img

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির জন্ম ইতিহাসের নতুন তথ্য দিল নাসার 'হাবল'

প্রকাশিত :  ০৬:৫২, ২০ আগষ্ট ২০২৬

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির জন্ম ইতিহাসের নতুন তথ্য দিল নাসার 'হাবল'

নাসার হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে মিল্কিওয়ের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রমাণ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি ছোট গ্যালাক্সির সঙ্গে মিল্কিওয়ের একীভূত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এটিকে মিল্কিওয়ের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে প্রাচীন গ্যালাক্সি-একীভূত হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

বিজ্ঞানীদের মতে, ওই সময় তরুণ মিল্কিওয়ে এলকেএইচ নামে একটি তুলনামূলক ছোট গ্যালাক্সিকে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নেয়। এর ফলে বিপুলসংখ্যক নক্ষত্র, গ্যাস ও অদৃশ্য পদার্থ মিল্কিওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। নাসা জানিয়েছে, এই আবিষ্কারের ফলে মিল্কিওয়ে কীভাবে গড়ে উঠতে শুরু করেছিল, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা আগের তথ্যের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর পেছনে গেছে। গবেষণাটির বিস্তারিত ফল সোমবার ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমানে মিল্কিওয়ে একটি বিশাল সর্পিল গ্যালাক্সি। এতে শত শত বিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে। তবে শুরুতে এটি এত বড় ছিল না। বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্যাসের মেঘ থেকে নতুন নক্ষত্র তৈরি হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে মিল্কিওয়ে বড় হয়েছে।

পাশাপাশি অন্য ছোট গ্যালাক্সির সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমেও এটি বড় হয়েছে। এসব গ্যালাক্সি থেকে নক্ষত্র, গ্যাস এবং অদৃশ্য পদার্থ মিল্কিওয়ের অংশ হয়ে যায়। নতুন গবেষণায় এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ একীভবনের তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর আগে \'এলকেএইচ\' নামের একটি ছোট গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের সঙ্গে মিশে যায়। তখন মহাবিস্ফোরণের পর মাত্র প্রায় ২ বিলিয়ন বছর পার হয়েছিল।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং ইতালির বোলোনিয়া জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের গবেষক দাভিদে মাসসারি বলেন, মিল্কিওয়ে কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেটি বোঝার জন্য এই ছোট গ্যালাক্সির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, মিল্কিওয়ে যদি মানুষের বাসার মতো হয়, তাহলে এলকেএইচ ছিল সেই বাসা তৈরির প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ ইটগুলোর একটি। মিল্কিওয়ের প্রাচীন ইতিহাস খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন মহাকাশ জরিপের তথ্য ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার গাইয়া অভিযানের তথ্যও রয়েছে। গবেষকেরা মিল্কিওয়ের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ হাজার আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ৩৯টি প্রাচীন গোলাকার নক্ষত্রগুচ্ছ বা গ্লোবুলার ক্লাস্টার বিশ্লেষণ করেন।

গ্লোবুলার ক্লাস্টার হলো একই সময়ের কাছাকাছি তৈরি হওয়া বিপুলসংখ্যক পুরোনো নক্ষত্রের ঘন সমষ্টি। এসব নক্ষত্রগুচ্ছের বয়স ও গঠনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে গ্যালাক্সির অতীত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। গবেষণার সহলেখক এবং ইতালির বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কিয়ারা জেরবিনাতি বলেন, হাবলের উচ্চমানের ছবি ও বিস্তারিত তথ্যের কারণে বিজ্ঞানীরা এসব নক্ষত্রগুচ্ছের বয়স এবং এতে থাকা ধাতুর পরিমাণ খুব নির্ভুলভাবে মাপতে পেরেছেন। এর সঙ্গে গাইয়ার তথ্য মিলিয়ে গবেষকেরা এমন কিছু নক্ষত্রগুচ্ছ শনাক্ত করেন, যেগুলো অন্যগুলোর তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্যের। পরে তারা বুঝতে পারেন, এসব নক্ষত্রগুচ্ছ আসলে এলকেএইচ গ্যালাক্সিতে তৈরি হয়েছিল।

গবেষকেরা নক্ষত্রগুচ্ছগুলোর বয়স এবং এতে থাকা ভারী মৌলের পরিমাণ বা ‘ধাতবতা’ বিশ্লেষণ করে তিনটি আলাদা দল শনাক্ত করেন। প্রথম দলে ছিল মিল্কিওয়ের একেবারে শুরুর সময়ে তৈরি হওয়া নক্ষত্রগুচ্ছ। এগুলো মিল্কিওয়ের নিজস্ব প্রাথমিক গঠনের অংশ। দ্বিতীয় দলে ছিল প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর আগে গাইয়া-সসেজ-এনসেলাডাস নামের একটি গ্যালাক্সির সঙ্গে সংঘর্ষ ও একীভবনের সময় মিল্কিওয়ে যে নক্ষত্রগুচ্ছগুলো নিজের সঙ্গে যুক্ত করেছিল, সেগুলো। তৃতীয় দলটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই নক্ষত্রগুচ্ছগুলো এলকেএইচ গ্যালাক্সিতে তৈরি হয়েছিল। পরে প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর আগে এলকেএইচ মিল্কিওয়ের সঙ্গে মিশে গেলে এসব নক্ষত্রগুচ্ছও মিল্কিওয়ের অংশ হয়ে যায়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, মিল্কিওয়ের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সময় এলকেএইচ গ্যালাক্সিতে থাকা নক্ষত্রগুলোর মোট ভর ছিল প্রায় ৫০ কোটি সূর্যের সমান। সে সময় তরুণ মিল্কিওয়ে বর্তমানের তুলনায় অনেক ছোট ছিল। তাই এলকেএইচের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ঘটনা মিল্কিওয়ের প্রাথমিক গঠনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। এই একীভবনের মাধ্যমে মিল্কিওয়ে বিপুলসংখ্যক নক্ষত্রের পাশাপাশি গ্যাস ও অদৃশ্য পদার্থও পেয়েছিল। ফলে গ্যালাক্সিটির পরবর্তী সময়ে বড় হয়ে ওঠার ভিত্তি আরো শক্ত হয়। গবেষক মাসসারি বলেন, এর আগে কিছু গবেষণায় ধারণা করা হয়েছিল, মিল্কিওয়ের শুরুর দিকের বিবর্তন মূলত এই গ্যালাক্সির ভেতরেই তৈরি হওয়া নক্ষত্র দিয়ে হয়েছে।

তবে নতুন গবেষণা সেই ধারণাকে আরো বিস্তৃত করেছে। গবেষকদের মতে, মিল্কিওয়ের প্রাথমিক ইতিহাস বুঝতে হলে অন্য গ্যালাক্সিতে জন্ম নেওয়া নক্ষত্রগুলোকেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। অর্থাৎ, মিল্কিওয়ে শুধু নিজের ভেতরে নক্ষত্র তৈরি করে বড় হয়নি। অন্য ছোট গ্যালাক্সিকে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়েও এটি ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। নতুন গবেষণায় প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর আগের এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ একীভবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।  

img

২২ আগস্ট থেকে কলেরার টিকা, লক্ষ্য ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ

প্রকাশিত :  ০৭:৪৪, ২০ আগষ্ট ২০২৬

দেশের কলেরাপ্রবণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ আগস্ট থেকে প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সবাই এ টিকা পাবেন; তবে গর্ভবতী নারী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিরা কর্মসূচির বাইরে থাকবেন। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘সর্বজনীন কলেরা প্রতিরোধ টিকাদান কর্মসূচি-২০২৬’-এর উদ্বোধন ও সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফার টিকা এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে।

কর্মসূচির আওতায় ডিএসসিসির লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এলাকায় এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মতো এই কর্মসূচি সফল করতেও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বি-এর জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।