img

আরও ১৬ লাখ হামের টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত :  ০৫:২৯, ১৮ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৪৫, ১৮ আগষ্ট ২০২৬

আরও ১৬ লাখ হামের টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত

দেশের যেসব ছোট ছোট এলাকায় শিশুরা হাম–রুবেলার টিকা থেকে বাদ পড়েছে, সেসব এলাকায় পুনরায় টিকাদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে মজুত থাকা ১৬ লাখ টিকা ব্যবহার করা হবে।

পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। 

সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

আইসিসির সভায় হামে কারা আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, আক্রান্ত রোগীর ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম। ৭৪ শতাংশের বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস। ৫ বছর থেকে ১০ বছর বয়স ১৪ শতাংশের। বাকি ২ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি।

মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকা) ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো ১৬ লাখ টিকা আছে।

সোমবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে গতকাল ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এসব শিশু ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর হামের উপসর্গে ৮১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এ বছর হামে ৯১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের বড় অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। তাদের বড় অংশ কোনো টিকাই পায়নি।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৬:১১, ১৭ আগষ্ট ২০২৬

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফি ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের কথা বলা হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে উপস্থিতির তথ্যের সঙ্গে বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির ব্যবস্থাও সমন্বয় করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে পরিপত্রও জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ভালো কাজের পুরস্কার

হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

ডিজিটাল ফি আদায়

হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন এসব পদক্ষেপের কারণে দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

আয়ের অর্থ হাসপাতালের উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে

হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় যাবে। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করতেও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত এবং আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা হবে।