img

এবার পোলট্রি মাংসে মিলল মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল

প্রকাশিত :  ০৭:৫২, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

এবার পোলট্রি মাংসে মিলল মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (আরভিসি) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় পাওয়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা জনস্বাস্থ্য ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ (Antimicrobial Resistance) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের ব্যবহার এ সমস্যার মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে উল্লেখ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পোলট্রি নিউজের’ খবরে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসাবে ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। নমুনা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড। মাংসের নমুনার একটা অংশ নেওয়া হয় বিক্রয়কেন্দ্র থেকে, বাকিটা নেওয়া হয় ফার্ম থেকে। ফার্ম থেকে নেওয়া মুরগিগুলো বিক্রির উপযোগী ছিল। 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ছিল নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি। কিছু বিক্রয়কেন্দ্রের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নমুনায় নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এই হার ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ। 

গবেষকরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে হার পাওয়া গেছে, তাতে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, আশা করি এ গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হবে। 

প্রসঙ্গত, ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাবের মাধ্যমে এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৬:৪১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষার হলে অন্য শিক্ষার্থীরা যখন প্রশ্নের উত্তর লিখতে ব্যস্ত, তখন এক শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল ফোন দেখতে পান পরিদর্শক। অভিযোগ, গোপনে ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটিতে প্রশ্ন আপলোড করে উত্তর খুঁজছিলেন তিনি। বিষয়টি ধরা পড়ার পর তাকে বিভাগীয় প্রধানের দপ্তরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হোস্টেল কক্ষে ফেরার কিছুক্ষণ পরই তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগকে ঘিরে শুরু হওয়া ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক মর্মান্তিক ঘটনায়।

ভারতের মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) বোম্বের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ হোস্টেল কক্ষে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। পোওয়াই ক্যাম্পাসে গত সাত মাসের মধ্যে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষা চলাকালে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো কোর্স শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান তাকে ডেকে নিয়ে বোঝান এবং অভয় দেন যে এ ঘটনার কারণে তার শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এই আলোচনার পর সাহিল হোস্টেলের রুমে ফিরে যান। পরে সন্ধ্যায় তাকে নিজ কক্ষে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে আইআইটি বোম্বে জানিয়েছে, ‘একজন শিক্ষার্থীর এমন প্রয়াণে পুরো প্রতিষ্ঠান স্তব্ধ। শোকগ্রস্ত সহপাঠী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।’

এদিকে সাহিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তাল হয়ে ওঠে পোওয়াই ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা গভীর রাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রকৃত সত্য আড়াল করছে। তাদের দাবি, অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সাহিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করার মৌখিক হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই শাস্তির ফলে তাকে হোস্টেল ছেড়ে বাইরে থাকতে হতো এবং চার বছরের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় লাগত। সম্ভাব্য এই শাস্তির মানসিক চাপ ও আতঙ্ক থেকেই সাহিল আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে সহপাঠীরা অভিযোগ তুললেও বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজ ক্যাম্পাসে আরেকজন সহপাঠীর লাশ দেখতে হলো। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। চলতি বছরেই এ ধরনের চারটি ঘটনা ঘটল, যার দুটি গত দুই মাসের মধ্যে। একের পর এক কেন এমন ট্র্যাজেডি ঘটছে, তার কোনো সদুত্তর নেই।’

ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দত্তাত্রয় নালওয়াড়ে জানান, ঘটনার সামগ্রিক তদন্ত চলছে। শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি সমাধানে পুলিশ নজরদারি রাখছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আইআইটি বোম্বের এক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হোস্টেলে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে নতুন সেমিস্টার শুরুর সময়েও ২০ বছর বয়সী আরেক বিটেক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল।