img

কিছু পুরোনো মিত্র দেশের আচরণে আমি হতাশ : ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৫:৩৯, ১৭ মার্চ ২০২৬

কিছু পুরোনো মিত্র দেশের আচরণে আমি হতাশ : ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরোনো মিত্র দেশগুলোর প্রতি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তবে তার এই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে সংশ্লিষ্ট মিত্র দেশগুলো। এতে হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নেওয়ার পরও তারা কৃতজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে না।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং এর শেষ কবে হবে তা স্পষ্ট নয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ছে।

এই সংঘাত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ, ইরানের ওপর বিমান হামলার আগে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। এছাড়া ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

মার্কিন মিত্রদের মধ্যে জার্মানি, স্পেন এবং ইতালি জানিয়েছে, কৌশলগত জলপথটি পুনরায় চালু করতে তারা আপাতত কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। ইরান ড্রোন ও নৌ-মাইন বসিয়ে কার্যত পথটি বন্ধ করে রেখেছে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বার্লিনে বলেন, জার্মান সংবিধান অনুযায়ী এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে হলে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অথবা ন্যাটোর অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে জার্মানির সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, অনেক দেশ আমাকে সহায়তার আশ্বাস দিলেও কিছু পুরোনো মিত্র দেশের আচরণে আমি হতাশ।

তিনি বলেন, কিছু দেশ এতে খুবই আগ্রহী, আবার কিছু নয়। এমন কিছু দেশ আছে যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি এবং বাইরের ভয়াবহ হুমকি থেকে রক্ষা করেছি। কিন্তু তারা খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। আর সেই আগ্রহের মাত্রা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

আলোচনায় বসা ছাড়া ‘বিকল্প নেই’ ইরানের : ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৯:৩৮, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানো ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন দেশটির  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একটি ‌‌চমৎকার চুক্তি করতে সক্ষম হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা ভালো মানুষদের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে না। তবে তা সফলভাবেই করছে। এ সময় তিনি ইরানের সব বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধকে বিশাল সাফল্য বলেও অভিহিত করেন।

আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি সেটা করতে চাই না।

পরবর্তীতে ট্রাম্প বলেন, আমি বোমা হামলারই প্রত্যাশা করছি। কারণ সেটিই হবে আরও ভালো অবস্থান।

তিনি বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য হাতে খুব বেশি সময় নেই। তবে ইরানের জন্য আশার বাণী শুনিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে আসতে পারলে ইরান নিজেদের খুব ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে।

ইসলামাবাদের পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য এখনও অপেক্ষায় রয়েছে পাকিস্তান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা নিয়ে দোলাচলের মাঝে মঙ্গলবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, পাকিস্তান এখনও কূটনীতি ও সংলাপের পথ অনুসরণ করছে। তবে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সিদ্ধান্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ খুব শিগগিরই শেষ হতে চলেছে।

সূত্র: ডন