img

স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিষিদ্ধ করল নিউইয়র্ক সিটি

প্রকাশিত :  ০৫:২৫, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০২, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিষিদ্ধ করল নিউইয়র্ক সিটি

শিশুদের শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এক বছরের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই স্কুল বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্তটি সারা দেশেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়বে পাবলিক স্কুলের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীর ওপর। তবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এআই ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ হলেও হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা (যাদের বয়স সাধারণত ১৪ বা তার বেশি) সীমিত কিছু পাইলট প্রোগ্রামে এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং তাদের বছরে দুবার এআই সাক্ষরতা ক্লাস করানো হবে।

বিশেষভাবে মানসিক সহায়তার জন্য ডিজাইন করা কম্প্যানিয়ন চ্যাটবটগুলো সব গ্রেডেই (শ্রেণি) নিষিদ্ধ থাকবে।

এক বিবৃতিতে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ‘প্রযুক্তি শিল্প আমাদের এটা বিশ্বাস করাতে চায় যে, এআই-চালিত প্রারম্ভিক শিক্ষা (আর্লি এডুকেশন) কেবল অনিবার্যই নয়, বরং প্রয়োজনীয়। আমরা বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘শিখতে এবং বেড়ে উঠতে শিশুদের শিক্ষক এবং মানবিক সংযোগের প্রয়োজন। তাদের সহপাঠীদের সাথে দক্ষতা বিকাশ করতে হবে, শিক্ষকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং নিজেদেরই কঠিন সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করতে হবে।’ 

তবে শিক্ষকরা পাঠ পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য এখনও এআই ব্যবহারের অনুমতি পাবেন।

২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ জুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, নির্বাচিত কর্মকর্তা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স তাদের ফলাফল প্রকাশের আগে এই স্থগিতাদেশের প্রভাব মূল্যায়ন করতে মিলিত হবে।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল বুধবার বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি যেন আমাদের শিশুদের এবং তাদের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়িয়ে বরং তাদের সহায়তা করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে।

সূত্র: এএফপি


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৫:৪২, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪৮, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে । এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বর্তমান বাজারদর এবং বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়া বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় নিয়ে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে এ উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হলে সাশ্রয়কৃত অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর, অর্থাৎ ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন বলেও জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্য-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করবে। প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। কোনোভাবেই তা নগদে দেওয়া যাবে না। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে এ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

সৌরভিত্তিক সিস্টেম স্থাপনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এ সংক্রান্ত নীতিগত সহায়তা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করেছে। সেখান থেকে গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আওতাধীন সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে সহায়তা দেওয়া হবে।

জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকেই বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজটি কার্যকর হয়েছে।