img

হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে লন্ডনে ৩০ দেশের বৈঠক

প্রকাশিত :  ০৭:৩৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে লন্ডনে ৩০ দেশের বৈঠক

অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করা এবং সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় বের করতে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বৈঠকে বসছে প্রায় ৩০টিরও অধিক সংখ্যক দেশ। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনযায়ী, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ২ দিনের এই বৈঠক।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাবিদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনা কর্মকর্তাদের। গত সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি দেশ জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক মিশনে যোগ দিতে ইচ্ছুক।

ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাছ্যের প্রায় ৫০টি দেশ হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স নেতৃত্ত্বাধীন প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক মিশনের সদস্য হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

এদিকে ইরান যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনে ‘এগিয়ে না আসায়’ ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, তার আর মিত্রের প্রয়োজন নেই। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই বক্তব্য পোস্ট করার পর গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে একটি অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এবং সেখানে যোগ দেয় প্রায় ৫০টি দেশ। সেই কনফারেন্সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।  

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতেও এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের ভিডিও কনফারেন্সের ফলাফল হলো লন্ডনের এই বৈঠক।

পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, ‘আমাদের এই দু’দিন ব্যাপী বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ও কাজ হলো, হরমুজে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে সমর্থনের জন্য কূটনৈতিক ঐকমত্যকে একটি যৌথ পরিকল্পনায় রূপান্তর করা।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটে ভুগছে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।


 

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

চাপের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, নিজ দলের এমপিরাই চাচ্ছেন পদত্যাগ

প্রকাশিত :  ০৭:০১, ১২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩০, ১২ মে ২০২৬

ক্রমেই চাপ বাড়ছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর ওপর। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেই এখন তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। দলটির বহু সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী চাইছেন, স্টারমার যেন তার পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করেন।

এই চাপের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারের বিদায়ের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা বৈঠকের আগে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এই বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় শাবানা মাহমুদ এ দাবির পক্ষে সংখ্যালঘু অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে সরকারের ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা কেউ পদত্যাগ করেছেন, আবার কেউ প্রকাশ্যে স্টারমারের সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ পর্যন্ত লেবার পার্টির বাহাত্তর জন সংসদ সদস্য স্টারমারের পদত্যাগ অথবা নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রীর সহকারী জো মরিস। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা হারিয়েছেন। আরও পদত্যাগ করেছেন উপপ্রধানমন্ত্রীর সহকারী মেলানি ওয়ার্ড, মন্ত্রিপরিষদবিষয়ক মন্ত্রীর সহকারী নওশাবাহ খান এবং পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রীর সহকারী টম রাটল্যান্ড।

এর আগে এক ভাষণে স্টারমার বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবেন। তিনি স্বীকার করেন যে সরকার কিছু ভুল করেছে, তবে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল বলে দাবি করেন।

স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তার ওপর চাপ বাড়ছে। ইংল্যান্ডজুড়ে লেবার পার্টি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর পদ হারিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্কারপন্থী দল ও সবুজ দলের উত্থানে দলটির সমর্থন কমেছে।

ওয়েলসেও শত বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য হারিয়েছে লেবার পার্টি। স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে তারা একশ ঊনত্রিশটি আসনের মধ্যে মাত্র সতেরোটি পেয়েছে, যা দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল।

জো মরিস বলেন, 'ভোটাররা আর বিশ্বাস করেন না যে স্টারমার তাদের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারবেন।'

পূর্ব ওয়ার্থিং এলাকার সংসদ সদস্য টম রাটল্যান্ড বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু দলীয় সংসদ সদস্যদের নয়, গোটা দেশের আস্থাও হারিয়েছেন।

নওশাবাহ খান বলেন, 'আমি ব্যর্থতা দেখে চুপ থাকার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। এখনই নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার।'

এদিকে সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম-এর নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর