img

চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৬:১১, ১৭ আগষ্ট ২০২৬

চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফি ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের কথা বলা হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে উপস্থিতির তথ্যের সঙ্গে বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির ব্যবস্থাও সমন্বয় করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে পরিপত্রও জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ভালো কাজের পুরস্কার

হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

ডিজিটাল ফি আদায়

হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন এসব পদক্ষেপের কারণে দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

আয়ের অর্থ হাসপাতালের উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে

হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় যাবে। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করতেও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত এবং আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা হবে। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন যে উদ্যোগ নিল ফেসবুক

প্রকাশিত :  ১৬:৩৭, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ নামের একটি নতুন এবং সম্পূর্ণ আলাদা অ্যাপ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত এই অ্যাপটি ক্রিয়েটরদের ভিডিও বা পোস্টের দর্শক বাড়াতে এবং ভক্তদের সঙ্গে আরও সহজে যোগাযোগ রাখতে সাহায্য করবে। কিছুদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর, আইওএস বা অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

নতুন এই অ্যাপটিতে ফেসবুক তাদের নিজস্ব ‘এআই ক্রিয়েটর অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা সাহায্যকারী যুক্ত করেছে। এটি ক্রিয়েটরের কাজের ধরন, তার লক্ষ্য এবং দর্শকদের পছন্দ বুঝে বিভিন্ন পরামর্শ দেবে। আগে নিজেদের পেজের অবস্থা বা পারফরম্যান্স বুঝতে ক্রিয়েটরদের অনেক জটিল চার্ট ও হিসাব-নিকাশ দেখতে হতো। কিন্তু এখন তারা চাইলেই এআইকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবেন। যেমন- আমার কখন পোস্ট করা উচিত? বা মানুষ আমার পোস্টে কী বলছে? এআই এসব প্রশ্নের খুব দ্রুত ও সহজ উত্তর দিয়ে দেবে।

এই অ্যাপটি আনার পেছনে মেটার মূল উদ্দেশ্য হলো টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে পাল্লা দেওয়া এবং ক্রিয়েটরদের ফেসবুকে ধরে রাখা। পাশাপাশি, কাজের আইডিয়া বা পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের জন্য ক্রিয়েটররা যেন চ্যাটজিপিটির মতো বাইরের কোনো টুলের ওপর নির্ভর না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে চাইছে মেটা।

অ্যাপটির একটি দারুণ ফিচার হলো এর এআই কমেন্ট টুল। এটি পেজের সবচেয়ে জরুরি কমেন্টগুলো খুঁজে বের করবে এবং ক্রিয়েটরের নিজস্ব কথা বলার ধরন অনুযায়ী উত্তরের একটি খসড়া বা ড্রাফট তৈরি করে দেবে। ক্রিয়েটররা চাইলে পোস্ট করার আগে সেই উত্তর নিজের মতো করে পাল্টে নিতে পারবেন।

এছাড়াও, প্রতিদিন অ্যাপটিতে ঢোকার পর ক্রিয়েটররা তাদের দিনের জরুরি কাজগুলোর একটি তালিকা দেখতে পাবেন। সেখানে আগের পোস্টগুলো কেমন চলছে, লক্ষ্যের দিকে কতটা এগোলেন বা কাদের কমেন্টের উত্তর দেওয়া দরকার, সেসব তথ্য সুন্দরভাবে সাজানো থাকবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ক্রিয়েটররা অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারছেন।

মেটা ইদানীং শুধু এই একটি অ্যাপই নয়, আরও বেশ কিছু নতুন অ্যাপ বাজারে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক গ্রুপের জন্য রেডিটের মতো অ্যাপ ‘ফোরাম’, বন্ধুদের সাথে ছবি শেয়ার করার অ্যাপ ‘ইনস্ট্যান্টস’, গেম খেলার অ্যাপ ‘পকেট’ এবং শিশুদের জন্য এআই দিয়ে গল্প বানানোর অ্যাপ ‘স্টোরিকিট’।

সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ।