img

হাউজ অব লর্ডসে মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান, ইতিহাস সংরক্ষণ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় জোর দাবি

প্রকাশিত :  ০৬:০০, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হাউজ অব লর্ডসে মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান, ইতিহাস সংরক্ষণ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় জোর দাবি

১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্প‌তিবার প্রবাসে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং একটি সমন্বিত আর্কাইভ গঠনের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা।

তাঁরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রামাণ্য নথিভুক্তি না হলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও ঐতিহাসিক স্থাপনার নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। রাজনৈতিক কারণে যেন এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস না হয়, সে জন্য শক্তিশালী আইনি সুরক্ষার দাবিও জানান বক্তারা।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসের একটি কমিটি রুমে আয়োজিত এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে এসব বক্তব্য উঠে আসে। লর্ড রামী রেঞ্জারের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবীর ওসমানী গবেষণা ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান এম. এ. মালেক খান।

নর্থ্যাম্পটন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস চেম্বার (NBBBC) এবং বেঙ্গল সেন্টার ইউকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পলিটিকা নিউজের প্রধান সম্পাদক তানভীর আহমেদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনবিবিসির চেয়ারম্যান ও নর্থ্যাম্পটন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর নাজ ইসলাম।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বিবিসি বাংলা বিভাগের সাবেক সম্পাদক সাবির মুস্তাফা, ডা. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, এনবিবিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান টিপু রহমান, নর্থ্যাম্পটন বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম. এ. রউফ, থার্ড সেক্টর কনসালট্যান্ট বিধান গোস্বামী, পলিসি গভ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার সঞ্জয় রায়, গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্সের চেয়ারম্যান ডা. হাবিবে মিল্লাত, এস্পায়ার পার্টির চেয়ারম্যান কে. এম. আবু তাহের চৌধুরী, হৃদমিক কেয়ারের পরিচালক রুহুল আমীন, সিলেট হার্ট ফাউন্ডেশনের মিসবাহ জামাল এবং মঞ্জুর আহমেদসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন সলিসিটর প্রিন্স সাদিক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মোহাম্মদ আব্দুর রহমান ও হিমাংশু গোস্বামী-কে এবং প্রবাস থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে অবদানের জন্য ফেরদৌস রহমান ও হাজী মোহাম্মদ আফতাব আলী-কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য ইউসুফ রাজা চৌধুরী ও মোহাম্মদ আলী-কেও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র “ Birth of a Nation” প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে লর্ড রামী রেঞ্জার ও এম. এ. মালেক খান পরস্পরের মধ্যে স্মারক স্কার্ফ বিনিময় করেন। লর্ড রামী রেঞ্জারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ব্যারিস্টার সঞ্জয় রায় ও মেরাজ হোসেন।

এছাড়া প্রপা রেজওয়ানা আনোয়ারের পরিবেশিত মুক্তিযুদ্ধের গান উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে তোলে।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ওল্ডহ্যাম ল’ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট হয়ে ইতিহাস গড়লেন মোহাম্মদ আলী হুসাইন

প্রকাশিত :  ১৭:১৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬

​ওল্ডহ্যাম, গ্রেটার ম্যানচেস্টার: ওল্ডহ্যাম ল’ অ্যাসোসিয়েশনের ১০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন কনভেয়ান্সিং বিশেষজ্ঞ লিগ্যাল এক্সিকিউটিভ (CILEX) মোহাম্মদ আলী হুসাইন। সম্প্রতি তাঁর সহকর্মীদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন।

​মোহাম্মদ আলী হুসাইনের এই নিয়োগ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার সিঙ্গেরকাছ গ্রামে জন্মগ্রহণকারী জনাব হুসাইন তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাগত উৎকর্ষতার জন্য আইন অঙ্গনে দীর্ঘকাল ধরে প্রশংসিত। ওল্ডহ্যামের আইনি ইতিহাসে তাঁর এই অবস্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমগ্র ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়।

​বর্তমানে পরিবারসহ ওল্ডহ্যামের স্থায়ী বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হুসাইন দীর্ঘ সময় ধরে আইন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর সহকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ওল্ডহ্যাম ল’ অ্যাসোসিয়েশন আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

​অনুভূতি ব্যক্ত করে মোহাম্মদ আলী হুসাইন বলেন, এই দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আমি আমার সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি পেশাগত মান উন্নয়ন এবং আমাদের কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে কাজ করে যেতে চাই।

​এই ঐতিহাসিক অর্জন আগামী প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা থাকলে যেকোনো শীর্ষস্থানে পৌঁছানো সম্ভব।

কমিউনিটি এর আরও খবর