img

যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত :  ০৮:০৪, ২৭ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাজ্য

ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা দেশগুলোর প্রতি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। সতর্কবার্তায় বিশেষভাবে যুক্তরাজ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করে তাদের ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

\r\n

অন্যদিকে, মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েন নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারির জবাবে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে নিজেদের জনগণ, জাতীয় স্বার্থ ও মিত্রদের সুরক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের কাছে লন্ডনে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে, কিন্তু সেটি সম্ভবত নির্ভুল হবে না এবং ঝুঁকি কম।

বার্তা সংস্থা রয়র্টাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমানকে উড়তে না দেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করার পর ব্রিটেন বলেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।

সম্প্রতি মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে যুক্তরাজ্য, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো কিংবা অন্য যেকোনো দেশ ইরানের ‘বৈধ’ও নিশ্চিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। 

তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ইসলামী রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ইরান যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে। 

আইআরজিসি দাবি করেছে, যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বা উত্তেজনা মোকাবিলা করার জন্য তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি তৈরি করে রেখেছে। এই বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অঞ্চলটিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা তীব্র। ইরান মূলত এই অঞ্চলে পশ্চিমা ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে এই প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিয়েছে।

হোসেইন মোহেব্বি আরও বলেন, ‘প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।’ আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ অভিযান চালিয়েছে। এ ধরনের হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি

এদিকে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে গত সপ্তাহে জানানো হয়েছে, লন্ডন একটি বিদ্যমান চুক্তিতে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলের সম্মিলিত আত্মরক্ষার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাজ্যকে যেকোনো ধরনের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রস্তুত, তা আমাদের মাটিতেই হোক বা বিদেশ থেকে।’ এর মধ্যে রয়েছে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার জন্য একটি স্তরভিত্তিক কৌশল পরিচালনা করা। এটি রয়্যাল নেভি, ব্রিটিশ আর্মি এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বিভিন্ন উন্নত সক্ষমতাসম্পন্ন সরঞ্জাম দ্বারা সরবরাহ করা হয় যা ন্যাটো মিত্রদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।’

মার্কিন প্রতিরক্ষা অভিযানে সমর্থন দিতে সম্মত 

রয়টার্স বলছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা অভিযানে সমর্থন দিতে সম্মত হয়েছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, বিদ্যমান এই ব্যবস্থার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সক্ষমতা দুর্বল করার মার্কিন প্রতিরক্ষা অভিযান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই সপ্তাহ ধরে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে। তেহরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে গুলি চালিয়েছে। গত মার্চ মাসে, ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন-যুক্তরাজ্য সামরিক ঘাঁটিতে ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে জানা গেছে। তবে কোনোটিই লক্ষ্যে আঘাত হানেনি। ২ মার্চ দক্ষিণ সাইপ্রাসে ব্রিটেনের আক্রোতিরি বিমানঘাঁটি ইরানি একটি শাহেদ ড্রোনের আঘাতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের অভিযোগ

ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে সাইবার হামলা চালানো এবং যুক্তরাজ্যে বিরোধী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তু করতে অপরাধী চক্র ও প্রক্সি ব্যবহার করার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত এক বছরে ইরান-সমর্থিত ২০টি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র হয়েছে। রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রক্সিদের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মোকাবিলার জন্য আনা নতুন ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্রিটেন এই মাসে আইআরজিসিকে সমর্থন নিষিদ্ধ করেছে। লন্ডনে ইহুদি স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

ব্রিটিশ সরকার বলেছে, এই হামলাগুলোর বেশ কয়েকটির জন্য দায়ী বলে মনে করা একটি দলকে। আইআরজিসি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ তাদের নির্দেশ দিয়েছিল। লন্ডনে একটি ফার্সি ভাষার গণমাধ্যমে কর্মরত এক সাংবাদিককে ছুরিকাঘাত করার দায়ে চলতি মাসে দুই রোমানিয়ান নাগরিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাদের সম্পর্কে প্রসিকিউটররা বলেছেন, তারা ইরানের হয়ে কাজ করছিল। তেহরান বরাবরই এই ধরনের হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ইউক্রেন যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান

প্রকাশিত :  ০৭:০৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে ৫ লাখেরও বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। নাইটনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরুর পর থেকে এই প্রাণহানিযুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা স্টাফের প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার মোট সেনা হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

যুক্তরাজ্যের এই হিসাব ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি রুশ কর্তৃপক্ষ।

বড় সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে রাশিয়া। পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রুশ সশস্ত্র বাহিনী বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামও হারিয়েছে বলে জানান নাইটন। তার হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়া ১০ হাজারের বেশি সাঁজোয়া ও সুরক্ষিত যান, প্রায় ৩ হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা ও কামান ব্যবস্থা এবং ৩৭০টির বেশি উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে।

তবে ইউক্রেনের কত সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো হিসাব দেননি নাইটন। মস্কো ও কিয়েভের কোনো পক্ষই নিয়মিতভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।

এদিকে শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কিয়েভের সড়কপাশের জ্বালানি স্টেশনগুলোতে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, বেসামরিক মানুষকে আতঙ্কিত করতে মস্কো তাদের বিমান হামলার পরিধি বাড়িয়েছে।

কিয়েভে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি উক্রনাফতার দুটি স্টেশনে হামলা হয়। এর একটিতে দুইজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটর কার্যালয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের শহরাঞ্চলের জ্বালানি স্টেশনগুলোতে রুশ হামলা বেড়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের সম্মুখসারির কাছাকাছি অঞ্চলে এসব হামলা বেশি হচ্ছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের মতে, বেসামরিক জীবন ব্যাহত ও মানুষের মনোবল দুর্বল করার বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রেও হামলা রয়েছে, যার ফলে কিয়েভের কিছু সুপারমার্কেটের তাক মাঝে মাঝে খালি হয়ে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বৃহস্পতিবার রাতে এক্সে বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে এমন জায়গাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে যেখানে মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজ করতে যায়। এর উদ্দেশ্য হতাহতের সংখ্যা বাড়ানো, আতঙ্ক ছড়ানো এবং ইউক্রেনীয় সমাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে জ্বালানি স্টেশনসহ খোলা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে অবস্থান না করতে বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়ার আগ্রাসন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করায় ইউক্রেন জরুরি ভিত্তিতে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার কানাডার কাছ থেকেও আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে কিয়েভ।

অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালানোর অভিযানও জোরদার করেছে ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, সাইবেরিয়ায় ৩ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে তারা। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য। ইউক্রেনীয় হামলার কারণে রাশিয়ায় জ্বালানি সংকটও তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার গবেষণা কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য রপ্তানি রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে মস্কো দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি করছে।

ফিনল্যান্ডভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার জানায়, রাশিয়ার তেল শোধন সক্ষমতায় ইউক্রেনীয় হামলার কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে। একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলজাত পণ্য রপ্তানিকারক রাশিয়া এখন জ্বালানি আমদানি শুরু করেছে। আগস্টে দেশটির জ্বালানি আমদানি বেড়ে ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা আগের মাসিক সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেন বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চলের পাশাপাশি দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং আজভ ও ক্যাস্পিয়ান সাগরের ওপর ৭৭৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

মস্কোর দক্ষিণে তুলা অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে শুক্রবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সারাতভে একটি তেল শোধনাগারে রাতের ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে রুশ স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম আস্ত্রা। ইউক্রেন এর আগেও একাধিকবার ওই শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গত আগস্টের শুরুতে সেখানে হামলা হয়েছিল।

সারাতভ শহরের একটি লজিস্টিকস স্থাপনাতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজোন। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওজোনের প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাতেও এর আগে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাতভর দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার আটটি অঞ্চলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে সারাতভ অঞ্চলের একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ও তেল শিল্পের একটি স্থাপনাও রয়েছে।

শুক্রবার এক্সে জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার রাশিয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া।

সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর