img

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৮:২২, ২২ এপ্রিল ২০২৬

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ (Paypal) চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে আগামী ৫ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান এবং উচ্চপ্রযুক্তিতে কয়েক হাজার তরুণকে প্রশিক্ষিত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বিভিন্ন সংস্থা/দপ্তর তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানাবিধ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক ৫ বছরে ১ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে এবং ৫ বছরে দুই লক্ষ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫শ জন ফ্রিল্যান্সারকে ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে ৮৩টি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে এবং আগামী ১ বছরে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাইটেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে (Paypal) এর কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০টি ব্যাচে প্রায় ১ হাজার জন আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েটদের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। বিসিসির মাধ্যমে ৫ হাজার ২০ জন চাকরিপ্রার্থী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের এআই, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, আকামনা Pzthon প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণসহ ১বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘৪০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ২০ জন নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ওয়াইফাই প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে।’


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার হবে

প্রকাশিত :  ০৬:১১, ২২ এপ্রিল ২০২৬

অনুমতি ছাড়া ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরায়  কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে অনেকেই মোবাইল বা ক্যামেরা হাতে ঘুরে ঘুরে অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রসালো শিরোনামে প্রচার করছেন।

অনেক ক্ষেত্রে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কী ধরনের প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দৃষ্টান্ত রোধে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

জবাবে মন্ত্রী জানান, গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর ধারা ২৫(১) অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচার ও প্রচারের হুমকি প্রদান করা একটি অপরাধ।

এই অপরাধের দণ্ড হিসেবে ধারা ২৫(২) অনুযায়ী অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে দণ্ড বেড়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।

এ ছাড়া ভিডিওর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করলে তা ধারা ২২ অনুযায়ী ‘সাইবার স্পেসে প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য হবে, যার শাস্তি অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আরো জানান, আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখেন। এ ক্ষেত্রে বিটিআরসি-কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা যাবে। এ ছাড়া পরোয়ানা ব্যতিরেকে জরুরি ক্ষেত্রে তল্লাশি ও অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

সাইবার স্পেসে ক্ষতিকর কনটেন্ট রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করতে ‘সিকিউরিটি অর্কেস্ট্রেশন, অটোমেশন অ্যান্ড রেসপন্স (সোয়ার)’ এবং এন্ডপয়েন্ট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (ই-ডি-আর)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর