img

দুই বছরের মধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৩:৪১, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪৯, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই বছরের মধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে গড়ে ওঠা ‘মব সংস্কৃতি’ কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন দেশে আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নবপ্রতিষ্ঠিত ‘সীমান্ত স্কুল অব সারভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ারের (SSSDW)’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসক্ষম করার লক্ষ্যে বিশেষায়িত এই ড্রোন প্রশিক্ষণ স্কুলের কার্যক্রম শুরু করা হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এসএসএসডিডব্লিউয়ের ফলক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফটোসেশনে অংশ নেন এবং এসএসএসডিডব্লিউয়ের কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট ও চিফ ইন্সট্রাক্টর কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন মন্ত্রীকে নবপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সুবিধাদি ও ড্রোনের আভিযানিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

পরে প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির দক্ষ ও প্রশিক্ষিত পাইলটদের অংশগ্রহণে ড্রোনের অপারেশনাল সক্ষমতার বাস্তব মহড়া প্রদর্শিত হয়। বিজিবি সদস্যরা ড্রোনের নজরদারির মাধ্যমে বিজিবির ‘সিক্সম্যান পেট্রোল টিম’-এর কার্যকর টহল পরিচালনা, চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ড্রোনের সহায়তায় ’চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও আটক, সীমান্তে পুশইন (অবৈধ অনুপ্রবেশ) প্রতিরোধে ড্রোনের রিয়েল-টাইম নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণ, ’অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম’ ব্যবহার করে শত্রুপক্ষ বা অজ্ঞাত ড্রোন প্রতিহত ও নিয়ন্ত্রণ এবং বিজিবিতে সংযোজিত অত্যাধুনিক ‘ম্যাভিক ড্রোন’-এর বর্ণাঢ্য ফ্লাই-পাস্ট মহড়া প্রদর্শন করেন। 

ড্রোন মহড়া পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বা মব তৈরির যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না; সরকার তা কঠোরভাবে দমন করবে।

তিনি আরও জানান, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্তে নজরদারি জোরদারে আগামী দুই বছরে বিশ্বমানের ড্রোন সংযোজনের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এছাড়া সীমান্তে চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে মালখানা ও হাজতখানার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিজিবিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের আওতায় আনা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার, সিলেট অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

একদিনের সরকারি সফরে দুপুরে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজিবির অনুষ্ঠান শেষে বিকালে সিলেট সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সংক্রান্ত এক উচ্চপর‌্যায়ের মতবিনিময় সভায় অংশ নিবেন তিনি।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

‘ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কোনো ভবন বা যন্ত্রপাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়’

প্রকাশিত :  ০৯:২৬, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট ভবন বা যন্ত্রপাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দেশটির অর্জিত জ্ঞান, দৃঢ় সংকল্প ও দক্ষ মানবসম্পদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও ইরানের এই সক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তেহরান। খবর ইরনার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের প্রতিনিধিদল এসব কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের আগ্রাসনে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। পারমাণবিক প্রযুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেশটির প্রবেশাধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা একটি গর্বিত জাতির জ্ঞান, দৃঢ় সংকল্প ও মানবসম্পদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সক্ষমতা কেবল ভবন বা যন্ত্রপাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থাপনায় হামলা চালানো যেতে পারে এবং বিজ্ঞানীদের হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু মানুষের মধ্যে যখন বিজ্ঞান শিকড় গেড়ে বসে, তখন তা টিকে থাকে, বিকশিত হয় এবং এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের বাস্তবতা এটাই কোনো শক্তিই এটি পরিবর্তন করতে পারবে না।

আইএইএর বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদল জানায়, দেশটির পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অর্জিত সাফল্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, সঞ্চিত জ্ঞান, বিশেষায়িত মানবসম্পদ এবং নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ফল। এর মাধ্যমে ইরান একটি পরিণত ও টেকসই বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, যা দেশের প্রয়োজনের বড় একটি অংশ পূরণ করছে।
ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি কৃষি, পরিবেশ সুরক্ষা, ফসলের উন্নয়ন, কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য সংরক্ষণ এবং পানি ও সার ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

চিকিৎসা ও শিল্প খাতেও রেডিওআইসোটোপ উৎপাদন ও ব্যবহার, বিকিরণ প্রয়োগ ও জীবাণুমুক্তকরণ এবং বিকিরণভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইরান সক্ষমতা অর্জন করেছে। এসব কার্যক্রমে বিকিরণ সুরক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পরিমাপ ও শনাক্তকরণ সক্ষমতাও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বৈঠকে ইরান একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বিধিনিষেধেরও সমালোচনা করে। দেশটির প্রতিনিধিদল জানায়, কয়েক দশক ধরে এসব অবৈধ পদক্ষেপ ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত করেছে।
ইরানের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের রাষ্ট্রগুলোর অবিচ্ছেদ্য অধিকারের পরিপন্থি। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতাধীন উন্নত দেশগুলোর শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার উন্নয়নে সহযোগিতার বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও এসব পদক্ষেপ সাংঘর্ষিক।

ইরানি প্রতিনিধিদল আইএইএকে এসব বিধিনিষেধের প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। সংস্থাটির নীতিনির্ধারণী অঙ্গগুলোর উচিত এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ বন্ধের আহ্বান জানানো।

বিবৃতিতে আইএইএর প্রতিবেদনে একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক আগ্রাসনের কারণে ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর পড়া প্রভাবের কোনো উল্লেখ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে তেহরান।
প্রতিবেদনটি সাধারণ সম্মেলনে উপস্থাপনের আগে আইএইএকে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

সূত্র : ইরনা