ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রস্তাবে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
প্রকাশিত :
২০:৫০, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-কে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রবিরোধী ও ইতিহাসবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মকিস মনসুর এবং ওয়েলস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রাক্তন ছাত্রনেতা আব্দুল মালিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করা হয়েছে, যা ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশকে পরবর্তীতে কথিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা হয়েছে, যা কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক বহুমত এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক ধারার দিকে ঠেলে দেয় এবং গণতন্ত্রের মূল চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নির্ভর করে জনগণের সমর্থনের ওপর। জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কোনো সংগঠনকে দমন-পীড়ন, নিষেধাজ্ঞা বা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। বরং এসব পদক্ষেপ সমাজে অস্থিরতা, বিভাজন এবং অনাস্থা সৃষ্টি করে।
নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের ইতিহাস তুলে ধরে উল্লেখ করেন, দলটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রায় একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের আমলে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ অধ্যাদেশের আওতায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফার মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন দেয়।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করলেও, সেই দমন-পীড়ন বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক হামলা ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েও দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাসকে নিষিদ্ধ করা যায় না—বাংলাদেশের শেকড়ের বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্তের জবাব দেবে জনগণ বলে উল্লেখ করে
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা গণমানুষের সংগঠন। এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে যার স্থান—কোনো কাগুজে আইনে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের নাম, মানচিত্র, স্বাধীনতা, সংবিধান—এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এগুলো এক দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের ফল, যেখানে নেতৃত্ব, ত্যাগ আর সংগ্রাম মিলেই রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে বলে অভিমত ব্যাক্ত করে বিবৃতিতে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের ধারাবাহিকতায় সব বাধা অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে তারা গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র নির্বাচন: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে লেবার পার্টির ২৫ প্রতিশ্রুতি
প্রকাশিত :
০৯:৫১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৩:০২, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
জনমত রিপোর্ট: টাওয়ার হ্যামলেটসে আসন্ন মেয়র ও কাউন্সিলার নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। আগামী ৭মে টাওয়ার হ্যামলেটস সহ লন্ডনের ৩২টি বারা কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাঁচটি বারায় নিবার্হী মেয়র নির্বাচিত হবেন এবং সকল কাউন্সিলে মোট ১৮১৭ জন কাউন্সিলার নির্বাচিত হবেন। ক্রয়ডন, হ্যাকনি, লুইশাম, নিউহ্যাম ও টাওয়ার হ্যামলেটসে হবে নির্বাহী মেয়র নির্বাচন। শুধুমাত্র বাঙ্গালী অধ্যুষিত বারা টাওয়ার হ্যামলেটসে ৪৫জন কাউন্সিলার নির্বাচিত করা হবে। এখানে লেবার পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন কাউন্সিলার সিরাজুল ইসলাম। তিনি লেবারের সাবেক নির্বাহী মেয়র জন বিগসের সময়ে ডেপুটি মেয়র এবং দুই যুগের বেশি সময় ধরে কাউন্সিলার হিসাবেও টাওয়ার হ্যামলেটসে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস পরিচালনায় সকল ক্ষেত্রে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করণের মাধ্যমে একটি জবাবদিহীতামুলক প্রশাসন গঠনের ২৫টি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই স্ক্রুটিনি করা হবে এবং মেধার ভিত্তিতেই যেকোন চুক্তি করা হবে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে আমি জনসাধারণদের আমাকে বিশ্বাস করার কথা বলবোনা, তাদের বলবো আমাকে জবাবদিহীতার সম্মুখীন করতে। এই বারায় একক কমিউনিটি হিসাবে সবাইকে সেবা দান করবো। বিভক্তি নয়, কে কোথাকার, কোন কমিউনিটির মানুষ এসব বিবেচ্য না করে সবাইকে ঐকবদ্ধ করার চেষ্টা করবো। তিনি লেবার দলীয় ম্যানিফোষ্টো বা ইশতেহারকে 'ন্যায্য টাওয়ার হ্যামলেটস' আখ্যা দিয়ে বলেন এটি ঘরে ঘরে মানুষের দোরগোড়ায় তাদের সাথে কথা বলে, তাদের উদ্বেগের কথা শোনেই তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই ২৫টি অঙ্গীকারের কথা এই ইশতেহারে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বক্তব্য রাখছেন মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম
স্পিটালফিল্ডসের একটি হলে ইশতেহার ঘোষনার অনুষ্ঠানে লেবার দলীয় সকল কাউন্সিলার প্রাথীর্রা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক দলীয় সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রুশানারা আলী এমপি ও ডন বাটলার এমপি। টাওয়ার হ্যামলেটসের লেবার পার্টির কাউন্সিলার মার্ক ফ্রান্সিস স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এরপর বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলার প্রর্থী ভিক্টোরিয়া লুপটন, কাউন্সিলার আব্দাল উল্লাহ, কাউন্সিলার আসমা ইসলাম, কাউন্সিলার ডেভিড এডগার, কাউন্সিলার আমিনা আলী, রুশনারা আলী এমপি ও ডন বাটলার এমপি। সিরাজুল ইসলাম
রুশনারা আলী মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ভুয়সি প্রশংসা করে বলেন তিনি একজন সত, একনিষ্ট, কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তিত্ব যিনি কমিউনিটির সেবায় তার জীবন নিবেদিত করেছেন।তিনি সবসময় কমিউনিটিকে প্রাধান্য দেন। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব যার দক্ষতা, সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে মেয়র হিসাবে আমাদের কাউন্সিলকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার। রুশনারা আলী উল্লেখ করেন ২০১০ সালে লেবার পার্টির হাত থেকে কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্ব চলে যাওয়ায় অব্যবস্থাপনার জন্য সরকার টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রশাসনে কমিশনার বসায়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আবার ঘটেছে অব্যবস্থাপনার জন্য। সরকার এনভয় নিয়োগ করেছে কাউন্সিল পরিচালনার জন্য যার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগনের ও ভোটারদের, ব্যয় হচ্ছে পাবলিক ফান্ড। কাউন্সিলের সেবার অবনতি ঘটেছে। কাউন্সিলের মেরামত সেবা, রক্ষণাবেক্ষণ, এমন এক পযার্য়ে পৌছেছে এমপিদের কেইসলোড বেড়ে গেছে। অথচ এটি এমপিদের দায়িত্ব নয়, মানুষ অসহায় হয়ে আমাদের কাছে আসছেন। এটি কাউন্সিলের দায়িত্ব। আমাদের যদি ভাল সেবা পেতে হয় তাহলে আমাদের ভাল কাউন্সিলার ও কঠোর পরিশ্রমি মেয়র চাই এবং এই মেয়রই হবেন সিরাজুল ইসলাম। লেবার দলীয় সরকার বারায় যে বিনিয়োগ করছে, লেবার দলীয় মেয়র নির্বাচিত হলে এগুলো কাজে লাগানোর জন্য প্রজন্মের এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ উল্লেখ করেন তিনি। রুশনারা আলী এমপি
ডন বাটলার এমপি ম্যানিফেষ্টোর প্রশংসা করে বলেন, এর বার্তা ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া জরুরী।এজন্যে সকলকে জানানো প্রয়োজন এতে কি আছে, আপনারা কিভাবে তাদের সাহায্য করবেন এসব ভোটারদের জানা জরুরী।
টাওয়ার হ্যামলেটসে লেবার পার্টির নির্বাচনি ইশতেহারের ২৫ প্রতিশ্রুতি
সততা এবং ন্যায্য আর্থিক ব্যবস্থাপনা:
১. যথাযথ শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করন। 'বেস্ট ভ্যালু' পরিদর্শনে উদ্ঘাটিত ব্যর্থতাগুলো সংশোধন করন এবং স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতির অবসান ঘটান। জনগণের অর্থ বিচক্ষণতার সাথে ব্যয় করা হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে চুক্তি প্রদান করা হবে।
২. কাউন্সিল ট্যাক্স গ্যারান্টি। প্রথম দুই বছরের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্সের সাধারণ অংশ স্থির রাখা, শুধুমাত্র সবচেয়ে দুর্বল বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ২% প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক যত্ন কর (অ্যাডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার প্রিসেপ্ট) প্রয়োগ করন।
৩. ন্যায্য ভাড়া। কাউন্সিল ভাড়ার বৃদ্ধি বছরে ২.৫%-এ সীমাবদ্ধ করুন এবং 'লন্ডন লিভিং রেন্ট'-এর অধীনে থাকা ভাড়াটেদের জন্য ভাড়া স্থির রাখা।
৪. অংশগ্রহণমূলক বাজেট ব্যবস্থা। আটটি স্থানীয় এলাকার প্রতিটির জন্য ২,৫০,০০০ পাউন্ডের একটি তহবিল পুনরায় চালু করে বাসিন্দাদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া, যাতে এলাকাগুলোই সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে।
ডন বাটলার এমপি
উন্নতমানের আবাসন এবং স্থানীয় অগ্রাধিকার:
৫.সামাজিক আবাসন ৫০০০। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫,০০০ সামাজিক আবাসন নির্মাণ বা পুনঃক্রয় করার জন্য সরকারের সাথে কাজ করা, যার মাধ্যমে ১০,০০০ গৃহহীন এবং অতিরিক্ত ভিড়ে বসবাসকারী পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। অন্যান্য মেয়াদের অধীনে নতুন বাড়ি সরবরাহের পাশাপাশি, যেসকল কাউন্সিল ভাড়াটে বাড়ির মালিকানায় চলে যাবেন, তাদের জন্য নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
৬. স্থানীয় ভাড়া প্রদান এবং শিক্ষার নিশ্চয়তা। সমস্ত নতুন কাউন্সিল প্রকল্পে ২৫% স্থানীয় ভাড়ার কোটা প্রয়োগ করা, যাতে পরিবারগুলো তাদের স্কুলের কাছাকাছি থাকতে পারে এবং শিক্ষাগত ব্যাঘাত এড়াতে পারে।
৭. কাউন্সিল আবাসনের আধুনিকীকরণ। পুরোনো রান্নাঘর ও বাথরুম প্রতিস্থাপন এবং বাড়িগুলোকে শক্তি-সাশ্রয়ী করে বিল কমানোর জন্য অতিরিক্ত তহবিল বিনিয়োগ করা।
৮. ব্যর্থ ব্যবস্থাপনার সংশোধন। ভাড়াটে এবং ইজারাদারদের জন্য মেরামত ও পরিসেবার মান উন্নত করতে হাউজিং ডিরেক্টরেটের উপর কঠোর জনসমীক্ষা পুনঃস্থাপন করা।
৯. বাড়ির মালিকানাকে শক্তিশালী করা। একটি কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট মডেল চালু করুন এবং কাউন্সিল ভাড়াটেদের খোলা বাজার থেকে বাড়ি কিনতে সাহায্য করার জন্য নগদ প্রণোদনা প্রকল্পটি পুনর্বহাল করন।
১০. হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের জবাবদিহিতা। ব্যর্থ হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছ থেকে কঠোর কর্মপরিকল্পনা দাবি করন এবং পরিসেবার মান পুনরুদ্ধার না হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করন।বক্তব্য রাখছেন মার্ক ফ্রান্সিস
প্রতিটি শিশুর জন্য একটি বিশ্বমানের সূচনা:
১১. টিউশন ফি-এর নিশ্চয়তা। কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ পরিসেবা রক্ষা করা এবং পুরো বারা জুড়ে ৫ বছর বয়স থেকে জিসিএসই (GCSE) স্তর পর্যন্ত গণিত ও ইংরেজি টিউশন অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এর সম্প্রসারণ করা।
১২. সার্বজনীন বিনামূল্যে স্কুল খাবার এবং ইএমএ (EMA)। সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল খাবার বজায় রাখা এবং এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাউন্স ও কাউন্সিলের বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করা।
১৩. বিদ্যালয়গুলোর একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবার। জিসিএসই (GCSE) এবং এ লেভেল (A Level) এর ফলাফল উন্নত করার লক্ষ্যে পুরো বারা জুড়ে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোকে পুনরায় একত্রিত করা এবং স্কুল-পরবর্তী সহায়তায় বিনিয়োগ করা।
১৪. প্রারম্ভিক শৈশব ও যুব পরিসেবা। চিলড্রেন'স সেন্টারগুলোতে সহায়তা সম্প্রসারণ করা এবং যুব পরিসেবাগুলো যাতে মেয়ে ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুসহ সকলের জন্য উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় তা নিশ্চিত করা।বক্তব্য রাখছেন কাউন্সিলার আব্দাল উল্লাহ
একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজতর বারা:
১৫. নিরাপত্তা এলাকা। পাড়াভিত্তিক পুলিশ দল সম্প্রসারণ করন, পায়ে হেঁটে টহল ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করন এবং আবাসিক এলাকাগুলোতে সিসিটিভি কাভারেজের জন্য ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করুন।
১৬. আমাদের আকাশসীমা রক্ষা করা। উঁচু ভবন নির্মাণের অনুমতিমূলক নীতি বাতিল করার জন্য অ্যাস্পায়ার লোকাল প্ল্যান প্রত্যাহার করন এবং আরও বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করন।
১৭. সবুজায়ন ও বৃক্ষ। পুরো বারা জুড়ে আরও গাছ লাগানো অব্যাহত রাখা, যেখানে গাছগুলো কোথায় লাগানো হবে সে বিষয়ে বাসিন্দাদের সরাসরি মতামত থাকবে, এবং সুস্থ জীবন, খাদ্য উৎপাদন ও শক্তিশালী সম্প্রদায়কে সমর্থন করার জন্য আরও কমিউনিটি গার্ডেন চালু করন।
২০১৯ সালে প্রাথমিকভাবে সম্মত হওয়া অনুযায়ী ৯৯ বছরের নামমাত্র ইজারার মাধ্যমে মাডচুট ফার্মকে রক্ষা করা।
১৮. চক্রাকার অর্থনীতি এবং পুনর্ব্যবহার। বাদ পড়া সংগ্রহগুলো সংশোধন করন এবং পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগগুলো ফিরিয়ে এনে চক্রাকার অর্থনীতিকে উৎসাহিত করন, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৩৩% পুনর্ব্যবহার করা।
১৯. শিশু ও পথচারীদের সুরক্ষা। স্কুল সড়ক সম্প্রসারণ বারার প্রতিটি স্কুলে সড়কপথ নিয়ে যাওয়া এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা লন্ডনের গড়ের নিচে নামিয়ে আনার জন্য কাজ করা।
২০. আবাসিকদের জন্য পার্কিং এবং স্বাস্থ্যকর সড়কের পক্ষে। অ্যাসপায়ারের পার্কিং মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করা, অকার্যকর পারমিট ব্যবস্থাটি ঠিক করা এবং গাড়ির উপর নির্ভরশীল বাসিন্দাদের সহায়তা করা। পারমিটের জন্য আবেদন এবং নবায়ন সহজ ও সহজলভ্য করা।
গাড়িমুক্ত বাড়িতে স্থানান্তরিত হওয়া পরিবারগুলির জন্য এক মাসের গ্রেস পিরিয়ড চালু করা, কাউন্সিল এস্টেট সহ বারা জুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জিংয়ের একটি কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করা এবং স্বাস্থ্যকর সড়কের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটসকে লন্ডনের শীর্ষ পাঁচটি বারার তালিকায় পুনরুদ্ধার করা।স্মৃতি আজাদ
একটি সহানুভূতিশীল ও প্রাণবন্ত সম্প্রদায়:
২১. সেবায় মর্যাদা। বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে হোমকেয়ার (গৃহসেবা) চালু রাখা এবং ডে-কেয়ার (দিবাসেবা) পরিসেবার জন্য চার্জ বাতিল করা।
২২. একটি ১৫ বছর মেয়াদী দারিদ্র্যবিরোধী পরিকল্পনা। বঞ্চনার মূল কারণগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি দীর্ঘমেয়াদী, ১৫ বছর মেয়াদী দারিদ্র্যবিরোধী কর্মপরিকল্পনা চালু করা, যেখানে কর্মসংস্থান, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষানবিশির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
২৩. নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তা। কাউন্সিলের কেন্দ্রবিন্দুতে নারীর নিরাপত্তা, ক্ষমতায়ন এবং সমতাকে স্থাপন করা। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী কমিশন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, গার্হস্থ্য নির্যাতন এবং নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক পরিসেবাগুলিকে শক্তিশালী করা, এবং মূল বাজেটে টেকসই তহবিল অন্তর্ভুক্ত করে কাউন্সিলের সমস্ত পরিদপ্তরে এই প্রতিশ্রুতিকে প্রতিষ্ঠা করা।
২৪. আমাদের বৈচিত্র্যের উদযাপন। ভিক্টোরিয়া পার্কের আতশবাজি, বৈশাখী মেলা এবং ব্রিক লেন কারি ফেস্টিভ্যাল পুনরুদ্ধার করা, পাশাপাশি পুরো বারা জুড়ে বড়দিন এবং ঈদ উদযাপন করা। টাওয়ার হ্যামলেটস মিনি অলিম্পিক, মিনি প্যারাঅলিম্পিক এবং মিনি বিশ্বকাপের মতো অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুষ্ঠানগুলিকে সমর্থন করা।
২৫. একজন জবাবদিহিমূলক মেয়র। কাউন্সিলার সিরাজুল ইসলাম এবং লেবার দলের কাউন্সিলাররা নিয়মিত পরামর্শ সভা করবেন এবং সিরাজুল পুরো বারা জুড়ে প্রতি তিন মাস অন্তর 'মেয়রকে জিজ্ঞাসা করন' অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।
কাউন্সিলার আসমা ইসলাম
টাওয়ার হ্যামলেটসে ৯জন মেয়র প্রার্থী
উল্লেখ্য যে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে নির্বাহী মেয়র নির্বাচনে আগামী ৭ মে বিভিন্ন দল থেকে ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।