারা ২০১৪ সালে মেজর ওককে ‘বর্ষসেরা বৃক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল, তারা বলেছে যে অতিরিক্ত পর্যটনও গাছটির মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ সংরক্ষণ উপদেষ্টা এড পাইনের ভাষায়, “মেজর ওকের মৃত্যু আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আজ আমরা যেভাবে প্রাচীন গাছগুলোর যত্ন নিচ্ছি, তাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেগুলোকে টিকে থাকতে দেখবে কি না, তা তার ওপরই নির্ভর করছে।”

ঐতিহাসিক এই গাছটি নরম্যান বিজয়ের সময়কাল থেকে দাঁড়িয়ে ছিল বলে ধারণা করা হয়। একসময় দর্শনার্থীরা গাছটির একেবারে কাছে যেতে পারতেন, এমনকি এর বিশাল ফাঁপা কাণ্ডের ভেতরেও প্রবেশ করতেন। তবে ১৯৭০-এর দশকে গাছটির চারপাশে বেড়া নির্মাণ করা হয় এবং এরপর থেকে দূর থেকেই এটি দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়।

আরএসপিবির স্থানীয় সাইট ব্যবস্থাপক হলি ড্রেক গাছটির মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “মেজর ওকের আর কোনো পাতা না আসা সত্যিই হৃদয়বিদারক। তবে রবিন হুড ও শেরউড অরণ্যের সঙ্গে এর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কারণে এটি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি মেজর ওক ভবিষ্যতেও বন্যপ্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করবে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেবে কেন এ ধরনের অসাধারণ প্রাচীন গাছ সংরক্ষণ করা জরুরি।”

যদিও গাছটি আর জীবিত নেই, তবুও এর উত্তরাধিকার টিকে থাকবে। মেজর ওকের বীজ ও ডাল থেকে নতুন চারা উৎপাদন করা হয়েছে এবং সেসব চারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা হয়েছে। ফলে ইতিহাসখ্যাত এই বৃক্ষের স্মৃতি ও উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্মের কাছেও বেঁচে থাকবে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

পূর্ব লন্ডনের আইল অব ডগসে ডুবে প্রাণ গেল ১৪ বছরের কিশোরের

প্রকাশিত :  ০৮:৪৬, ০৬ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৮, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

লন্ডনের মিলওয়াল আউটার ডকে ডুবে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কিশোরটি পানিতে নামার পর ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও কয়েক ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে পূর্ব লন্ডনের ইস্ট ফেরি রোডের কাছে অবস্থিত মিলওয়াল আউটার ডকে এক ১৪ বছর বয়সী কিশোর পানিতে প্রবেশ করেছে, এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশ, লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড যৌথভাবে কিশোরটিকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালায়। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে তাকে পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও পরে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরের স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অপ্রত্যাশিত মৃত্যু হিসেবে দেখা হলেও এতে কোনো সন্দেহজনক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট অলিভার রিখটার বলেন, “এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে আমাদের ভাবনা ওই কিশোরের পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে রয়েছে। উষ্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় সবাইকে মনে রাখতে হবে যে খোলা জলাশয় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও সাঁতার না কাটার এবং শিশু ও তরুণদের পানির আশপাশে নিরাপদ থাকার বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এ ঘটনায় স্থানীয় এমপি আপসানা বেগমও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “স্থানীয় জলাশয়গুলো দেখতে নিরাপদ মনে হলেও এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁতারের জন্য নির্ধারিত এলাকায় এবং যেখানে লাইফগার্ড দায়িত্বে থাকেন, সেখানেই সাঁতার কাটা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “মিলওয়াল আউটার ডকে গত রাতে এক শিশুর ডুবে মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আমার চিন্তা ও প্রার্থনা তার পরিবার এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে রয়েছে।”

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর