img

ভ্যাপসা গরমে এসি কোন মোডে চালাবেন?

প্রকাশিত :  ০৯:২৭, ২৭ জুলাই ২০২৬

ভ্যাপসা গরমে এসি কোন মোডে চালাবেন?

বৃষ্টি নামলেও বর্ষাকালে সব সময় স্বস্তি মেলে না। তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ঘরের ভেতর তৈরি হয় ভ্যাপসা গরম, চটচটে অনুভূতি এবং অস্বস্তিকর পরিবেশ। এমন সময় অনেকেই অভ্যাসবশত এসি কুল (Cool) মোডে চালিয়ে রাখেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার আবহাওয়ায় সব সময় এই মোড সবচেয়ে কার্যকর নয়। বরং সঠিক মোড ব্যবহার করলে ঘরের পরিবেশ আরও আরামদায়ক হয়, পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও কমানো সম্ভব।

বর্ষায় কেন ড্রাই (Dry) মোড ব্যবহার করবেন?

বৃষ্টির মৌসুমে বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণেই শরীরে ঘাম জমে, চটচটে অনুভূতি হয় এবং ঘরে অস্বস্তি তৈরি হয়। এসি\'র ড্রাই (Dry) বা ডিহিউমিডিফাই (Dehumidify) মোড মূলত ঘরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই বর্ষাকালে এই মোড ব্যবহার করলে ঘরের পরিবেশ অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে।

ড্রাই মোড কীভাবে কাজ করে?

ড্রাই মোড চালু থাকলে এসি দীর্ঘ সময় ধরে ঘর ঠান্ডা করার পরিবর্তে বাতাস থেকে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প শোষণ করে বের করে দেয়। ফলে ঘরের আর্দ্রতা কমে যায়, বাতাস তুলনামূলক শুষ্ক হয় এবং ঘাম বা ভ্যাপসা অনুভূতি অনেকটাই দূর হয়। এ ছাড়া এই মোডে কম্প্রেসার তুলনামূলক কম সময় চালু থাকে। ফলে বিদ্যুৎ খরচও কিছুটা কম হতে পারে।

কীভাবে চালু করবেন ড্রাই মোড?

ড্রাই মোড ব্যবহার করতে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করুন—

    এসির রিমোটে থাকা Mode বাটনে চাপ দিন।

    Dry অথবা Dehumidify মোড নির্বাচন করুন।

    তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করুন।

    Fan Speed অটো (Auto) অথবা লো (Low)-তে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

অন্য মোডগুলো কখন ব্যবহার করবেন?

কুল (Cool) মোড

যদি বৃষ্টির মধ্যেও তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে, তাহলে কুল মোড ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এটি সব সময় কাঙ্ক্ষিত আরাম নাও দিতে পারে।

ফ্যান (Fan) মোড

এই মোডে শুধু বাতাস চলাচল করে, ঘর ঠান্ডা হয় না। তবে হালকা বাতাসের প্রয়োজন হলে কিংবা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে।

অটো (Auto) মোড

অনেক আধুনিক এসিতে অটো মোডের সুবিধা রয়েছে। এতে এসি নিজেই ঘরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত মোড নির্বাচন করে। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক।

বর্ষাকালে এসি ব্যবহারে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

    প্রতি ১৫ দিন অন্তর এসির ফিল্টার পরিষ্কার করুন।

    পানি নিষ্কাশনের ড্রেন পাইপ ঠিকভাবে কাজ করছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

    অযথা ২০ বা ২২ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এসি চালানোর বদলে ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বজায় রাখুন।

    রাতে দীর্ঘ সময় এসি চালানোর ক্ষেত্রে টাইমার ব্যবহার করুন।

    বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে কুল মোডের পরিবর্তে ড্রাই মোড ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

ড্রাই মোড ব্যবহারের প্রধান সুবিধা

    ঘরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমায়।

    ঘাম ও চটচটে অনুভূতি দূর করে।

    তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।

    এসির কম্প্রেসারের ওপর চাপ কম পড়ায় যন্ত্রের কার্যক্ষমতা দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

    অতিরিক্ত ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি কম হয়।

পুরোনো এসির ক্ষেত্রে যা করবেন

যদি আপনার এসিটি অনেক দিনের পুরোনো হয়, তাহলে বর্ষা শুরু হওয়ার আগে অন্তত একবার সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া উচিত।

পরিষ্কার ফিল্টার, সচল ড্রেন পাইপ এবং ঠিকভাবে কাজ করা কুলিং সিস্টেম শুধু এসির কর্মক্ষমতাই বাড়ায় না, বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্ষার সময় আরামদায়ক পরিবেশ পেতে শুধু ঘর ঠান্ডা করাই যথেষ্ট নয়; বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবহাওয়ার ধরন বুঝে এসির ড্রাই মোড, কুল মোড কিংবা অটো মোড ব্যবহার করলে একদিকে যেমন ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি মিলবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উপযুক্ত মোড নির্বাচন— এই কয়েকটি অভ্যাসই বর্ষাকালে আপনার এসির ব্যবহারকে আরও কার্যকর, সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক করে তুলবে।


img

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮২৫

প্রকাশিত :  ১০:৩৭, ২৭ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:২২, ২৭ জুলাই ২০২৬

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৮২৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে হাম ও উপসর্গের রোগী ১ হাজার ১০৫ জন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৩০ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮২৫ শিশু মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫ আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৫৫৫।

এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ রোগী। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর