img

সৌদি আরবে সিআইএ স্টেশনে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রকাশিত :  ০৬:৩৬, ০৪ মার্চ ২০২৬

সৌদি আরবে সিআইএ স্টেশনে ইরানের ড্রোন হামলা

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) স্টেশনে হামলা হয়েছে। সরাসরি একটি ড্রোন সেখানে আঘাত হানার দাবি করেছে রয়টার্সের সূত্র। তবে সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সে অবস্থিত সিআইএ স্টেশন। সোমবার সেখানেই ইরানি ড্রোন আঘাত করে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র মঙ্গলবার রয়টার্সকে জানায়, ড্রোনটি বিস্ফোরিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সিআইএর স্টেশনটিই সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না তা জানাতে পারেনি ওই সূত্র।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে সৌদি আরবে সিআইএর স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটল। এ ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলেও হামলা হয়েছে।

এদিকে কাতার সরকার জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হয়ে কাজ করছিল, এমন দুটি ‘স্লিপার সেল’ শনাক্ত করে সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কাতার নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার জানায়, দুই সেলে মোট ১০ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনকে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক স্থাপনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বাকি তিনজনকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার মিশনে নিয়োজিত থাকার কথা জানিয়েছেন।

কাতারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে সংবেদনশীল স্থাপনার অবস্থান ও স্থানাঙ্ক, যোগাযোগ যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের কোনো প্রতিনিধি এখনও ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ২১ এপ্রিল ২০২৬

‘মঙ্গলবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে চুক্তি হবে’— নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এমন দাবি করলেও ইরান এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ইরনা নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।

ইরনা জানিয়েছে, “এখন পর্যন্ত ইরান থেকে কোনো প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে যায়নি। কোনো উচ্চ পর্যায়ের, মাঝারি পর্যায়ের কিংবা পূর্ববর্তী বৈঠকের কোনো ফলোআপ দল সেখানে যায়নি।”

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে ইরানের প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদে রওনা হওয়া, পৌঁছানো বা সম্ভাব্য আগমনের তারিখ সংক্রান্ত যেসব খবর প্রকাশ হয়েছে, সেসবকে ‘গুজব’ বলে দাবি করা হয়েছে ইরনার পোস্টে।

সেই সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের ইস্যুতে নিজেদের পুরোনো অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। বলা হয়েছে, ইরান কোনো চাপের মুখে আত্মসমর্পণ করবে না।

গত ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের প্রথম দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফা সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছিল পাকিস্তান। সেই সংলাপের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল ২২ এপ্রিল।

কিন্তু প্রথম দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের নির্দেশ দেন ট্রাম্প, যা দ্বিতীয় দফা সংলাপের সম্ভাবনাকে অনেকটাই ফিকে করে দেয়।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ট্রাম্পকে হরমুজ ও ইরানি বন্দর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, এই অবরোধ সংলাপের পথে অন্তরায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পরামর্শ তিনি বিবেচনা করবেন।

এদিকে গতকাল এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার গভীর অনাস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘অগঠনমূলক’ মনোভাবকে সংলাপের একটি বড় বাধা বলে উল্লেখ করেছেন।

এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, “একটি অর্থপূর্ণ সংলাপের ভিত্তি হলো প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান গভীরভাবে আস্থার সংকটে ভোগে এবং এই সংকট ঐতিহাসিক। সেই সঙ্গে মার্কিন অগঠনমূলক এবং পরস্পরবিরোধী সংকেত তিক্ত বার্তা দেয়।”

সূত্র : বিবিসি