img

কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, ভাঙচুর-আগুন

প্রকাশিত :  ১৯:১৮, ১১ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, ভাঙচুর-আগুন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে একটি দরবার বা আস্তানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ওই দরবারের কথিত প্রধান পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসময় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন।

কোনআন শরীফ অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কথিত পীর শামিমকে একটি অনুষ্ঠানে কোরআন শরীফ সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাকে শোনা যায়, ‘কোরআন যে, তৈরি করেছে সেও মূর্খ, যারা পড়ে তারাও মূর্খ।’

পরে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার এক পর্যায়ে ওই পীরের আস্তানায় হামলার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা ওই দরবারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় হামলাকারীরা পীর শামিমসহ তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত জুবায়ের (৩২), জামিরুন্নেছা (৪০) ও খোকনকে (৪৫) পিটিয়ে আহত করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করে এবং বাকি ৩ জনকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের আলী মাস্টারের ছেলে। এর আগে ২০২১ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, নিহত পীরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। 

img

‘বাচ্চা কান্দে ক্যান’ বলে মুখ চেপে ধরে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১২:২৯, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

\'এতো ভোরে তোর বাচ্চা কাঁন্দে ক্যান। কান্না থামা, নাইলে মাইরা ফালামু\'- এমন কথা বলে তিন মাসের শিশুর মুখ চেপে ধরে মায়ের সামনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎবাবার বিরুদ্ধে।

আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকার দারুস সালাম থানার বর্ধনবাড়ী এলাকায় একটি বাসায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

শিশুটির মা রাজিয়া খাতুন দারুস সালাম থানায় স্বামী অপূর্বর (২২) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবারই তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন তাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজিয়া খাতুনের প্রথম স্বামীর ঘরে দুই সন্তান। বড় মেয়ে তার সাভারে নানীর কাছে থেকে। সপ্তাহখানেক আগে তিন মাসের ছেলেকে কোলে নিয়ে অপূর্বের সঙ্গে রাজিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। অবশ্য অপূর্বর এটি প্রথম বিয়ে। তারা বর্ধনবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। অপূর্ব মাদকাসক্ত এবং এলাকায় খুচরা মাদক বিক্রি করেন।

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাকারিয়া সমকালকে বলেন, শুক্রবার ভোরে শিশুটি বিছানায় মায়ের পাশে কান্নাকাটি করছিল। এ সময় ঘুম থেকে জেগে উঠে অপূর্ব স্ত্রীকে শিশুর কান্না থামাতে বলে। কান্না না থামালে শিশুকে মেরে ফেলার বলে হুমকি দেন। শিশুটির কান্না থামছিল না। এ সময় অপূর্ব হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে। একপর্যায়ে দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

ওসি জাকারিয়া আরও বলেন, শিশুটির মা রাজিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অপূর্বকে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।