img

ওয়াই-ফাই রাউটারে ইন্টারনেট স্পিড বাড়াবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ১৭:০৯, ২৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৪৫, ২৬ জুন ২০২৬

ওয়াই-ফাই রাউটারে ইন্টারনেট স্পিড বাড়াবেন  যেভাবে

উচ্চগতির ইন্টারনেট বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। অনলাইন মিটিং, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা সাধারণ ব্রাউজিং—সবকিছুর জন্যই একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, চড়া মূল্য চুকিয়ে বেশ ভালো গতির ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ ব্যবহার করার পরেও কাঙ্ক্ষিত স্পিড বা গতি পাওয়া যায় না।

ইন্টারনেট ডাউন বা ধীরগতির এমন বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে কোনো বড় ধরনের খরচ ছাড়াই কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশল অবলম্বন করে ইন্টারনেটের কার্যকারিতা এবং গতি বহুলাংশে বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।

ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান যে কারণটি কাজ করে, তা হলো ওয়াই-ফাই রাউটারটি ঘরের ঠিক কোন জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে। অনেকেই রাউটারকে আলমারি, টিভির পেছন বা মোটা দেয়ালের পাশে রাখেন, যা ওয়াই-ফাই সিগন্যালের পথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সংযোগ দুর্বল হয়ে যায় এবং ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তাই রাউটার এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে চারপাশ খোলা থাকে এবং সিগন্যাল সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রাউটারটি মাসের পর মাস দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা একটানা চালু থাকার কারণে এর অভ্যন্তরীণ প্রসেসর ও মেমোরির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা ডিভাইসটির সার্বিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর রাউটার বন্ধ করে পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুনরায় চালু করলে এর ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতির সমস্যা দূর হয়।

রাউটারের অবস্থানও ইন্টারনেটের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাসার এক কোণে রাউটার স্থাপন করলে দূরের কক্ষগুলোতে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ঘরের কেন্দ্রীয় স্থানে রাউটার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে পুরো বাসায় তুলনামূলকভাবে সমান সিগন্যাল পৌঁছায়।

যদি এসব পদ্ধতিতেও সমস্যার সমাধান না হয়, অন্যান্য উপায়েও ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো সম্ভব। প্রয়োজন হলে রাউটারের রিসেট অপশন ব্যবহার করা যেতে পারে। অধিকাংশ রাউটারে একটি ছোট রিসেট বাটন থাকে, যা চেপে ধরলে ডিভাইসটি ডিফল্ট সেটিংসে ফিরে যায়। এতে অনেক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর হতে পারে। তবে রিসেট করার পর পুনরায় নেটওয়ার্ক সেটআপ করতে হবে।

এ ছাড়া রাউটারের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা উন্নত করতে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করে। পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ধীরগতির ইন্টারনেট মানেই যে নতুন বা আরও ব্যয়বহুল প্যাকেজ নিতে হবে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে রাউটারের সঠিক ব্যবহার, অবস্থান পরিবর্তন, পুনরায় চালু করা, রিসেট করা কিংবা নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে সংযোগের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।


 

বর্জ্য হবে জ্বালানি

img

সিলেটে স্থাপিত হচ্ছে দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট

প্রকাশিত :  ০৬:৫০, ২৪ জুন ২০২৬

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) দেশের প্রথম ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির এই প্ল্যান্টটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে নগরভবন সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই প্রকল্পের অগ্রগতি ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলতে আমরা এই বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপন করতে চাই। এটি বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তরের মাধ্যমে একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি (Circular Economy) গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, বায়োড্রায়িং হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সাধারণত শহরের বর্জ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ জৈব উপাদান এবং প্রচুর পানি থাকে। প্রচলিত ‘ইনসিনেরেশন’ বা বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিতে এই আর্দ্র বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যয়বহুল ও জটিল। বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ ও নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে গৃহস্থালি বর্জ্য, স্যুয়ারেজ স্লাজ ও কৃষিজ বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে ফেলা হয়। ফলে বর্জ্যটি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কার্যকর।বাংলাদেশ সংবাদ

মতবিনিময় সভায় সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো: আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো: আলী আকবর, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ উল্লাহ।

এছাড়া লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হেড অফ জিও সাইকেল লতিফুর রহমান, জেনারেল ম্যানেজার সরকার সোয়েব আহমেদ এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার তামরিন চৌধুরী।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর