img

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে আবেদন

প্রকাশিত :  ০৯:১২, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ  শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে আবেদন

অবৈধভাবে ২৮৬ জন সাব-রেজিস্ট্রার বদলির মাধ্যমে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুদকের কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এ আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে ‘৮ মাসে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে ঘুষ লেনদেন শতকোটি’ শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনের প্রথম অংশে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ছয়-সাত মাসের মধ্যে তিন-চার বার বদলি করা হয়েছে। আট মাসে (অক্টোবর-২৪ থেকে এপ্রিল-২৫ পর্যন্ত) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের অফিসে বদলির আদেশ পেয়েছেন তারা। অতীতে কখনো মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি।

বদলির নীতিমালা অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের অফিসে অনুরূপভাবে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আট মাসে এই নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি। 

বদলির বিধান অনুযায়ী, ‘এ’ গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারকে ‘এ’ গ্রেডের অফিসে এবং ‘সি’ গ্রেডের কর্মকর্তাকে ‘সি’ গ্রেডের অফিসে বদলি করতে হয়। তবে আট মাসের ওই সময়কালে ঘুষের বিনিময়ে ‘সি’ ও ‘বি’ গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের অনেককেই পোস্টিং দেওয়া হয়েছে উচ্চতর গ্রেডের কার্যালয়ে। এ ক্ষেত্রে ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় ‘এ’ গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের ‘শাস্তিমূলকভাবে’ ‘বি’ বা ‘সি’ গ্রেডের অফিসে বদলি করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তাদের অনেককেই বারবার বদলির মুখে পড়তে হয়েছে। কাউকে কাউকে যোগদানের আগের দিন পুনরায় অন্য অফিসে বদলির নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বদলি-বাণিজ্যের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, গত বছরের ১ জুন খোদ আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলার রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নে কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কোনো অসাধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক কোনো ধরনের প্রলোভন, প্রস্তাব বা প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো। কিন্তু এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই শত শত সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষের লেনদেন হয়েছে। এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আর কোনো বদলির আদেশ হয়নি।

img

এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন রিফাত-হাসিবসহ আরো যারা

প্রকাশিত :  ০৮:০৯, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

\r\n

গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে দুই পক্ষের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ রবিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন দলে রিফাত রশিদকে ‘জাতীয় যুবশক্তি’র মুখ্য সংগঠকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম যোগ দিচ্ছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায়। কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইটসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা।

শুধু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই নয়, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সংগঠন ‘আপ বাংলাদেশ’-এর একদল নেতাও এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, মুখ্য সমন্বয়কারী রাফে সালামান রিফাত এবং মুখপাত্র শাহরীন সুলতানা ইরাসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সংগঠক।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি বড় অংশ সরাসরি মূল ধারার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ এর আরও খবর