img

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং এর দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, অ্যালেক্স গ্যাং প্রধান অ্যালেক্স ইমন নিহত

প্রকাশিত :  ২০:১৯, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং এর দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, অ্যালেক্স গ্যাং প্রধান অ্যালেক্স ইমন নিহত

জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক সৈয়দ আমানউল্লাহ: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন গ্রুপ’-এর দলনেতা মো. ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমন নিহত হয়েছেন।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারের বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইমন রায়েরবাজার এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং লিডার ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জুয়েল রানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরের ‘অ্যালেক্স ইমন’ ও ‘আরমান শাহরুখ’ গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরেই রোববার বিকেলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মো. সাইফ, তুহিন ও রাব্বি কাজী নামে তিন যুবককে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, একটি কাটার ও একটি স্টিলের পাত উদ্ধার করা হয়েছে, যা সংঘর্ষে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষ ঘটে থাকে। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই ও কুপিয়ে জখমের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

img

‘বাচ্চা কান্দে ক্যান’ বলে মুখ চেপে ধরে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১২:২৯, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

\'এতো ভোরে তোর বাচ্চা কাঁন্দে ক্যান। কান্না থামা, নাইলে মাইরা ফালামু\'- এমন কথা বলে তিন মাসের শিশুর মুখ চেপে ধরে মায়ের সামনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎবাবার বিরুদ্ধে।

আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকার দারুস সালাম থানার বর্ধনবাড়ী এলাকায় একটি বাসায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

শিশুটির মা রাজিয়া খাতুন দারুস সালাম থানায় স্বামী অপূর্বর (২২) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবারই তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন তাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজিয়া খাতুনের প্রথম স্বামীর ঘরে দুই সন্তান। বড় মেয়ে তার সাভারে নানীর কাছে থেকে। সপ্তাহখানেক আগে তিন মাসের ছেলেকে কোলে নিয়ে অপূর্বের সঙ্গে রাজিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। অবশ্য অপূর্বর এটি প্রথম বিয়ে। তারা বর্ধনবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। অপূর্ব মাদকাসক্ত এবং এলাকায় খুচরা মাদক বিক্রি করেন।

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাকারিয়া সমকালকে বলেন, শুক্রবার ভোরে শিশুটি বিছানায় মায়ের পাশে কান্নাকাটি করছিল। এ সময় ঘুম থেকে জেগে উঠে অপূর্ব স্ত্রীকে শিশুর কান্না থামাতে বলে। কান্না না থামালে শিশুকে মেরে ফেলার বলে হুমকি দেন। শিশুটির কান্না থামছিল না। এ সময় অপূর্ব হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে। একপর্যায়ে দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

ওসি জাকারিয়া আরও বলেন, শিশুটির মা রাজিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অপূর্বকে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।