img

বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে তাজা গুলিসহ রিভলবার উপহার দিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত :  ০৫:৫৪, ০৯ জুলাই ২০২৬

বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে তাজা গুলিসহ রিভলবার উপহার দিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে তাজা গুলিসহ একটি ব্যক্তিগত রিভলবার উপহার দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

আঙ্কারায় আয়োজিত এ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের একই ধরনের উপহার দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করা ছিল। 

তবে যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর নাম খোদাই করা এ রিভলবার দেশটিতে নিয়ে যাওয়া হয়নি। এটি আপাতত তুরস্কে অবস্থানরত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছেই রয়েছে বলে জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্যে অস্ত্রটি ফেরত পাঠানোর আগে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করা হবে। ফলে এটি দিয়ে আর কোনো তাজা গুলি ছোড়া সম্ভব হবে না।

জানা যায়, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এ উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন শিথিল করেছিলেন। তবে তাজা আগ্নেয়াস্ত্র যথাযথ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যে আমদানি করা অবৈধ হওয়ায় এটি তুরস্কেই রেখে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট অবশ্য এ রিভলবারের কোনো ছবি প্রকাশ করেনি।

এ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষাচুক্তি সই করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পথ আরও সুগম হবে।

সম্মেলন শেষে এক বিবৃতিতে স্টারমার জানান, এ আয়োজনের পর ন্যাটো জোট আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এটি একটি সফল সম্মেলন ছিল জানিয়ে স্টারমার বলেন, ‘আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তা পেরেছি, আর তা হলো জোটের ঐক্য। বিশেষ করে ইউক্রেন ও ইরানের চলমান সংঘাতের এ সময়ে আমাদের এ ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’

এর আগে, গত মাসে কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তাই পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই ছিল স্টারমারের শেষ কোনো বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ব্রিটেনে প্রতি আট মিনিটে একজন পুরুষের প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত

প্রকাশিত :  ০৭:০৪, ২৫ আগষ্ট ২০২৬

ব্রিটেনে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে প্রোস্টেট ক্যানসারের নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা। ম্যাকমিলান ক্যানসার সাপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর ৬৮ হাজারের বেশি পুরুষের প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ছে—অর্থাৎ গড়ে প্রতি আট মিনিটে একজন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। 

সংস্থাটির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জীবনযাপন করা মোট পুরুষের সংখ্যা এক লাফে ১ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬ লাখে পৌঁছেছে; যেখানে ২০২০ সালে এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৫ লাখ। বর্তমানে প্রোস্টেট ক্যানসার যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে সাধারণ এবং ঘনঘন শনাক্ত হওয়া ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। 

রোগটি ঘিরে সমাজে নানা ধরনের ‘ভুল ধারণার’ কারণে বহু পুরুষ সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বাধা পাচ্ছেন বলে সতর্ক করেছে চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানটি। ম্যাকমিলান ক্যানসার সাপোর্টের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি কানলিফ জানান, ‘সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো—দৈহিকভাবে সুস্থবোধ করার মানেই প্রোস্টেট ক্যানসার না থাকা। বাস্তবতা হলো, প্রাথমিক অবস্থায় রোগটির কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না।’ 

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোস্টেট গ্রন্থিটি আকারে যথেষ্ট বড় হয়ে যখন মূত্রনালীতে চাপ সৃষ্টি করে, তখনই মূলত এর উপসর্গ প্রকাশ পায়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে। ৫০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি বেশি থাকলেও কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ এবং পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের তুলনামূলক কম বয়সেই এটি হতে পারে। 

রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সাধারণত ‘পিএসএ’ নামক রক্তের পরীক্ষা করানো হয়। চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষার প্রস্তাব দিতে পারেন, তবে রক্ত পরীক্ষার জন্য তা বাধ্যতামূলক নয়।

তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল স্ক্রিনিং কমিটি’ ঢালাওভাবে সকল পুরুষের জন্য পিএসএ স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করেনি। 

তাদের মতে, কোনো উপসর্গ ছাড়া সাধারণ সবার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা অপকারের কারণও হতে পারে। তবে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি, নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন বহনকারী পুরুষ এবং কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের ওপর বিশেষ স্ক্রিনিং ট্রায়াল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যানসার রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ার পেছনে ড. কানলিফ নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ চিহ্নিত না করে মূলত বয়োবৃদ্ধ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর