img

টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের বাজেট পাস: হাউজিং,সোশ্যাল কেয়ার ও জীবনযাত্রার সহায়তায় নতুন পদক্ষেপ

প্রকাশিত :  ১৫:৪৮, ০৪ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪৯, ০৪ মার্চ ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের বাজেট পাস: হাউজিং,সোশ্যাল কেয়ার ও জীবনযাত্রার সহায়তায় নতুন পদক্ষেপ

বাজেটের মূল দিক গুলো হলোঃ

  • ফস্টার কেয়ারারদের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স সম্পূর্ণ বাতিল - সব খরচ মেটাতে ৭ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড বরাদ্দ
  • প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবায় (এডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার) বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য ২২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ, পাশাপাশি যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য সর্বজনীন বা ইউনিভার্সেল ফ্রি হোমকেয়ার চালু রাখা
  • হোম স্কুল সহায়তায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার পাউন্ড বরাদ্দ
  • ফ্রি সুইমিং সুবিধা ৩৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য সম্প্রসারণ এবং লেজার সেন্টার গুলো রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার পাইলট কর্মসূচি গ্রহণ
  • ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের সহায়তায় নতুন তহবিল, পাশাপাশি নতুন বাড়ি নির্মাণ, বিদ্যমান কাউন্সিল মালিকানাধীন বাড়িও ঘরের সংস্কার এবং টেম্পোরারি হাউজিং-এর বাড়তি চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য তহবিল বিনিয়োগ
  • গত বছর আমাদের কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমের মাধ্যমে ২৮,০০০ পরিবার ৩৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করেছে। আমরা এখনও সবচেয়ে উদার স্থানীয় কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমগুলোর একটি চালু রেখেছি, যার ফলে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে কোনো কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হয় না।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আগামী তিন বছরের পূর্ণ ব্যয় নির্ধারিত বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। কাউন্সিলের অনুমোদিত তিন বছরের বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে লন্ডনের হাউজিং সংকট মোকাবিলা করা। সাথে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে রয়েছে ফস্টার কেয়ারারদের জন্য ১০০% কাউন্সিল ট্যাক্স ছাড়।

২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার পূর্ণ কাউন্সিল মিটিংয়ে এই বাজেট অনুমোদন লাভ করে।

এই বাজেটে আগামী পাঁচ বছরে কাউন্সিল মালিকানাধীন বাড়ি-ঘরের উন্নয়নে অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৩৪৫ মিলিয়ন, যা আগামী ১০ বছরে কাউন্সিলের আবাসন সম্পদের উন্নয়নে অতিরিক্ত ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ডের অংশ।

গত বছর কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমের মাধ্যমে ২৮,০০০ পরিবার ৩৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করেছে। টাওয়ার হ্যামলেটস এখনও সবচেয়ে উদার স্থানীয় কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমগুলোর একটি চালু রেখেছে, যার ফলে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে কোনো কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হয় না।

এছাড়া টেম্পোরারি হাউজিং ভাড়া ব্যয় ৪৪% বৃদ্ধির পর বাড়তি চাহিদা মোকাবেলায় ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং যেসব ভাড়াটিয়ার ভাড়া বৃদ্ধি বিদ্যমান হাউজিং বেনিফিট বা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দ্বারা পূরণ হয় না, তাদের জন্য নতুন রেন্ট হার্ডশিপ ফান্ডে ৪ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কাউন্সিলের বিস্তৃত আবাসন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে মে ২০২৬ সালের মধ্যে ৪,০০০ টি নতুন সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার বাসা (সোশ্যাল রেন্ট হোমস) নির্মাণ এবং মেয়রের এক্সেলেরেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম - এর মাধ্যমে আরও ৩,৩৩২টি নতুন ঘর নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি।

বারার শিশু ও তরুণদের সহায়তায় নতুন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ফস্টার কেয়ারারদের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স বাতিল (৭৮০,০০০ পাউন্ড) এবং ঘরে পড়াশোনার বাড়তি চাহিদা মোকাবেলায় একটি বিশেষ দল গঠন (৪৫৩,০০০ পাউন্ড)। এর পাশাপাশি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে সর্বজনীন ফ্রি খাবার, স্কুল ইউনিফর্ম, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুদান এবং ২০২২ সাল থেকে চালু হওয়া ২০টি ‘ইয়ং টাওয়ার হ্যামলেটস্’ ইয়ুথ সেন্টার (যুব কেন্দ্র) পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। গত মাসে ২০ তম ইয়ুথ সেন্টারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

এডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার (প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবা) এর ক্ষেত্রে বাড়তি চাহিদা মোকাবেলায় ২২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে, পাশাপাশি বয়স্ক ও অসহায় বাসিন্দাদের ঘরে গরম খাবার পৌঁছে দেয়ার সার্ভিস ‘মিলস অন হুইলস’ এবং বিনামূল্যে হোমকেয়ার চালু রাখার কর্মসুচিসহ সবমিলিয়ে মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ২৮.৪ মিলিয়ন পাউন্ড।

নতুন বাজেটে বারার রিসাইক্লিং হার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ১ লাখ ২৪ হাজার ফ্ল্যাটে সাপ্তাহিক খাদ্য বর্জ্য সংগ্রহ সেবা সম্প্রসারণে ২.৫৮ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে, যেখানে প্রায় ৮৭% প্রোপার্টি হচ্ছে ফ্ল্যাট, সেখানে রিসাইক্লিং একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “সতর্ক ও দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা ফ্রন্টলাইন সার্ভিসেস বা প্রান্তিক সেবায় নজিরবিহীন বিনিয়োগ করতে পেরেছি, যার নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা শুধু বাজেট ভারসাম্যই রাখিনি, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবেলায় বাসিন্দাদের জন্য আরও শক্তিশালী সহায়তামূলক নীতিও চালু রেখেছি।”

মেয়র বলেন, “ঘর-বাড়ির স্বল্পতা অর্থাৎ আবাসন সংকট মোকাবেলায় সাশ্রয়ী নতুন বাসা নির্মাণে আমরা অগ্রণী ভূমিকা রাখছি। পাশাপাশি কাউন্সিল বাসা গুলোর মান উন্নয়ন করছি এবং ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়াটিয়াদের সহায়তায় নতুন তহবিল চালু করেছি।

“তরুণদের জন্য আমরা ইতোমধ্যে দেশের সেরা সহায়তা প্যাকেজগুলোর একটি দিচ্ছি। এখন আমরা ফস্টার কেয়ারারদের কাউন্সিল ট্যাক্সের বোঝা তুলে দিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আরও মানুষকে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিপদগ্রস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের সহায়তাকেও আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার-এ অতিরিক্ত মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছি, ‘মিলস অন হুইলস’সেবা চালু করেছি এবং হোমকেয়ার সেবার চার্জ বাতিল করেছি। অন্যান্য কাউন্সিলের মতো নয়, আমরা প্রয়োজন নির্ধারণের ভিত্তিতে সব বয়স্ক বা ডিজেবল বাসিন্দাদের জন্য আয় নির্বিশেষে বিনামূল্যে হোমকেয়ার প্রদান করি।”

মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “সবকিছু বাস্তবায়ন করেও আমরা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাধারণ কাউন্সিল ট্যাক্স স্থগিত রেখেছি। সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে কোনো কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হয় না এবং আমরা আশা করছি লন্ডনের মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিল ট্যাক্স হার সবচেয়ে কম গুলোর একটি হিসেবে থাকবে।”

শিশু ও তরুণদের জন্য সেবাসমূহ:
টাওয়ার হ্যামলেটস বারার শিশু ও পরিবারদের জন্য বিদ্যমান অর্থায়নের ওপর ভিত্তি করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড ইয়ুথ সার্ভিসে বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে ২০টি ইয়ুথ সেন্টার চালু রাখা। কাউন্সিল এডুকেশন মেইনটেনেন্স এলাউন্স (ইএমএ) এবং বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি পুনরায় চালু করেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় খরচ মেটাতে ৬০০ পাউন্ডইএমএ বা ১,৫০০ পাউন্ড ভার্সিটি অনুদান পাবে।

টাওয়ার হ্যামলেটস ছিল প্রথম স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যারা প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি উভয় স্তরে সর্বজনীন বিনামূল্যে স্কুল মিলস চালু করে। ২০২৩ সালে সেকেন্ডারি স্কুলে চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।

গত বছর স্কুল ইউনিফর্মের খরচে সহায়তার জন্য ৩ মিলিয়ন পাউন্ডের তহবিল চালু করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিবছর ৭,০০০ পর্যন্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হওয়া প্রতি শিশুর জন্য ৫০ পাউন্ড এবং সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তি হওয়া প্রতি শিশুর জন্য ১৫০ পাউন্ড প্রদান করা হয়।

পরিবেশ
গত বছরের ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন বাজেটে আরও ২.৫৮ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে আনুমানিক ১ লাখ ২৪ হাজার ফ্ল্যাটসহ সব বাসিন্দা সাপ্তাহিক খাদ্য বর্জ্য সংগ্রহ সেবা পান।

প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবা ও কাউন্সিল ট্যাক্স
সরকারি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাধারণ কাউন্সিল ট্যাক্সে ২.৯৯% বৃদ্ধি এবং এডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার প্রিসেপ্ট হিসেবে ২% বৃদ্ধি রাখা হয়েছে, যা বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সেবার বাড়তি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে।
নতুন বাজেটে এডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার এর জন্য ২২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড, ‘মিলস্ অন হুইলস্’ সেবার জন্য বছরে ১ মিলিয়ন পাউন্ড এবং বিনামূল্যে হোমকেয়ার সেবার জন্য পূর্বে অনুমোদিত ৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড অব্যাহত রাখা হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটস দেশের মাত্র দ্বিতীয় কাউন্সিল, যারা প্রয়োজন নির্ধারণের ভিত্তিতে আয় নির্বিশেষে সব বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী বাসিন্দাদের বিনামূল্যে হোমকেয়ার প্রদান করে।

নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাধারণ কাউন্সিল ট্যাক্স স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সবচেয়ে উদার ‘লকাল কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কীম’ চালু রয়েছে, যার ফলে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে কোনো কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হয় না।

বর্তমানে লন্ডনে ষষ্ঠ সর্বনিম্ন কাউন্সিল ট্যাক্স হার টাওয়ার হ্যামলেটসের এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সহায়তা স্কিমের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।

রিসোর্সেস এবং কস্ট অব লিভিং বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য, কাউন্সিলর সাইয়েদ আহমেদ বলেন, “আমরা এমন একটি বাজেট দিতে পেরে গর্বিত যা মানসম্মত সেবায় বিনিয়োগ করে এবং জীবনযাত্রার চলমান ব্যয়ের চাপে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়। আমরা একদিকে আর্থিক দায়িত্বশীলতা বজায় রাখছি, অন্যদিকে প্রতিরোধমূলক বিনিয়োগ করছি। অর্থাৎ কাউন্সিলের অর্থায়ন তাৎক্ষণিক সহায়তা দেবে এবং উন্নত সেবা ও আগাম হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয় তৈরি করবে।”

দায়িত্বশীল বাজেট ও রিজার্ভ বৃদ্ধি
ফুল কাউন্সিল মিটিং ২০২৬ - ২৭ সালের জন্য ৪৯৭.৭৯৭ মিলিয়ন পাউন্ডের জেনারেল ফান্ড রেভিনিউ বাজেট অনুমোদন করেছে। আগামী তিন বছরে কাউন্সিলের রিজার্ভ ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, পাশাপাশি কার্যকর ও দক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফরমেশন রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

কাউন্সিল সেবায় দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজেটে ৬.৪২ মিলিয়ন পাউন্ড নতুনভাবে সাশ্রয় অর্জিত হয়েছে।

লেইজার ও পাবলিক হেলথ
নারী, ১৬ বছরের বেশি বয়সী কিশোরী এবং ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য ইতোমধ্যে চালু হওয়া ফ্রি সাঁতার সুবিধায় এ পর্যন্ত ২০,৫০০ - এর বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। এটি এখন ৩৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্যও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে আরও বেশি বাসিন্দা উন্নত সুবিধা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পান।

সাশ্রয়ের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ হিসেবে হোয়াইটচ্যাপেল এবং মাইল এন্ড লেজার সেন্টারের জিম রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার পাইলট কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের সবচেয়ে তরুণ জনসংখ্যার একটি হিসেবে, তরুণ ও শিফট কর্মী, বিশেষ করে রয়েল লন্ডন হসপিটালের এনএইচএস কর্মীদের কাছ থেকে দীর্ঘ সময় খোলা রাখার দাবি এসেছে। খোলার সময় বাড়ালে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড আয় হতে পারে, যা আবার কাউন্সিল সেবায় বিনিয়োগ করা হবে।

পূর্ণ কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত বাজেট কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে (https://democracy.towerhamlets.gov.uk/ieListDocuments.aspx?CId=309&MId=16386) দেখা যাবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র অভিনন্দন

প্রকাশিত :  ১৮:৩৮, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কানাডার ফেডারেল উপনির্বাচনে টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে কানাডার সংসদে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মৌলভীবাজার জেলার

সুযোগ্য কন্যারত্ন ডলি বেগম এমপি বিজয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করায় গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র কেন্দ্রীয় কনভেনর ও  মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ালর্ড হোয়াইডের ফাউন্ডার্স প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মকিস মনসুর, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র  কো-কনভেনর মসুদ আহমদ,সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান,ও অর্থ সচিব কাউন্সিলর আসরাফ মিয়া, সাউথইস্ট রিজিওনাল কনভেনর হারুনুর রশিদ, কো কনভেনর জামাল হোসেন,  যুগ্ম কনভেনর সিপার করিম ও সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রিজিওনাল কমিটির নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বিজয়ের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন  জানান এবং তার এই সাফল্যে বাংলাদেশ তথা সিলেট বাসীর জন্য এটি একটি বিশেষ সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন। 

অভিনন্দন বার্তায় কানাডার পার্লামেন্টে বাবা,মা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আজ সম্প্ন্ন হওয়ায়  ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান  ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র কেন্দ্রীয় কনভেনর  মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, মৌলভীবাজারের বাজরাকোনা গ্রামের সুযোগ্য কন্যারত্ন ডলি বেগম কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে ফেডারেল উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তার এই অর্জন শুধু সিলেট বা মৌলভীবাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক অনন্য সম্মান। প্রবাসে থেকেও নেতৃত্ব, সততা এবং যোগ্যতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব—ডলি বেগম তার বাস্তব প্রমাণ।

কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর আর ও বলেন ডলি বেগমের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। ব্যবসা বা পেশাগত ক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও নিজেদের অবস্থান তৈরি করার সাহস যোগাবে এ অর্জন।

ডলি বেগমের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে এবং প্রবাসে বাংলাদেশিদের সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি   অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। 

এদিকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ডলি বেগমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে কার্নি বলেন, স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের নতুন এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ডলি বেগমকে অভিনন্দন। ডলি তার কমিউনিটির জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে অত্যন্ত জোরালো এবং কার্যকরভাবে লড়াই করেছেন। তার অক্লান্ত কণ্ঠস্বর এবং অভিজ্ঞতা সবার জন্য একটি শক্তিশালী ও অধিকতর ন্যায়পরায়ণ কানাডা গঠনে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য যে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আধ্যাত্মিকতার আলোকধারা ও ইতিহাসের গৌরবে ভরা এক জনপদ—বাজরাকোনা। এই পবিত্র মাটিতে শায়িত আছেন হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর অন্যতম সফরসঙ্গী হযরত শাহ মঈন উদ্দিন (রহ.)। সেই পুণ্যভূমি আজ আবারও এক উজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী হলো এক অনন্য অর্জনের মাধ্যমে।

আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কানাডার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি একটি জাতির অগ্রযাত্রার প্রতীক, একটি স্বপ্নের বাস্তব রূপ।

ছোট্ট ডলি—মা-ও বাবা রাজা-মিয়ার একমাত্র কন্যা—বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার মনুমুখ বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালে পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমান, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন জীবনের যাত্রা।

কানাডায় তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন একজন সমাজসেবক হিসেবে। গবেষণা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করে ধীরে ধীরে কমিউনিটিতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

২০১২ সালে University of Toronto থেকে স্নাতক এবং University College London থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি City of Toronto-এ রিসার্চ অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

সমাজসেবার এই পথ ধরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং New Democratic Party (NDP)-এর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। ২০১৮ সালে অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট থেকে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন—প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রাদেশিক এমপি নির্বাচিত হন।

এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে তিনবার এই এলাকায় প্রতিনিধিত্ব করেন, যা তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ।

তবে তার এই সংগ্রামের পথে একটি গভীর ব্যক্তিগত শোকও রয়েছে—২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি তার প্রিয় স্বামী, টরন্টোর বাংলাদেশি-কানাডিয়ান আইনজীবী ব্যারিস্টার রিজওয়ান রহমানকে হারান। এই কঠিন সময়েও তিনি ভেঙে না পড়ে দৃঢ়তার সঙ্গে সামনে এগিয়ে গেছেন—যা তার মানসিক শক্তি ও নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পরবর্তীতে বৃহত্তর পরিসরে কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি Liberal Party of Canada-এ যোগ দেন এবং প্রথমবারের মতো ফেডারেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এই উপ-নির্বাচনে স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট থেকে বিজয়ী হয়ে তিনি এখন কানাডার সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন শক্তিশালী immigrant voice এবং Muslim নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর