img

এআই ক্যামেরায় শনাক্তের পর গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর

প্রকাশিত :  ১৪:৩৫, ১৪ জুন ২০২৬

এআই ক্যামেরায় শনাক্তের পর গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের জন্য শেষ পর্যন্ত কাল হলো বিমানবন্দরের আধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নির্ভর ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি। লন্ডন থেকে যাত্রা করে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পরই তার পরিচয় শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা যায়, লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রা করছিলেন বেনজীর আহমেদ। পরিকল্পনা ছিল দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর। তবে দুবাই বিমানবন্দরের এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্ক্যানিং সিস্টেমে তার মুখমণ্ডল শনাক্ত হয় এবং তা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে ইন্টারপোলের সতর্কতা সংকেত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পরে দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় ইউনিট বিষয়টি যাচাই করে তাকে হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণের পরপরই নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ, ইন্টারপোল কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

দুবাই পুলিশের বরাতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি তিনি (বেনজীর) লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পর অন্য যাত্রীর মতোই ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসেন তিনি।

পুলিশের ওই কর্মকর্তার দাবি, বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে। স্ক্যানের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা ইন্টারপোল সতর্কতা সংকেত (নোটিশ) সামনে আসে। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় শাখা বিষয়টি যাচাই করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তাকে আটক করে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রোববার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।

তিনি জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন দাখিল করতে হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে কূটনৈতিক চ্যানেলে আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বেনজীর আহমেদ-এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং পাসপোর্ট আইনের একাধিক ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুদকের মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এক্সট্রাডিশন প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্টারপোলের সহায়তায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য।

তার মতে, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব—এ ঘটনাই তার প্রমাণ।

এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ইন্টারপোল ও দুবাই পুলিশের সমন্বয়ে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানা গেছে।


img

ইরান-ইসরায়েলের গোপন তেল পাইপলাইন, আশার আলো দেখছে সৌদি আরব

প্রকাশিত :  ০৯:১২, ২৯ জুলাই ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরের নৌপথ নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে ইসরায়েল–ইরান সংযোগকারী একটি গোপন পাইপলাইন ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে রিয়াদ বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে ষাটের দশকে তৎকালীন ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর অর্থায়ন ও ইসরায়েলি প্রকৌশলে নির্মিত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইলাত-আশকেলন’ পাইপলাইনটি সৌদি আরবের বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি জাজান ও ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগারে হুথি হামলায় দৈনিক চার লাখ ব্যারেল ক্ষমতার শোধনাগার বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বাব এল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে ইউরোপে তেল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন সৌদি আরব থেকে ইলাত পর্যন্ত ৭০০ কিলোমিটার পাইপলাইনের একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছেন।

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট জয় লেটনি জানান যে ইলাত-আশকেলন পাইপলাইনটি বিপরীতমুখী বা উত্তরমুখী প্রবাহে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম। সৌদি আরবের মোট রপ্তানির তুলনায় এটি কম হলেও বর্তমান সংকটে বিকল্প রুট হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। তবে এই সুবিধা চালুর আগে ইলাত বন্দরের সংস্কার, গভীরতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।

প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হলেও সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাজনৈতিক সমীকরণ। সৌদি আরব শুরু থেকেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার কারণে ভূ-রাজনৈতিক হিসাবনিকাশে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উদ্যোগের সমর্থক হলেও ইরান ও হুথিরা এই ধরনের পদক্ষেপকে কঠোর চোখে দেখবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর