img

পূর্ব লন্ডনের আইল অব ডগসে ডুবে প্রাণ গেল ১৪ বছরের কিশোরের

প্রকাশিত :  ০৮:৪৬, ০৬ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৮, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

পূর্ব লন্ডনের আইল অব ডগসে ডুবে প্রাণ গেল ১৪ বছরের কিশোরের
লন্ডনের মিলওয়াল আউটার ডকে ডুবে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কিশোরটি পানিতে নামার পর ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও কয়েক ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে পূর্ব লন্ডনের ইস্ট ফেরি রোডের কাছে অবস্থিত মিলওয়াল আউটার ডকে এক ১৪ বছর বয়সী কিশোর পানিতে প্রবেশ করেছে, এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশ, লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড যৌথভাবে কিশোরটিকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালায়। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে তাকে পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও পরে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরের স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অপ্রত্যাশিত মৃত্যু হিসেবে দেখা হলেও এতে কোনো সন্দেহজনক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট অলিভার রিখটার বলেন, “এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে আমাদের ভাবনা ওই কিশোরের পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে রয়েছে। উষ্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় সবাইকে মনে রাখতে হবে যে খোলা জলাশয় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও সাঁতার না কাটার এবং শিশু ও তরুণদের পানির আশপাশে নিরাপদ থাকার বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এ ঘটনায় স্থানীয় এমপি আপসানা বেগমও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “স্থানীয় জলাশয়গুলো দেখতে নিরাপদ মনে হলেও এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁতারের জন্য নির্ধারিত এলাকায় এবং যেখানে লাইফগার্ড দায়িত্বে থাকেন, সেখানেই সাঁতার কাটা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “মিলওয়াল আউটার ডকে গত রাতে এক শিশুর ডুবে মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আমার চিন্তা ও প্রার্থনা তার পরিবার এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে রয়েছে।”

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত, জ্বালানি মূল্য নিয়ে সতর্ক ব্যাংক অব ইংল্যান্ড

প্রকাশিত :  ১১:৫৮, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যে মূল সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। টানা ষষ্ঠবারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মুদ্রানীতি কমিটি। তবে জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারেও। বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম, যার ফলে মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়ছে চাপ।

এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটি মূল সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংকটির এই হার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংক ও ঋণদাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করে। এর ওপর ভিত্তি করে ঋণ ও সঞ্চয়ের সুদের হার নির্ধারণে প্রভাব পড়ে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে দেশটির মূল্যস্ফীতি এই লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন পূর্বাভাসে ব্যাংকটি জানিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের সামান্য ওপরে উঠতে পারে। একই সময়ে জানুয়ারিতে পরিবারগুলোর গ্যাস ও বিদ্যুতের বিলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা ‘প্রাইস ক্যাপ’ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে স্পষ্ট। তবে জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় পণ্য ও সেবার অন্যান্য দামে কতটা ছড়িয়ে পড়বে, তা এখনো মূল্যায়ন করছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের বন্ড বিক্রির গতিও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণের ব্যয় কিছুটা কমেছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানির মূল্য, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয় এখন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতির অন্যতম প্রধান বিবেচনা। আগামীতে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি ও জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির ওপরই সুদের হারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকাংশে নির্ভর করবে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর