img

অভিবাসনের নিয়ম শিথিল করার জন্য মন্ত্রীদের প্রতি ইউনিয়নগুলোর আহ্বান

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৫, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অভিবাসনের নিয়ম শিথিল করার জন্য মন্ত্রীদের প্রতি ইউনিয়নগুলোর আহ্বান

মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, লন্ডন: ট্রেড ইউনিয়নগুলো সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে যাতে অভিবাসন নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো শিথিল করা হয়। অন্যথায়, বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

পরিকল্পনাগুলো অনুমোদিত হলে, বেশিরভাগ অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের জন্য পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে, আর স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা ভিসায় থাকা বিদেশি কর্মীদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। প্রস্তাবগুলো গত বছর ঘোষণা করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, যিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অধীনেও একই পদে রয়েছেন। ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের (TUC) প্রতিনিধিরা একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন যাতে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা কর্মীদের ওপর প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো পরিবর্তন প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, মন্ত্রীরা প্রস্তাবগুলো নিয়ে পরামর্শের জন্য ২ লাখ মতামত পেয়েছেন, যা প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের আমলে শুরু হয়েছিল, এবং তারা সেগুলো মনোযোগ সহকারে বিবেচনা করছেন।

মঙ্গলবার কমন্সের হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির এমপিদের সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে শাবানা মাহমুদ বলেন, তার নতুন অভিবাসন ব্যবস্থার কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে এখন কাজ চলছে এবং তিনি আশা করছেন চলতি বছরের শেষের দিকে নীতি ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, "আমরা এখানে কাজ করতে আসা মানুষদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব, সরকার হিসেবে আমরা যে ব্যর্থতাগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি তার স্বীকৃতি, এবং ইতিমধ্যে এখানে থাকা মানুষদের প্রতি সঠিক কাজ করার প্রয়োজনীয়তা যারা আমরা সবাই যে ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করি তার জন্য অর্থ প্রদান করে - এর মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছি। "সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী স্থায়ীভাবে বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের জন্য, যা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন নামেও পরিচিত, সাধারণ অপেক্ষার সময় ১০ বছর করা হবে। যারা স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা ভিসায় এসেছেন তাদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে, আর যারা ১২ মাসের বেশি সময় ধরে সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করেছেন তাদের ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন একজন ব্যক্তিকে যতদিন খুশি যুক্তরাজ্যে বসবাস, কাজ এবং পড়াশোনা করার এবং যোগ্য হলে ভাতার জন্য আবেদন করার অধিকার দেয়। পরিবর্তনগুলো যারা ইতিমধ্যে স্থায়ী বসবাস পেয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, তবে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী লোকদের ওপর প্রযোজ্য হবে, এমনকি যারা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থায়ী বসবাস পাওয়ার আশা করছিলেন তাদের ওপরও। কিছু লেবার এমপিও ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা অভিবাসীদের ওপর পরিবর্তনগুলো প্রয়োগ করার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। এ বছরের শুরুতে, যখন তিনি ব্যাকবেঞ্চ এমপি ছিলেন এবং সরকারের মন্ত্রী ছিলেন না, তখন অ্যাঞ্জেলা রেইনার, যিনি নিজে একজন প্রাক্তন পরিচর্যা কর্মী ছিলেন, প্রস্তাবগুলোকে "আন-ব্রিটিশ" বলে অভিহিত করেছিলেন। রেইনার, যাকে এরপর বার্নহ্যাম আবাসন সচিব হিসেবে নিয়োগ করেছেন, সতর্ক করে বলেছিলেন যে "গোলপোস্ট সরানো আমাদের ন্যায্য খেলার বোধকে ক্ষুন্ন করে"।

সে সময় বার্নহ্যাম, যিনি তখনও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন, বলেছিলেন তিনি বোঝেন রেইনার "কোথা থেকে বলছেন" এবং লেবারের "অ্যাঞ্জেলা যা বলছে তা শোনা ভালো হবে"।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ভাঙতে যাচ্ছে ব্রিটেন, স্বাধীনতার জন্য গণভোট চাইল স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে

প্রকাশিত :  ১৮:২০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইংল্যান্ড থেকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে এবং ব্রিটেন  ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নেতারা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে তাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের পুনরায় একত্রীকরণের পক্ষে সমর্থন জানানোর একদিন পরই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর আল জাজিরার 

এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, ঘোষণাপত্রে যুক্তরাজ্যের অংশ তিন দেশকে স্বাধীনতার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের অধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হবে। গণভোটে জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলে ইংল্যান্ড থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হবে।

ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবেন স্কটল্যান্ডের জন সুইনি, ওয়েলসের রুন আপ আইওরওয়েথ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মিশেল ও’নিল। এতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ—অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন সদস্য হতে চায়। অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ইইউতে যুক্ত হবে। আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র বর্তমানে ইইউর সদস্য।

ওয়েলসের ক্ষেত্রে এই ঘোষণাপত্রকে ব্যবহার করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। বিশেষ করে কর ও সরকারি ব্যয়ের মতো বিষয়ে ওয়েলসের স্বায়ত্তশাসিত সরকারের হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানানো হতে পারে।

এদিকে ওয়েলসে চলতি বছরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে স্বাধীনতাপন্থী দল প্লেইড কামরু জয়ী হওয়ার পর এ উদ্যোগের পেছনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ১৯৯৯ সালে ওয়েলসে স্বায়ত্তশাসিত সরকারব্যবস্থা চালুর পর এই প্রথম ওয়েলশ লেবার পার্টি ক্ষমতা হারিয়েছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে একই সময়ে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্বাধীনতাপন্থী দল সরকারে রয়েছে। স্কটল্যান্ডে ক্ষমতায় রয়েছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি)। আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে রয়েছে ক্ষমতা ভাগাভাগির সরকার, যেখানে ব্রিটিশপন্থি ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) এবং আইরিশ রিপাবলিকান দল শিন ফেইন রয়েছে।

কার্ডিফের বৈঠকটি ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরের দুইদিন পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গেল শনিবার ডাবলিন সফরের সময় তিনি আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানান। তার এ মন্তব্যে ডাবলিনের কর্মকর্তারা বিস্মিত হন এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও লন্ডনের ব্রিটিশপন্থী রাজনীতিকরা ক্ষুব্ধ হন।

নিজের একটি গলফ রিসোর্টে আয়োজিত গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড পেয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়, তাদের একত্র করা সর্বকালের অন্যতম স্বাভাবিক বিষয়। আপনি স্কটল্যান্ডের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে আমি এখনো কথা বলব না। সেটা অন্য দিনের জন্য রেখে দিচ্ছি।’ স্কটল্যান্ডে ট্রাম্প পরিবারের একটি গলফ রিসোর্ট রয়েছে।

২০১৪ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হওয়ার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে স্কটল্যান্ডের জনগণ স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন গণভোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। একইভাবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্নেও গণভোটের বিরোধিতা করেছেন তিনি।

ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের পক্ষে মন্তব্য করার আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়ায় মার্টিন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কিছু ইউনিয়নস্থ রাজনীতিকের প্রতিক্রিয়াকে ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ কোর্সে মধ্যাহ্নভোজের পর সাংবাদিকদের মার্টিন বলেন, ‘এটি বিস্ময়কর হওয়ার কথা নয়। তিনি বিষয়গুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন।’

মার্টিন জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক দশকের সহিংসতার পর ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চলটিতে কীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটিও তিনি ট্রাম্পকে ব্যাখ্যা করেন। ওই সময়কাল ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত।

ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের পর প্রায় এক শতাব্দী আগে আয়ারল্যান্ড একটি স্বশাসিত ক্যাথলিক-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে পরিণত হয়। অন্যদিকে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড দুটি প্রধান সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল। অধিকাংশ ক্যাথলিক জাতীয়তাবাদী আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একীভূত হতে চেয়েছিলেন। আর বেশিরভাগ প্রোটেস্ট্যান্ট ইউনিয়নস্থ ব্রিটেনের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে এ উত্তেজনা সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ব্রিটিশ সেনারাও জড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৮ সালের একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে মূলত ওই সহিংসতার অবসান হয়। চুক্তিটি সম্পাদনে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চূড়ান্ত অবস্থান অমীমাংসিত থেকে যায়।

চুক্তি অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পক্ষে ভোট দিতে পারেন বলে মনে হলে সেখানে একীভূতকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজন করা যাবে।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গত বুধবার বলেছিলেন, জনমত এমন পর্যায়ে পরিবর্তিত হলে, যখন গণভোটের দাবি আর উপেক্ষা করার সুযোগ থাকবে না, তখনই যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে বিবেচনা করবে। ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে বার্নহ্যামের কার্যালয় ওই মন্তব্যের কথাই পুনরায় উল্লেখ করেছে।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মার্টিনও বিবিসিকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের একীভূতকরণ নিয়ে গণভোটের সময় সম্ভবত এখনো আসেনি।

তিনি বলেন, ‘আমি ঐক্যকে সমর্থন করি। এখনই এটি ঘটবে বলে আমি মনে করি না। এ বিষয়ে আমি খুব স্পষ্ট। আগামী সপ্তাহে যদি ভোট হয়, তাহলে সেটি পাস করানো অত্যন্ত কঠিন হবে।’

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর