img

বাংলা কিউআর লেনদেনে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

প্রকাশিত :  ০৭:২৯, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা কিউআর লেনদেনে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও জনপ্রিয় করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডে করা পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে এ তারিখ থেকে পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে কোনো পেমেন্ট হলে সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) মোবাইল অ্যাপের নির্দিষ্ট স্থানে বাংলা কিউআর পেমেন্টের আইকন দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখের সার্কুলারে বর্ণিত লোগো মোতাবেক আইকন প্রদর্শন করতে হবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাংলা কিউআর স্ক্যানের পাশাপাশি বাংলা কিউআর ইমেজ আপলোডের মাধ্যমেও পেমেন্ট সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

একই সময়সীমার মধ্যে কার্ড হিসাবধারীসহ সব সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবধারীকে মোবাইল অ্যাপ থেকে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সুবিধা চালু করতে হবে। পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর ১৮(২) ধারার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এসব নির্দেশনা জারি করেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

ই-রিকশার নিবন্ধন কিভাবে, কারা পাবেন জেনে নিন

প্রকাশিত :  ০৪:৪৯, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৩৯, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মঙ্গলবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য আবেদন ফরম বিক্রি শুরু করবে সংস্থাটি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও (ডিএনসিসি) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। তবে আবেদন করলেই মিলবে না অনুমোদন। রিকশার কারিগরি মান, নিরাপত্তা ও ফিটনেস যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করে।

ডিএসসিসির নগর ভবন ও সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ১০০ টাকা দিয়ে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। অন্যদিকে ডিএনসিসি ফরম ছাপানোর কাজ করছে। শিগগিরই ফরম বিক্রির তারিখ ঘোষণা করবে সংস্থাটি।

বিধিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। এ সীমা সব সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রযোজ্য। অর্থাৎ একাধিক সিটি করপোরেশনে আবেদন করেও পাঁচটির বেশি রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে না। এক সিটিতে নিবন্ধিত রিকশা অন্য সিটিতে চলতে পারবে না।

নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, দুই কপি ছবি, ফি জমার রসিদ ও ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে। রিকশার কারিগরি মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য যাচাই করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রয়েছে।

পুরোনো রিকশা বাতিল করে নতুন রিকশা কেনার বাধ্যবাধকতা নেই। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন ও ফিটনেস সনদ নিয়ে পুরোনো রিকশাও নিবন্ধনের সুযোগ পাবে।

দুই যাত্রীর রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রীর ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা। বার্ষিক নবায়ন ফি যথাক্রমে চার ও পাঁচ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে এক হাজার টাকা। নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং রিকশার আয়ুষ্কাল ১২ বছর। প্রতিটি নিবন্ধিত রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট থাকবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, ঢাকাকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করা হবে। প্রতিটি অঞ্চলের রিকশার রং হবে আলাদা। এক অঞ্চলের রিকশা অন্য অঞ্চলে চলতে পারবে না। ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। স্কুল, হাসপাতাল ও ব্যস্ত এলাকায় এ সীমা হবে ১৫ কিলোমিটার। মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও নিষিদ্ধ সড়কে চলাচল করতে পারবে না এসব যান।

চার্জিং স্টেশন পরিচালনার জন্যও নিবন্ধন নিতে হবে। থাকতে হবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অনুমোদনহীন ব্যাটারি ব্যবহার ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. এহসানের নেতৃত্বে গবেষক দল ই-রিকশার নতুন নকশা তৈরি করেছে। এতে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক, বিকল্প পার্কিং ব্রেক, পেছনের যান দেখার আয়না, সংকেতবাতি ও স্থায়ী হেডলাইটসহ ১৬টি নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন নকশায় একটি রিকশা তৈরিতে খরচ পড়বে প্রায় দেড় লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাটারির জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। ফলে নিবন্ধন ও কারিগরি মান নিশ্চিত করতে রিকশার মালিকদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হবে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিশৃঙ্খল চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। তবে নিবন্ধনের পাশাপাশি সড়কে নিয়ম মানা এবং বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর