img

পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৬:৪১, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পরীক্ষার হলে অন্য শিক্ষার্থীরা যখন প্রশ্নের উত্তর লিখতে ব্যস্ত, তখন এক শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল ফোন দেখতে পান পরিদর্শক। অভিযোগ, গোপনে ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটিতে প্রশ্ন আপলোড করে উত্তর খুঁজছিলেন তিনি। বিষয়টি ধরা পড়ার পর তাকে বিভাগীয় প্রধানের দপ্তরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হোস্টেল কক্ষে ফেরার কিছুক্ষণ পরই তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগকে ঘিরে শুরু হওয়া ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক মর্মান্তিক ঘটনায়।

ভারতের মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) বোম্বের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ হোস্টেল কক্ষে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। পোওয়াই ক্যাম্পাসে গত সাত মাসের মধ্যে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষা চলাকালে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো কোর্স শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান তাকে ডেকে নিয়ে বোঝান এবং অভয় দেন যে এ ঘটনার কারণে তার শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এই আলোচনার পর সাহিল হোস্টেলের রুমে ফিরে যান। পরে সন্ধ্যায় তাকে নিজ কক্ষে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে আইআইটি বোম্বে জানিয়েছে, ‘একজন শিক্ষার্থীর এমন প্রয়াণে পুরো প্রতিষ্ঠান স্তব্ধ। শোকগ্রস্ত সহপাঠী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।’

এদিকে সাহিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তাল হয়ে ওঠে পোওয়াই ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা গভীর রাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রকৃত সত্য আড়াল করছে। তাদের দাবি, অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সাহিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করার মৌখিক হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই শাস্তির ফলে তাকে হোস্টেল ছেড়ে বাইরে থাকতে হতো এবং চার বছরের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় লাগত। সম্ভাব্য এই শাস্তির মানসিক চাপ ও আতঙ্ক থেকেই সাহিল আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে সহপাঠীরা অভিযোগ তুললেও বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজ ক্যাম্পাসে আরেকজন সহপাঠীর লাশ দেখতে হলো। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। চলতি বছরেই এ ধরনের চারটি ঘটনা ঘটল, যার দুটি গত দুই মাসের মধ্যে। একের পর এক কেন এমন ট্র্যাজেডি ঘটছে, তার কোনো সদুত্তর নেই।’

ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দত্তাত্রয় নালওয়াড়ে জানান, ঘটনার সামগ্রিক তদন্ত চলছে। শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি সমাধানে পুলিশ নজরদারি রাখছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আইআইটি বোম্বের এক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হোস্টেলে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে নতুন সেমিস্টার শুরুর সময়েও ২০ বছর বয়সী আরেক বিটেক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

বাংলা কিউআর লেনদেনে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

প্রকাশিত :  ০৭:২৯, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও জনপ্রিয় করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডে করা পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে এ তারিখ থেকে পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে কোনো পেমেন্ট হলে সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) মোবাইল অ্যাপের নির্দিষ্ট স্থানে বাংলা কিউআর পেমেন্টের আইকন দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখের সার্কুলারে বর্ণিত লোগো মোতাবেক আইকন প্রদর্শন করতে হবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাংলা কিউআর স্ক্যানের পাশাপাশি বাংলা কিউআর ইমেজ আপলোডের মাধ্যমেও পেমেন্ট সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

একই সময়সীমার মধ্যে কার্ড হিসাবধারীসহ সব সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবধারীকে মোবাইল অ্যাপ থেকে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সুবিধা চালু করতে হবে। পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর ১৮(২) ধারার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এসব নির্দেশনা জারি করেছে।