img

কমিউনিটি ও ভলান্টারি সেক্টরে অবদানের স্বীকৃতি দিলো দিলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রকাশিত :  ১৫:৫৫, ০৭ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৫০, ০৭ মার্চ ২০২৬

কমিউনিটি ও ভলান্টারি সেক্টরে অবদানের স্বীকৃতি দিলো দিলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রতিবারের ন্যায় এবারো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ভলান্টারি অ্যান্ড কমিউনিটি সেক্টর (ভিসিএস) অ্যাওয়ার্ডস। ১৭ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার হোয়াইটচ্যাপেল টাউন হলের গ্রোসার্স উইংয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি। টাওয়ার হ্যামলেটসে ভলান্টারি সেক্টরের মাধ্যমে কমিউনিটিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এই অ্যাওয়ার্ডস প্রদান করা হয়।

কাউন্সিলের সিনিয়র ভলান্টারি এন্ড কমিউনিটি সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিলি ডাউন্সের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেবিনেট মেম্বার ফর কস্ট অফ লিভিং এন্ড রিসোর্সেসকাউন্সিলর সাইদ আহমেদ।

স্বেচ্ছাসেবী এবং কমিউনিটি সেক্টরের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমানচীফ এক্সিকিউটিভ স্টিভ হোলসিডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদারইকুয়ালিটিজ এন্ড সোশ্যাল ইনক্লুশন বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর বদরুল চৌধুরীহেলথওয়েলবিয়িং এন্ড সোশ্যাল কেয়ার বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর সাবিনা আক্তার।

মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন ক্যানারি ওয়ার্ফের সাবেক সিইও ও চেয়ারম্যান স্যার জর্জ কবসকো। 


টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “ভলান্টারি সেক্টরের স্বেচ্ছাসেবীরা কমিউনিটির জন্য অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। বারাজুড়ে শত শত ভিসিএস সংগঠন ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কাউন্সিল সব সময় স্মরন করে। কমিউনিটির সেবা ও বাসিন্দাদের জীবন উন্নত করতে সংগঠনগুলোর সহযোগী হিসেবে কাজ করতে কাউন্সিল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অনুষ্ঠানে বৃহৎ ভলান্টারি গ্রুপ অব দ্যা ইয়ারমাঝারি ভলান্টারি গ্রুপ অব দ্যা ইয়ারছোট ভলান্টারি গ্রুপ অব দ্যা ইয়ারইয়াং ভলেন্টিয়ার অব দ্যা ইয়ারভলেন্টিয়ার অব দ্যা ইয়ার এবং লাইফটাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।


এবারের ভিসিএস অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীরা হলেন:

বছরের সেরা বড় স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপযাদের আয় ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি

বিজয়ীঃ প্রভিডেন্স রো'র কিচেন ভলান্টিয়ার গ্রুপ

বছরের সেরা মাঝারি স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপযাদের আয় বছরে ১.৫ লাখ থেকে ১ মিলিয়ন পাউন্ড।

বিজয়ীঃ লিডার্স ইন কমিউনিটি এবং উইমেন্স ইনক্লসিভ টিম

বছরের সেরা ছোট স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপযাদের আয় বছরে ১.৫ লাখ পাউন্ডের কম।

বিজয়ীঃ গ্লিমস এডভান্সার প্লে গ্রাউন্ড

অতি প্রশংসিতঃ ব্রমলি বাই বো কমিউনিটি অর্গানাইজেশন এবং পাপা ইয়ং সিআইসি

বছরের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীঃ

বিজয়ীঃ ফিউচার কিডস ডেভোলাপমেন্টের নাদিয়া বকস

অতি প্রশংসিতঃ এহসানুল হক ও নাফিস মিয়া

বছরের সেরা স্বেচ্ছাসেবীঃ উইশ ফাউন্ডেশনের নাসিমা ইসলাম

অতি প্রশংসিতঃ মায়া জাহরা লি রহমান ও আবুল হোসাইন

লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট: লাইমহাউজ প্রজেক্টের ফরিদা ইয়াসমিন

অতি প্রশংসিতঃ নাজ হোসাইন এবং সুফিয়া আলম।

 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র অভিনন্দন

প্রকাশিত :  ১৮:৩৮, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কানাডার ফেডারেল উপনির্বাচনে টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে কানাডার সংসদে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মৌলভীবাজার জেলার

সুযোগ্য কন্যারত্ন ডলি বেগম এমপি বিজয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করায় গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র কেন্দ্রীয় কনভেনর ও  মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ালর্ড হোয়াইডের ফাউন্ডার্স প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মকিস মনসুর, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র  কো-কনভেনর মসুদ আহমদ,সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান,ও অর্থ সচিব কাউন্সিলর আসরাফ মিয়া, সাউথইস্ট রিজিওনাল কনভেনর হারুনুর রশিদ, কো কনভেনর জামাল হোসেন,  যুগ্ম কনভেনর সিপার করিম ও সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রিজিওনাল কমিটির নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বিজয়ের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন  জানান এবং তার এই সাফল্যে বাংলাদেশ তথা সিলেট বাসীর জন্য এটি একটি বিশেষ সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন। 

অভিনন্দন বার্তায় কানাডার পার্লামেন্টে বাবা,মা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আজ সম্প্ন্ন হওয়ায়  ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান  ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র কেন্দ্রীয় কনভেনর  মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, মৌলভীবাজারের বাজরাকোনা গ্রামের সুযোগ্য কন্যারত্ন ডলি বেগম কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে ফেডারেল উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তার এই অর্জন শুধু সিলেট বা মৌলভীবাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক অনন্য সম্মান। প্রবাসে থেকেও নেতৃত্ব, সততা এবং যোগ্যতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব—ডলি বেগম তার বাস্তব প্রমাণ।

কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর আর ও বলেন ডলি বেগমের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। ব্যবসা বা পেশাগত ক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও নিজেদের অবস্থান তৈরি করার সাহস যোগাবে এ অর্জন।

ডলি বেগমের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে এবং প্রবাসে বাংলাদেশিদের সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি   অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। 

এদিকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ডলি বেগমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে কার্নি বলেন, স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের নতুন এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ডলি বেগমকে অভিনন্দন। ডলি তার কমিউনিটির জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে অত্যন্ত জোরালো এবং কার্যকরভাবে লড়াই করেছেন। তার অক্লান্ত কণ্ঠস্বর এবং অভিজ্ঞতা সবার জন্য একটি শক্তিশালী ও অধিকতর ন্যায়পরায়ণ কানাডা গঠনে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য যে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আধ্যাত্মিকতার আলোকধারা ও ইতিহাসের গৌরবে ভরা এক জনপদ—বাজরাকোনা। এই পবিত্র মাটিতে শায়িত আছেন হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর অন্যতম সফরসঙ্গী হযরত শাহ মঈন উদ্দিন (রহ.)। সেই পুণ্যভূমি আজ আবারও এক উজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী হলো এক অনন্য অর্জনের মাধ্যমে।

আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কানাডার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি একটি জাতির অগ্রযাত্রার প্রতীক, একটি স্বপ্নের বাস্তব রূপ।

ছোট্ট ডলি—মা-ও বাবা রাজা-মিয়ার একমাত্র কন্যা—বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার মনুমুখ বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালে পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমান, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন জীবনের যাত্রা।

কানাডায় তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন একজন সমাজসেবক হিসেবে। গবেষণা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করে ধীরে ধীরে কমিউনিটিতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

২০১২ সালে University of Toronto থেকে স্নাতক এবং University College London থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি City of Toronto-এ রিসার্চ অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

সমাজসেবার এই পথ ধরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং New Democratic Party (NDP)-এর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। ২০১৮ সালে অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট থেকে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন—প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রাদেশিক এমপি নির্বাচিত হন।

এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে তিনবার এই এলাকায় প্রতিনিধিত্ব করেন, যা তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ।

তবে তার এই সংগ্রামের পথে একটি গভীর ব্যক্তিগত শোকও রয়েছে—২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি তার প্রিয় স্বামী, টরন্টোর বাংলাদেশি-কানাডিয়ান আইনজীবী ব্যারিস্টার রিজওয়ান রহমানকে হারান। এই কঠিন সময়েও তিনি ভেঙে না পড়ে দৃঢ়তার সঙ্গে সামনে এগিয়ে গেছেন—যা তার মানসিক শক্তি ও নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পরবর্তীতে বৃহত্তর পরিসরে কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি Liberal Party of Canada-এ যোগ দেন এবং প্রথমবারের মতো ফেডারেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এই উপ-নির্বাচনে স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট থেকে বিজয়ী হয়ে তিনি এখন কানাডার সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন শক্তিশালী immigrant voice এবং Muslim নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর