img

অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতির জড়তা ভেঙেছেন মিলিব্যান্ড

প্রকাশিত :  ০৬:৩৯, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতির জড়তা ভেঙেছেন মিলিব্যান্ড

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে কয়েক দশক ধরে উদ্বেগ জানিয়ে এলেও এতদিন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি যুক্তরাজ্য। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড দীর্ঘদিনের এই নীতিগত জড়তা কাটিয়ে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বছরের পর বছর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে প্রায় একই ধরনের উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে আসছিলেন। এমনকি কয়েকজন সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রীও পরে স্বীকার করেছেন, এসব বিবৃতি বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনেনি।

সাবেক মন্ত্রী অ্যালান ডানকান একসময় বসতি প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে দুর্বল ও সরল বলে মন্তব্য করেছিলেন। আরেক সাবেক মন্ত্রী অ্যালিস্টেয়ার বার্ট বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, কীভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিয়েই নিন্দা জানানোর নতুন নতুন কূটনৈতিক ভাষা খুঁজে বের করে।

দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইসরায়েলের অনাগ্রহ বাড়তে থাকলেও বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে ব্রিটেন এত দিন কার্যকর নীতি নিতে পারেনি। ১৯৬৭ সালের পর ইসরায়েলি প্রশাসনের অধীনে চলে যাওয়া ভূখণ্ড থেকে আসা পণ্যে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তির আওতায় অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা ছিল না। ব্যবসায়ীদেরও বসতি এলাকায় বাণিজ্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করেছে।

এসব বিষয়ে আইনি জটিলতাও ছিল। যুক্তরাজ্যের প্রচলিত নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও শুধু ইসরায়েলি বসতি নির্মাণে কাজ করার কারণে কোনো ঠিকাদারকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা যেত না।

এই নৈতিক ও আইনি জটিলতার মধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন মিলিব্যান্ড, যিনি নিজেও একজন ইহুদি। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি বলেন, আরও মানুষের দুর্ভোগ এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের প্রক্রিয়ার সামনে যুক্তরাজ্য নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।

মিলিব্যান্ডের অবস্থানের পেছনে তার ব্যক্তিগত ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে ক করা হচ্ছে। তার মা ম্যারিয়ন কোজাক ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হলোকাস্ট তথা ইহুদি নিধন থেকে বেঁচে যাওয়া একজন নারী, যিনি পরে ইসরায়েলে চলে যান। ফলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে বেড়ে ওঠা এবং ইহুদিবিদ্বেষের শিকার মানুষের প্রতি সহমর্মিতা মিলিব্যান্ডকে ইসরায়েলের একজন ‘সমালোচনামূলক বন্ধু’ হিসেবে কথা বলার বিশেষ অবস্থান দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ব্রিটিশ লেবার সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইহুদিবিদ্বেষে আক্রান্ত’ হওয়ার অভিযোগ তুললেও মিলিব্যান্ডের অবস্থান ভিন্ন। তার যুক্তি, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং পূর্ণাঙ্গ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান।

মিলিব্যান্ড আরও বলেছেন, ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো ইহুদি জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা ইহুদিবিদ্বেষেরই একটি রূপ।

পশ্চিম তীরে চলমান পরিস্থিতিকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করা প্রথম ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে এমন কর্মকাণ্ডে চোখ বন্ধ রাখার অভিযোগও তুলেছেন।

২০২৪ সালের জুনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে বেআইনি বলে যে পরামর্শমূলক মতামত দিয়েছিল, সেটির বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের দীর্ঘ বিলম্বেরও অবসান ঘটান মিলিব্যান্ড। তিনি স্বীকার করেন, শুধু বসতি নয়, পুরো দখলদারিত্বই আইসিজের মতামতে বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই অবস্থান যুক্তরাজ্যের ওপর দখলদারিত্বে সহায়তা না করার আরও শক্তিশালী দায় তৈরি করতে পারে। এ কারণেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবৈধ বসতিগুলোর জন্য বিমা সরবরাহের মতো কিছু সেবাও রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দ্য গার্ডিয়ান দেখছে ফ্রান্স ও কানাডাকে একই ধরনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় যুক্ত করার উদ্যোগকে। এতে ইসরায়েলের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিচ্ছিন্নতাও আরও স্পষ্ট হতে পারে।

তবে মিলিব্যান্ডের উদ্যোগের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে বলে মনে করে দ্য গার্ডিয়ান। গাজায় গণহত্যা হয়েছে কি না, সে সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আদালতের ওপরই ছেড়ে দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। একইভাবে গাজায় জাতিগত নিধনের বিষয়ে প্রমাণ বাড়লেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থেকে রক্ষার জন্যও ব্রিটেন কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

এ ছাড়া ইসরায়েলের কাছে ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রেও পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ বিক্রির ক্ষেত্রে একটি ছাড় বহাল রয়েছে। মিলিব্যান্ডের যুক্তি, এসব যুদ্ধবিমান দখলদারিত্বে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করে ন।

মিলিব্যান্ড বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস বা বিডিএস আন্দোলনেরও সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই আন্দোলন পুরো ইসরায়েলি অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে, শুধু দখলকৃত অঞ্চলকে নয়।

দ্য গার্ডিয়ানের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নে প্রায় নয় মাস সময় লাগতে পারে। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর নিষেধাজ্ঞা আরোপের তুলনায় এটিও ধীরগতির।

তবু সাবেক মন্ত্রী অ্যালান ডানকান ভলেন, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসের মুখে ব্রিটিশ সরকারের এমন পদক্ষেপ নজিরবিহীন নৈতিক সাহসের পরিচয় দিয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ, এই নীতির কারণে হোয়াইট হাউস থেকে পাল্টা চাপ আসার ঝুঁকি রয়েছে। তবে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পর ট্রাম্প প্রশাসন নিজেই রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে থাকায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে কতটা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তার পর মিলিব্যান্ড ঝুঁকি নিয়েছেন। যখন গাজায় বিপুল প্রাণহানি ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান যখন চরম সংকটে, তখন এমন ঝুঁকি নেওয়ার সময়ই হয়তো এসেছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও সহিংসতা হ্রাস: যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদন

প্রকাশিত :  ১৯:১৯, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলির পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও বেড়েছে এবং সহিংসতা কমেছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করা এবং সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে প্রতিবেদনটিতে।

‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেল নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই প্রতিবেদন সংক্রান্ত তথ্য ও বক্তব্য তুলে ধরে একটি পোস্ট দিয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৭ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে তথ্য-অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট দল সিপিআইটি। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক ও গবেষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও উন্নতি ঘটেছে। বিশেষ করে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এ নির্বাচনে সহিংসতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাসের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বর্তমানে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। পাশাপাশি নিজেদের মতামত প্রকাশ ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগও বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্যে আগের সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা তথ্য-অনুসন্ধান মিশনকে জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বড় বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তারা তুলে ধরেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যেসব রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলো সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, এসব ঘটনার সঙ্গে প্রায়ই স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পত্তি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো জড়িত থাকে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। এতে বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত ২১ হাজারেরও বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম, জবাবদিহি ও সংস্কারের বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগের সময়ের তুলনায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সাধারণ নাগরিকদের নিজেদের মতামত প্রকাশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং জনআলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলি এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

এতে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলোর চলমান পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর