img

২০৩৬ সালে টাকার দাম থাকবে না, বললেন ইলন মাস্ক

প্রকাশিত :  ০৮:১৭, ২৯ জুলাই ২০২৬

২০৩৬ সালে টাকার দাম থাকবে না, বললেন ইলন মাস্ক

আগামী এক দশকের মধ্যে প্রচলিত অর্থের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। তার মতে, ২০৩৬ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট মানুষের তুলনায় বেশি পরিমাণে পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও সরবরাহ করবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

দ্য ইকোনমিস্টের পডকাস্টে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমটির প্রধান সম্পাদক জেনি মিন্টন বেডোসকে স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা জিজ্ঞেস করেন, ‘টাকা দিয়ে আপনি কী করতে চান? পণ্য বা সেবা কিনতেই তো টাকার দরকার হয়, তাই না?’

পরে মাস্ক নিজেই বলেন, খাবার, বাসস্থান, যাতায়াত কিংবা বিনোদনের জন্য টাকা লাগে। কিন্তু রোবট বা এআই যদি মানুষের তুলনায় বেশি সেবা দিতে পারে তাহলে সেক্ষেত্রে টাকার দরকার কী? মাস্ক মনে করেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআইয়ের কাছে মানুষ নিয়ন্ত্রণ হারাবে। কারণ, এআই ততদিনে মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হবে। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্ল্যাটফর্ম এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক আরও বলেন, দুটি তুলনাকে এখানে বিবেচনায় ধরা যেতে পারে। একদিকে মানুষ বনাম এআই, অন্যদিকে এআই বনাম শিম্পাঞ্জি। মানুষ এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল হবে, অন্যদিকে শিম্পাঞ্জি নিজের বুদ্ধি খাটাবে- সেক্ষেত্রে তো শিম্পাঞ্জিরাই সবকিছুর নেতৃত্বে থাকবে।

মাস্কের মতে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এআই সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। রক্ত-মাংসের ব্যক্তি হওয়া ছাড়া, এআই মানুষের সব কাজই করতে পারবে।

বটরা যখন বস হবে এবং টাকার যখন কোনো দাম থাকবে না, তখন বিকল্প মুদ্রা কী হবে- সে বিষয়ে মাস্ক বিস্তারিত কিছু বলেননি। ইকোনমিস্টের পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের উচিত সবচেয়ে উজ্জ্বল দিকটা দেখা। আমি এআই ও রোবটের অবিশ্বাস্য গতিকে থামানোর কোনো উপায় দেখি না। মাঝে মধ্যে মনে হয়, স্টপ বাটন থাকলেও আমরা সম্ভবত সেটিতে চাপ দিতাম না।’

মাস্কের এক সময়ের বন্ধু থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতে পরিণত হওয়া স্যাম অল্টম্যানও এআইয়ের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন। ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতার মতে, আমরা ইতোমধ্যে ‘সিঙ্গুলারিটি’তে (প্রযুক্তির একক আধিপত্য) আছি। এখানে এআই মডেলগুলো মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান।

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের প্রধান ডেমিস হাসাবিসও প্রযুক্তির একক আধিপত্য নিয়ে সতর্ক করেছেন। আরেক জনপ্রিয় চ্যাটবট ক্লদের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এআই মডেলগুলো আরও উন্নত ডিজাইন তৈরি করতে পারবে। 

নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক গবেষণা ফলাফলের বরাত দিয়ে সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উন্নত মডেলগুলো নিজেরাই অধিকাংশ কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এমনকি সিস্টেমে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো উদ্যোগ শনাক্ত হলে নিজেরাই তা প্রতিহত করতে শিখে গেছে।


img

ইরান-ইসরায়েলের গোপন তেল পাইপলাইন, আশার আলো দেখছে সৌদি আরব

প্রকাশিত :  ০৯:১২, ২৯ জুলাই ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরের নৌপথ নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে ইসরায়েল–ইরান সংযোগকারী একটি গোপন পাইপলাইন ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে রিয়াদ বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে ষাটের দশকে তৎকালীন ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর অর্থায়ন ও ইসরায়েলি প্রকৌশলে নির্মিত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইলাত-আশকেলন’ পাইপলাইনটি সৌদি আরবের বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি জাজান ও ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগারে হুথি হামলায় দৈনিক চার লাখ ব্যারেল ক্ষমতার শোধনাগার বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বাব এল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে ইউরোপে তেল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন সৌদি আরব থেকে ইলাত পর্যন্ত ৭০০ কিলোমিটার পাইপলাইনের একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছেন।

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট জয় লেটনি জানান যে ইলাত-আশকেলন পাইপলাইনটি বিপরীতমুখী বা উত্তরমুখী প্রবাহে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম। সৌদি আরবের মোট রপ্তানির তুলনায় এটি কম হলেও বর্তমান সংকটে বিকল্প রুট হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। তবে এই সুবিধা চালুর আগে ইলাত বন্দরের সংস্কার, গভীরতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।

প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হলেও সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাজনৈতিক সমীকরণ। সৌদি আরব শুরু থেকেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার কারণে ভূ-রাজনৈতিক হিসাবনিকাশে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উদ্যোগের সমর্থক হলেও ইরান ও হুথিরা এই ধরনের পদক্ষেপকে কঠোর চোখে দেখবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর