ব্রিটেনের বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির
ব্রিটেনের একটি চিড়িয়াখানা। চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে দর্শনার্থীরা। নিরাপদ দূরত্ব থেকে বাঘ দেখার জন্য তৈরি বিশেষ ব্যবস্থা। কিন্তু তার মধ্যেই ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ব্রিটেনে। বাঘের খাঁচার ভিতরে ঢুকে পড়লেন এক ব্যক্তি। তারপর? হিংস্র প্রাণীটির হামলায় প্রাণ হারালেন তিনি। ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় ঢুকেছিলেন? কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক পরিণতি?
কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা?
পরপর ১১ টা সাইক্লোন ! সমুদ্রের উপর তৈরি হবে মহাপ্রলয়? কাদের বড় বিপদ? বড় আপডেট আবহবিদদের
ব্রিটেনের ইংল্যান্ডে ডনকাস্টারের কাছে অবস্থিত ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে এই ঘটনা ঘটে গত ১০ অক্টোবর, শনিবার। দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট নাগাদ পার্কের বাঘের খাঁচায় এক ব্যক্তির প্রবেশের খবর আসে তাদের কাছে।
এর পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জরুরি পরিষেবার কর্মীরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করার পর চিকিৎসাকর্মীদের চেষ্টা সত্ত্বেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনা হয়নি মৃত ব্যক্তির পরিচয়।
ভিডিয়োয় কী দেখা গিয়েছে?
ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গাঢ় রঙের পোশাক পরা এক ব্যক্তি বাঘের খাঁচার ভিতরে ঘাসের উপর বসে রয়েছেন। বাঘটি গর্জন করতে করতে তাঁর দিকে এগিয়ে আসে। একসময় ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর উপর।
ভিডিয়োয় ওই ব্যক্তিকে পালানোর চেষ্টা করতেও দেখা যায়। কিন্তু বাঘের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি। তবে কীভাবে তিনি খাঁচার ভিতরে প্রবেশ করলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে পার্কের ভিতরে থাকা দর্শনার্থীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক। পরদিন, রবিবারও পার্ক বন্ধ ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিবার ও পরিজনদের প্রতি তাদের গভীর সমবেদনা রয়েছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর বাঘটি নিজের খাঁচার ভিতরেই ছিল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই বলেও জানানো হয়েছে।
মানুষকে মেরে ফেলল বাঘ, তবু কেন বাঁচিয়ে রাখা হবে প্রাণীটিকে?
ঘটনার পর বাঘটিকে মেরে ফেলা উচিত কি না, তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। তবে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিপন্ন প্রজাতির আমুর বাঘ অলতাইকে মেরে ফেলা হবে না। কর্তৃপক্ষের দাবি, বাঘটি নিরাপদে রয়েছে এবং এই ঘটনার জেরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পার্কের ‘ল্যান্ড অফ দ্য টাইগার্স’ এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ উঁচু পথ রয়েছে, যেখান থেকে দর্শনার্থীরা বাঘের বিচরণক্ষেত্র দেখতে পারেন। সেই সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে ওই ব্যক্তি প্রবেশ করলেন, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ঘটনার পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্ত এগোলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। আপাতত একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে বাঘের খাঁচায় পৌঁছলেন কীভাবে ওই ব্যক্তি?



















